সংবাদদাতা, ডোমকল: কাঁচা বাদাম, নাইরা কাট চুড়িদার এখন অতীত। বদলে রিলসে ভাইরাল হওয়া পাকিস্তানি সুটস এখন হিট সীমান্তের ঈদের বাজারে। চাহিদা বাড়ায় দামও বেড়েছে তরতরিয়ে! তবে দামের পরোয়া করে কে! ঈদ তো বছরে একবারই। তাই বাড়তি কড়ি খসিয়েও পাকিস্তানি সুটস কিনতে রানিনগর, সাগরপাড়া, ডোমকলের কাপড়ের দোকানগুলিতে ভিড় জমাচ্ছে যুবতীরা। আর সপ্তাহখানেক বাদেই ঈদ। প্রতিবারের মতো তাই এবারেও ইতিমধ্যেই জমে উঠেছে ঈদের বাজার।
জর্জেট কাপড়ের ওপর নিপুণ হাতে তৈরি কাজ এই চুড়িদারকে আকর্ষণীয় করে তুলছে। পাকিস্তানি সুটসের কামিজটি সাধারণত লম্বা এবং ঢিলেঢালা হয়, প্যান্টটির পায়ের কাছে চিকন এবং কুচিযুক্ত থাকে। ওড়না জুড়েও হাতে করা বিশেষ কারুকাজ। এই চুড়িদারের প্রতি সেটের দাম ১২০০ থেকে ২ হাজার টাকা। নকশা অনুযায়ী দামের ফারাক হয়।
কিন্তু হঠাৎ কেন এই মুলুকে পাকিস্তানি সুটসের এত চাহিদা? বাজার করতে আসা যুবতীদের সঙ্গে কথা বল জানা গেল, ইদানিং কালে পাকিস্তানি ধারাবাহিক ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছে এই দিকেও। ওইসব ধারাবাহিকের চরিত্রদের পরণে এই পোশাক নজর কেড়েছিল সবার। এরপরে বাজারে ওই চুড়িদার আসতেই ইন্সটাগ্রাম সহ বিভিন্ন সোশ্যাল সাইটের রিলসে খুব ভাইরাল হয়েছে পাকিস্তানি সুটস। ইন্সট্রাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সাররাও অনেকেই ট্রেন্ডিং গানে এই চুড়িদার পরে রিলস বানাচ্ছেন। যা সোশ্যাল সাইটগুলোতে এখন ট্রেন্ডিং। তারই সরাসরি প্রভাব পড়ছে মার্কেটে। অনেকেই ওই রিলস দেখে এই চুড়িদার কিনতে দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন।
বাজারঘুরে যা জানা গেল, প্রতিবছর ঈদের সময়েই মেয়েদের বিভিন্ন ট্রেন্ডিং শাড়ি, চুড়িদারে ছেয়ে যায় কাপড়ের দোকানগুলো। গত বছর যেমন নাইরা কাট চুড়িদারে ছেয়ে গিয়েছিল ঈদের বাজার। তার আগের বছর ভুবন বাদ্যকারের সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ‘কাঁচা বাদাম’ গানের দৌলতে বাজারে জনপ্রিয় হয়েছিল আঁচলে ছোট ছোট বাদাম ছাপানো ‘কাঁচা বাদাম শাড়ি’। তার আগে বাংলা সিরিয়ালের ‘পাখি চুড়িদার’, ‘বাহা শাড়ি’-ও জনপ্রিয় হয়েছিল। এবার সুপারহিট পাকিস্তানি সুটস। শনিবার ইসলামপুর বাজারের একটি কাপড়ের দোকান থেকে পাকিস্তানি সুটস কিনে বেরিয়ে দিশা খাতুন বললেন, রিলসে দেখেই পাকিস্তানি সুটস ভালো লাগে। এরপরে শনিবার সারাদিন কাপড়ের দোকানগুলিতে খুঁজে খুঁজে নীল রঙের একটি পাকিস্তানি সুটস কিনেছি। আমার বান্ধবীরাও ওই একই চুড়িদার কিনেছে। সবাই মিলে ঈদের দিন এই পরেই ঘুরতে বেরব। দোকানদাররাও মানছেন এবারের বিক্রিবাটা ভালোই হচ্ছে। ইসলামপুরের বস্ত্র ব্যবসায়ী সাগর আলি বলেন, গত বছর যেমন নাইরা চুড়িদার ছিল এবারে তেমন পাকিস্তানি সুটসের বিশাল চাহিদা। গত ক’ দিনে আমাদের দোকান থেকে প্রচুর পাকিস্তানি সুটস বিক্রি হয়েছে। স্টক শেষ হয়ে গিয়েছে। খুব শীঘ্রই আবার নতুন মাল আসবে। আশা করি ঈদের আগে সেগুলিও বিক্রি হয়ে যাবে।