মইদুল ইসলাম:
মইদুল ইসলাম:
ইস্ট বেঙ্গলের অন্ধ সমর্থক ছিলেন আর ডি বর্মন। আমাকেও স্নেহ করতেন পঞ্চমদা। একবার হৃদযন্ত্রের সমস্যায় আমার ফুটবল কেরিয়ার অনিশ্চিত। আর ডি উদ্যোগ নিয়ে ভেলোরে ব্যক্তিগত চিকিৎসকের কাছে পাঠান। ফুটবলের সৌজন্যেই বিখ্যাত মানুষদের সান্নিধ্য পাওয়া। ১৯৮১ সাল। ঘরোয়া লিগে চ্যাম্পিয়ন হয় মহমেডান স্পোর্টিং। সাদা-কালো ব্রিগেডের অধিনায়কের দায়িত্বে এই অধম। সেই উন্মাদনা কখনও ভোলার নয়। মাঠের বাইরে উদ্দাম উৎসবে রেড রোডে গাড়ি বন্ধের উপক্রম। সমর্থকদের কাঁধে চেপে তাঁবুতে ফেরেন ফুটবলাররা। চোখ বুজলেই পুরনো স্মৃতি ভিড় করে আসে। অথচ ঘরোয়া লিগের সেই উদ্দীপনা এখন স্রেফ অতীত। বর্তমান অবস্থা মানসিক কষ্ট বাড়ায়। এমনটা তো হওয়ার কথা ছিল না। ভারতীয় ফুটবলের মক্কা কলকাতা। সেই টানেই দু’চোখে ফুটবলার হওয়ার রঙিন স্বপ্ন নিয়ে ময়দানে পা বাড়ায় অসংখ্য ফুটবলার। আমিও একই নৌকার যাত্রী। মেদিনীপুরের দাসপুর থেকে গড়ের মাঠ। উঠে আসার রাস্তা মসৃণ ছিল না একেবারেই। সুবার্বান, খিদিরপুর, পোর্ট ট্রাস্টের হয়ে খেলার পর আমায় সই করায় মহমেডান স্পোর্টিং। ফুটবল না খেললে গ্রামের ছেলে মইদুলকে কে-ই বা চিনতেন? অস্বীকারের উপায় নেই, ঘরোয়া লিগে উন্মাদনা নিম্নগামী। ব্যক্তিগত মত, জেলা ফুটবলের পরিকাঠামোয় ফাটল ধরাতেই সমস্যা বাড়ছে। দিশাহীন ফুটবলারদের সব উৎসাহ যেন কেউ শুষে নিয়েছে। নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া এগনো অসম্ভব। যত দ্রুত সম্ভব ময়দানে লিগ ফেরানো হোক। ঘেরা মাঠের উন্মাদনাই আলাদা। গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করা উচিত তিন প্রধানের কর্তাদের।
কলকাতার ফুটবলারদের নিয়ে তখন গোটা ভারতেই ছিল মাতামাতি। আটের দশকে মুম্বইয়ে রোভার্স কাপের আসর জমজমাট। মহমেডান স্পোর্টিংকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উন্মাদনা কুপারেজের গ্যালারিতে। প্র্যাকটিসের পর টিম হোটেলে বিশ্রাম নিচ্ছি। হঠাৎ আমার নাম ধরে হাঁকাহাকি শুনে নেমে আসি লাউঞ্জে। ব্যাপার দেখে চক্ষু চড়কগাছ। নিজের জুহুর বাড়িতে আমন্ত্রণ জানিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি পাঠিয়েছেন ধর্মেন্দ্র। বলিউডি তারকার নির্দেশে তড়িঘড়ি ছুটে এসেছেন তাঁর চালক। এরপর পেম দোরজি, প্রেমনাথ ফিলিপকে নিয়ে জুহুর রাজপ্রাসাদে পৌঁছই। অবাক হওয়ার তখনও বাকি। একবেলা শ্যুটিং বাতিল করে আমাদের লাঞ্চ করালেন রুপোলি পর্দার রাজপুত্র। সেসব দিন কখনওই ভোলা সম্ভব নয়।