নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এক সপ্তাহেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর পুলিসি নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সোমবার পড়ুয়াদের জন্য খুলে গেল কসবার সাউথ ক্যালকাটা ল’কলেজ। যথা সময়ে অর্থাৎ সকাল ৮টার মধ্যে ক্যাম্পাসে চলে আসেন শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীরা। মোতায়েন ছিল পর্যাপ্ত পুলিস। তবে এদিন কোনও ক্লাস হয়নি। বিএ (এলএলবি) কোর্সের প্রথম বর্ষের ২৬ জন ছাত্রছাত্রী এদিন পরীক্ষার ফর্ম পূরণের জন্য আসেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তাঁদের ফর্ম ফিল আপ হয়। নিরাপত্তারক্ষী বরুণ মাহালিকে আই কার্ড দেখিয়েই ঢুকতে হয়েছে তাঁদের। তবে এখনও কলেজে আতঙ্কের পরিবেশ কাটেনি। পুলিসের গার্ডরেল পেরিয়েই ঢুকতে হয়েছে সবাইকে। ছাত্রীরা অনেকেই অভিভাবকদের সঙ্গে এসেছিসেন। এক ছাত্রীর মা জানান, কলেজে ফর্ম ফিল আপ বা অন্যান্য যে কোনও কাজের জন্য কর্তৃপক্ষের হয়ে কথা বলত ধর্ষণে অভিযুক্ত কর্মী মনোজিৎই। তাই গোটা বিষয়টি নিয়ে তিনি এবং তাঁর মতো অনেক অভিভাবক আতঙ্কিত। তাঁর দাবি, নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে হবে। কলেজ ইউনিয়ন রুম আপাতত বন্ধই রাখা উচিত বলেই মনে করেন তিনি। এই কলেজের ছাত্র সৌম্যদীপ মণ্ডল জানান, ঘটনার পর তাঁর কিছু সহপাঠিনীর সঙ্গে কথা হয়েছিল। তাঁরা জানিয়েছিলেন, তাঁদের বাড়ি থেকে কলেজে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন অভিভাবকরা। কিন্তু পরীক্ষা দিতে তো কলেজে আসতেই হবে। ফলে এক প্রকার বাধ্য হয়েই তাঁরা কলেজে আসছেন। বাড়ি থেকে বারবার ফোন আসছে। আতঙ্ক রয়েছে ছাত্রদের মধ্যেও। শশাঙ্ক ধাড়া নামে এক ছাত্রের বাবা বলেন, ‘পরীক্ষা যে ক’দিন আছে, আমি প্রতিদিন ছেলের সঙ্গে কলেজে আসব বলে ঠিক করেছি।’ কলেজের অধ্যাপক সোমনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন ব্যবস্থা, আই কার্ড দেখিয়ে ঢোকা— এসব আগে থেকেই ছিল। এবার আরও কঠোরভাবে তা মেনে চলা হবে বলে আমাদের আশা।’ কলেজের আশাপাশে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রিতেও নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। নির্বিঘ্নে ক্লাস করার জন্য এবং ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের সুবিধার্থে কলেজের এক কিলোমিটারের মধ্যে সমস্ত মিটিং-মিছিলও বন্ধ থাকা উচিত বলে মত তাঁর।



