সংবাদদাতা, বোলপুর: লাভপুরের হাতিয়ায় ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে দু’জনের মৃত্যু ও তিনজনের আহত হওয়ার ঘটনা নতুন মোড় নিল। বৃহস্পতিবার রাতে বোলপুর মহকুমা হাসপাতাল থেকে মহম্মদ কাইফ নামের এক তরুণকে লাভপুর থানার পুলিস গ্রেপ্তার করে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ১৯ বছরের কাইফ হাতিয়া পঞ্চায়েত সদস্য শেখ আফসারের ছেলে, যিনি বোমার আঘাতে নিজেও জখম হয়েছেন। পুলিসের দাবি বিস্ফোরণের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে চিকিৎসা করাচ্ছিলেন। তাঁর মুখ এবং শরীরে বিস্ফোরণে গুরুতর ক্ষত হয়েছে। এ নিয়ে হাতিয়ার বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। প্রসঙ্গত, নকল সোনার কয়েনের কারবারিদের স্বর্গরাজ্য লাভপুরের হাতিয়া গ্রাম। সেখানে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও বোমাবাজির ঘটনা ঘটে গত ২০ জুন, শুক্রবার। এরপর শনিবার সকালে বোমা বাঁধতে গিয়ে শেখ সাবের আলি (২৩) ও শেখ পিয়ার আলি ওরফে আলমগির (১৮) নামের দুই দুষ্কৃতীর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় পুলিস প্রায় ৬০টি বোমা উদ্ধার করার পাশাপাশি স্বতঃপ্রণোদিত ধারায় মামলা দায়ের করে। তদন্তে নেমে স্থানীয় সাইফুদ্দিন শাহ ও রামপুরহাটের মল্লারপুর থেকে রমজান শেখ নামের এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। এরপর পুলিস সূত্র মারফত খবর পায়, বোমার আঘাতে জখম কাইফ মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে লাভপুর থানা। তবে ধৃতের বাবা, হাতিয়া পঞ্চায়েতের সদস্য শেখ আফসারের দাবি, তাঁর ছেলে এই ঘটনায় জড়িত নয়। তিনি বলেন কাইফ মাঠে গোরু চরাচ্ছিল। তখন দুষ্কৃতীরা বোমা ছোড়ে। সেই বোমার আঘাতেই কাইফ জখম হয়। সে কলেজের পড়ুয়া, কোনও অবৈধ কারবারে যুক্ত নয়। ওকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। যদিও আফসারের যুক্তি খারিজ করে দিয়েছে লাভপুর থানা। পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় কাইফের যুক্ত থাকার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্তকে বোলপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে তিনদিনের পুলিস হেফাজতে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী ফিরোজ পাল। জেলা পুলিস সুপার আমনদীপ সিং বলেন, তিন অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনায় আর কারা যুক্ত তার খোঁজ শুরু হয়েছে। নকল সোনার কয়েনের কারবারিদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না। এই ঘটনায় শাসক দলকে এক হাতে নিয়েছেন বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল। তিনি বলেন, প্রথম থেকেই আমি দাবি করেছি, এই ঘটনায় শাসকদলের কর্মীরা যুক্ত। পঞ্চায়েত সদস্যের ছেলে গ্রেপ্তার হওয়ায় সেই প্রমাণই করছে। বীরভূমের মানুষ রাজনীতি সচেতন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সব জবাব দেবে। এ প্রসঙ্গে লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ বলেন, অভিযুক্তরা কোন দলের, তা না দেখে পুলিসকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছি। প্রশাসন সেভাবেই কাজ করছে।



