সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: বুধবার খড়িবাড়ি ব্লকের বিন্নাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের তলবি সভায় আস্থা ভোটে জয় পেল তৃণমূল কংগ্রেসরই প্রধান বিরোধী গোষ্ঠী। গত ১৮ মার্চ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানকে সরাতে খড়িবাড়ির বিডিও’কে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছিলেন পঞ্চায়েতেরই তৃণমূল কংগ্রেসের আট সদস্য। যা নিয়ে শুরু হয়েছিল বিতর্ক। এরপর এদিন আস্থা ভোটের আয়োজন করে ব্লক প্রশাসন। তবে এদিন প্রধান না আসায় বিক্ষুব্ধরা ভোটে জয়ী হন।
আনাস্থা প্রস্তাবকারী পঞ্চায়েত সদস্য বিক্রম গণেশ বলেন, প্রধান নিজের মতো গ্রাম পঞ্চায়েত চালান। আমাদের মতামত উনি নেন না। কাজের বিষয়েও জানান না। এজন্য অনাস্থা প্রস্তাব সংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হয়েছিল। যা বুধবার পাশ হল।
খড়িবাড়ির বিডিও দীপ্তি সাউ বলেন, এদিন আনাস্থা প্রস্তাব ইস্যুতে বৈঠক ছিল। তাতে আটজন পঞ্চায়েত সদস্য উপস্থিত ছিলেন। প্রস্তাবটি পাশ হয়েছে। আলকাসু লাকড়াকে প্রধান পদ থেকে সরানো হল। যেহেতু পদটি খালি রাখা যাবে না, সেজন্য উপ প্রধান প্রমোদ প্রসাদকে আপাতত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরো বিষয়টি জেলাশাসককে জানানো হবে। এরপর নতুন প্রধান নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে।
উল্লেখ্য, ১৩ আসন বিশিষ্ট ওই গ্রাম পঞ্চায়েতে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল ন’টি ও বিজেপি চারটি আসন জয়ী হয়েছিল। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও প্রধানের আসনটি তফসিলি উপজাতির জন্য সংরক্ষিত থাকায় তৃণমূলের কেউ প্রধান নির্বাচিত হতে পারেননি। তবে বিজেপির দুই প্রার্থী ওই পদের যোগ্য থাকায় তৃণমূলের বোর্ডে বিজেপির আলাকসু লাকড়া প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন।
তবে গত আড়াই বছরে প্রধান পক্ষপাতিত্ব করছেন বলে অভিযোগ আনেন বোর্ডেরই তৃণমূল সদস্যরা। এদিকে, ২০ ফেব্রুয়ারি আলাকসু লাকড়া সহ বিজেপির আরএক সদস্য লক্ষ্মী হেমব্রম তৃণমূলে যোগদান করেন। এ থেকে শুরু হয় অভ্যন্তরীণ বিতর্ক। পরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে প্রধানের ভূমিকা নিয়ে সরব হন বিক্ষুব্ধ সদস্যরা। এজন্য আলাকসু লাকড়াকে সরিয়ে লক্ষ্মী হেমব্রমকে প্রধান করতে অনাস্থা প্রস্তাব বিডিওকে দেন তাঁরা।
এদিকে, অপসারিত প্রধান আলাকসু লাকড়া বলেন, আমি প্রধান পদে বসায় অনাস্থা নিয়ে আসারা সুবিধা নিতে পারছিলেন না। আমি তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর ওরা আমাকে পদচ্যুত করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। এরপর আনাস্থা এনেছে।