নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের স্পাই সন্দেহে গ্রেপ্তারের ঘটনা অব্যাহত। উত্তর ভারত যেন আইএসআইয়ের স্লিপার সেল ও গুপ্তচর নিয়োগের চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। হরিয়ানা, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ থেকে লাগাতার ধরা পড়ছে একের পর এক পাক চর। সোমবার রাতে পাঞ্জাবের তরণ তারণ এলাকায় ফের এক চর ধরা পড়েছে। গগনদীপ সিং নামের ওই স্পাইকে জেরায় মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই তাদের পুরনো কে২ (কাশ্মীর-খালিস্তান) প্লট ফের সক্রিয় করে তুলেছে। এই সূত্রেই আইএসআই, জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর ই তোইবা ও খালিস্তান অক্ষের বিষয়টিও সামনে এসেছে
গগণদীপ শুধু যে আইএসআইয়ের নিযুক্ত স্লিপার সেল তাই নয়, খালিস্তানি জঙ্গিদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ রয়েছে। খালিস্তানি সংগঠন এবং আইএসআইয়ের অন্যতম মিডলম্যান গোপাল সিং চাওলার মাধ্যমেই সে পাক গুপ্তচর সংস্থার নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভারতীয় সেনা, সীমান্তরক্ষী বাহিনি এবং বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন সংক্রান্ত তথ্য পাচার করে আসছে। বিগত ৫ বছর ধরে গগনদীপ এভাবে ভারতীয় সেনার মুভমেন্ট সীমান্তবর্তী এলাকায় কখন কোনদিকে হচ্ছে, সেই তথ্য দিয়ে এসেছে আইএসআইকে। কখনও খালিস্তানি জঙ্গি গোপালের মাধ্যমে, আবার কখনও সরাসরি কোনও দূত মারফৎ আইএসআই এই স্পাইকে নিয়ম করে টাকা দিয়েছে। কাউন্টার ইনটেলিজেন্স স্কোয়াড জানতে পেরেছে, খালিস্তানি জঙ্গিদের অন্যতম মিডলম্যান গোপাল পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় পাকিস্তানের স্পাই রিক্রুটমেন্টের অন্যতম মাধ্যম। গগনদীপকে জেরা করে পুলিস জেনেছে, আইএসআই তাদের বহু পুরনো কে২ মিশন আবার চালু করেছে। কে২ অর্থাৎ কাশ্মীর ও খালিস্তান মিশন। কাশ্মীরকে এবং পাঞ্জাবকে আজাদ করা ওই মিশনের লক্ষ্য। প্রায় আড়াই বছর ধরে নতুন প্ল্যান করা হয়েছে, আবার পাঞ্জাবে খালিস্তানি সন্ত্রাস শুরু করা হবে। পাঞ্জাব এবং কাশ্মীর এই দুই সীমান্ত রাজ্যকেই টার্গেট করা হবে একসঙ্গে। পাশাপাশি জানা যাচ্ছে, আইএসআই, লস্কর এবং খালিস্তানি জঙ্গি সংগঠন এখন একজোট হয়েই কাজ করছে। পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় ভিড়ে মিশে সাধারণ জীবনযাপন করা পাক চররা নিয়ম করে ভারতীয় আর্মি মুভমেন্ট এবং সীমান্ত এলাকায় যে কোনও পরিকাঠামো নির্মাণের খবর দিচ্ছে খালিস্তানি হ্যান্ডলারদের। সেই খবর বিদেশ হয়ে আইএসআইয়ের কাছেও পৌঁছচ্ছে। এরই মধ্যে পাকিস্তানের পাঞ্জাব বিধানসভার স্পিকার মালিক মহম্মদ একটি সভায় বলেছেন, হাফিজ সইদ পাকিস্তানের সবথেকে বড় মসিহা। সে পাকিস্তানের সম্পদ। এই স্পিকারকে প্রকাশ্যে সমাবেশে বলতে শোনা গিয়েছে যে, হাফিজ তাদের পারিবারিক বন্ধু। তাকে রক্ষা করা পাকিস্তানের কর্তব্য।