অমিত চৌধুরী, তারকেশ্বর: হুগলির জাঙ্গিপাড়ার আঁটপুরে বাবুরাম ঘোষ সহ ৯ সঙ্গীকে নিয়ে বিবেকানন্দ সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিলেন। সেই আঁটপুরের বাবুরাম ঘোষের কাকার বাড়ির দুর্গাপুজো ২৯৪ বছরের পুরনো। ১৭৩২ খ্রিস্টাব্দে পুজোর সূচনা করেছিলেন রামধন ঘোষ। ছোটো ঘোষবাড়ির পুজো নামে এটি পরিচিত। কাঠ, বাঁশ, খড় দিয়ে তৈরি হয়েছিল আটচালা। পরবর্তী সময় আটচালা নষ্ট হয়ে যায়। ১৮৪৮-’৪৯ খ্রিস্টাব্দে কড়িবর্গার পাকা ঠাকুরদালান তৈরি হয়। পুরনো ঠাকুরদালানের দ্বিতলে নিত্যপুজো হয় গৃহদেবতা রাজরাজেশ্বর জিউয়ের (নারায়ণ)। গৌড় থেকে এসে আঁটপুরে বসবাস শুরু করে এই পরিবার।
আঁটপুরের স্বামী প্রেমানন্দ মহারাজ বাবুরাম ঘোষ নামে পরিচিত ছিলেন। ১৮৫৪ সালে বাল্যকালে এক দুর্গাপুজোয় রামকৃষ্ণদেব আঁটপুরে এসেছিলেন। রামকৃষ্ণদেবের শিষ্য বলরাম বসু ছিলেন বাবুরাম ঘোষের ভগ্নীপতি। বলরাম বসুর আঁটপুরের বাড়িতেই রাত কাটিয়েছিলেন রামকৃষ্ণ। স্বামী প্রেমানন্দ মহারাজের মা মাতঙ্গিনীদেবীর আহ্বানে নরেন্দ্রনাথ (বিবেকানন্দ) সহ আরও ৯ গুরুভ্রাতা আঁটপুরে ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরে আসেন। সেখানে ২৪ ডিসেম্বর রাতে তাঁরা ত্যাগের মাধ্যমে রামকৃষ্ণদেবের আদর্শ জগতে ছড়িয়ে দেওয়ার সংকল্প গ্রহণ করে সন্ন্যাসগ্রহণ করেন। ভবিষ্যৎ ভারত তৈরির সূত্রপাত এই আঁটপুরেই হয়েছিল বলে একাধিক পুঁথিতে লেখা।
প্রেমানন্দের বাড়ির পুজো আঁটপুর মঠের পুজো নামে পরিচিত। এর ঠিক পিছনে রয়েছে আঁটপুর ছোট ঘোষ বাড়ির পুজো। পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহযোগিতাতেই পুজো হয়। ছাগবলি বন্ধ প্রায় ১০০ বছর আগে। মহালয়ার পরেরদিন থেকে পুজো শুরু হয়। দেবীকে প্রতিদিন ফলের সঙ্গে কাঁচা মাছ দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্য রামপ্রভাত ঘোষ জানান, জন্মাষ্টমীতে দেবীর কাঠামোতে মাটি দেওয়া হয়। কার্তিক, গণেশ থাকে উপরে। নীচে থাকে লক্ষ্মী ও সরস্বতী। নিয়মনিষ্ঠার সঙ্গে পুজো হয়। বর্তমানে তা চালিয়ে নিয়ে যেতে আর্থিক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
রামকৃষ্ণ, সারদা, বিবেকানন্দের পদস্পর্শে ধন্য আঁটপুর। এই গ্রামের ঐতিহাসিক পুজো ধরে রাখতে আবেদন, সার্বজনীন পুজোগুলির মত ঐতিহ্যবাহী পুরনো পারিবারিক পুজোগুলিকে রাজ্য সরকার আর্থিক সহায়তা করলে পুরনো উদ্যোক্তারা উপকৃত হবে।