Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হস্তশিল্প প্রদর্শনী ও বনবাসী জীবন নিয়ে থিম, সাজছে পাণ্ডুয়ার পুজো

কালীপুজোর বাহারি থিমের সাজে সেজে উঠতে শুরু করেছে হুগলি

হস্তশিল্প প্রদর্শনী ও বনবাসী জীবন নিয়ে থিম, সাজছে পাণ্ডুয়ার পুজো
  • ১২ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: কালীপুজোর বাহারি থিমের সাজে সেজে উঠতে শুরু করেছে হুগলি। রাজপথ থেকে গলি, এদিকে ওদিকে শুরু হয়েছে নির্মাণ কাজের প্রস্তুতি। গোটা পাণ্ডুয়াজুড়ে পুজোকে কেন্দ্র করে ব্যস্ততা তুঙ্গে। ছোট থেকে বড়, কাল্পনিক থেকে বাস্তব ছুঁয়ে থাকা নানা থিমের মৌতাতে মাতোয়ারা জেলার প্রান্তিক জনপদ। কোথাও হস্তশিল্পের নয়নাভিরাম প্রদর্শনী তো কোথাও প্রাচীন জনজীবনকে কেন্দ্র করে থিমের সাজানো বাগান। ধীর লয়ে ভোল বদলাতে শুরু করেছে গ্রামীণ হুগলির পাণ্ডুয়া। জনপদের প্রতি ইঞ্চিতে লেগেছে সেই মায়া।

Advertisement

গত বেশ কিছু বছর ধরে আড়েবহরে, সাজেসজ্জায় চমক জাগানো থিম করছে প্রগতি সঙ্ঘ। পাণ্ডুয়া কেন্দ্রীয় পুজো কমিটির সভাপতি সঞ্জয় ঘোষ পুজোর উদ্যোক্তা। এবার প্রগতি সঙ্ঘের ময়দানে দেখা যাবে, হস্তশিল্পের কলাকৌশল। বিরাট আয়তনের মণ্ডপ, অসমের গামছা শিল্প থেকে বেত ও বাঁশের অভিনব বাহির ও অন্দরসজ্জায় সাজছে। রঙিন সুতো ও কাপড়ের কাজে সেই বাহারকে রাতের আকাশে রংমশাল জ্বেলে দেবে। এমনটাই দাবি উদ্যোক্তাদের। এছাড়া থাকবে বাংলার ডোকরা শিল্পের ছোঁয়াচ। মণ্ডপ হবে একাধিক তলবিশিষ্ট। সামনেই থাকবে বিরাট আয়তনের এক ঘোড়া। বাঁশ ও বেতের সেই কাঠামো অনেকটা ট্রয়ের কাঠের ঘোড়ার আদলে তৈরি হবে। অলঙ্করণে বাঁকুড়ার মৃৎশিল্পের ছাপ। শুরু থেকে শেষ, চাতাল থেকে ছাদ, বুনে দেওয়া হবে হস্তশিল্পের নানান কারুকাজ। মণ্ডপে থাকবে আলোকসজ্জা। পাণ্ডুয়ার অন্যতম বড় পুজোতে থিমের আলোকসজ্জাও থাকছে। ছোটদের জন্য পশুপাখির থিম যেমন থাকবে তেমনই থাকবে অপারেশন সিঁদুরে সেনাবাহিনীর গর্বের কাহিনী। পুজো উদ্যোক্তা সঞ্জয় ঘোষ বলেন, মাটির প্রতিমাতেই আধুনিক ছাঁদ এনে দর্শক চিত্ত মাতিয়ে দেওয়া হবে।
প্রগতি যদি হস্তশিল্পকে ভরকেন্দ্রে রেখে থিম গড়ে থাকে তবে সম্মিলনী ক্লাবের ভরসা পুরনোকে ফিরে দেখা। কালী অন্ত্যজদের দেবী। বনবাসী, তন্ত্রসাধকদের হাতেই আদিশক্তির সংহারক রূপের ভজনা শুরু হয়েছিল। সাবেক সময়ের গুহাবাসী মানুষের বা বনবাসী মানুষের দেবীর যেমন রূপ ছিল, সেটিকেই মণ্ডপে তুলে আনা হচ্ছে। তবে দেবী গুহায় পুজিতা হবেন না। জঙ্গলের মধ্যে খুব সাধারণভাবে তৈরি একটি মণ্ডপের আদল রাখা হচ্ছে। সমস্ত জঙ্গুলে পরিবেশ তৈরি করতে বিশেষ আয়োজন করেছেন উদ্যোক্তারা। পুজো উদ্যোক্তা প্রশান্ত নাথ বলেন, মণ্ডপসজ্জার সঙ্গে মিলিয়ে চন্দননগরের আলোকসজ্জা করা হচ্ছে।
থিম যেমনই হোক, কালীপুজো মানেই পাণ্ডুয়ার আঞ্চলিক উৎসব। প্রস্তুতিকে ঘিরেই প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে জনজীবন। সাজছে মণ্ডপ, নেচে উঠছে গ্রামীণ জনপদের অন্তরমহল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ