Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আতঙ্কের নাম এসআইআর, কান্দিতে জন্ম শংসাপত্র পেতে বাসিন্দাদের লাইন

সোমবার কান্দি পুরসভার সামনে ভোর থেকেই কয়েকশো বাসিন্দার লম্বা লাইন। চোখেমুখে আতঙ্ক নিয়ে প্রত্যেকে জন্ম শংসাপত্রের সংশোধনের জন্য অপেক্ষারত।

আতঙ্কের নাম এসআইআর, কান্দিতে জন্ম শংসাপত্র পেতে বাসিন্দাদের লাইন
  • ৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: সোমবার কান্দি পুরসভার সামনে ভোর থেকেই কয়েকশো বাসিন্দার লম্বা লাইন। চোখেমুখে আতঙ্ক নিয়ে প্রত্যেকে জন্ম শংসাপত্রের সংশোধনের জন্য অপেক্ষারত। কান্দি ব্লকের আহিরীনগরের বাসিন্দা শাকিলা বিবি ভোর সাড়ে চারটেয় লাইনে দাঁড়িয়েছেন। ছেলের জন্ম শংসাপত্রে জন্ম তারিখের ভুল সংশোধনে এসেছেন। তাঁর সঙ্গে হালিমা বেওয়া। তিনি মেয়ের জন্মস্থানের নামের সংশোধন করতে চান। পুরন্দরপুর গ্রাম থেকে সকাল আটটায় এসেছেন অসিত দাস। তিনি ছেলের নামের বানান ঠিক করতে চান। বেলা দুটোর সময়ও লাইনের দৈর্ঘ্য কমেনি। হিজল পঞ্চায়েতের নতুনগ্রামের বাসিন্দা আশারুল শেখ ঢকঢক করে জল খেয়ে বললেন, কী ব্যাপার জানি না। তবে কেন্দ্র সরকারের পরিষ্কার ইঙ্গিত, জন্ম সার্টিফিকেটে ভুল থাকা চলবে না। তাই ভোর থেকে কষ্ট করে এখানে লাইনে দাঁড়িয়েছি। তাঁর একটু পিছনে দাঁড়িয়ে চানাচুর মুড়ি চিবোচ্ছিলেন চাঁদনগরের শুকতারা বিবি। বললেন, আগে আধারকার্ড নিয়ে সমস্যায় পড়েছিলাম। এবার জন্ম সার্টিফিকেট নিয়ে একই অবস্থা হয়েছে। সকাল থেকে না খেয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে। কাজ সেরে বাড়ি ফিরতে হয়তো রাত হয়ে যেতে পারে। তাতেও কিছু যায় আসে না। ঝামেলা পুষে রাখতে চাই না।

Advertisement

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অধিকাংশর বক্তব্য প্রায় একই। প্রত্যেকের মধ্যেই একটা ভয় কাজ করছে। কান্দির গোপালনগর গ্রামের বাসিন্দা অমল রাজবংশী বলেন, আমরা বাংলাদেশি তকমা পেতে চাই না। বাড়িতে ছেলের জন্ম সার্টিফিকেট নেই বলে এখানে আসতে হয়েছে। এদিন যাঁরা ওই লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের কারও সন্তান বাড়িতে জন্ম নিয়েছে। কারও সার্টিফিকেট হারিয়ে গিয়েছে। কারও সার্টিফিকেটে কিছু ভুল রয়েছে। লাইনে দাঁড়িয়ে গোকর্ণের তরুণ দত্ত বললেন, ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক। কারণ এসআই‌আর চালু হলে বিপদে পড়তে হবে। কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার বলেন, মানুষকে আতঙ্কের মধ্যে রাখার এটা কেন্দ্রীয় সরকারের আরও একটা চালাকি। মানুষকে ব্যতিব্যস্ত করাই এই সরকারের চেষ্টা। যার জন্যে‌ ভোর থেকে লম্বা লাইন। তবে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী কথা দিয়েছেন, কোনও বৈধ নাগরিককে বাংলাদেশে পাঠান হবে না। কান্দি পুরসভার চেয়ারম্যান জয়দেব ঘটক বলেন, শ’য়ে শ’য়ে মানুষকে এভাবে লাইনে দাঁড়াতে দেখে আমাদের কষ্ট হচ্ছে। তবে পুরসভা পানীয় জল ও শুকনো খাবার দিয়ে যথাসাধ্য মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা চালাচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ