Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ফের পাকিস্তান বধ

দেবীপক্ষে হেলায় পাকিস্তান বধ! রবিবার মরুশহর সাক্ষী থাকল বাইশ গজে ফের অপারেশন সিন্দুরের। এশিয়া কাপের সুপার ফোরে সূর্যকুমার যাদবরা এদিন কার্যত উড়িয়ে দিলেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশকে।

ফের পাকিস্তান বধ
  • ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৯:০৯
Prefer us on Google

পাকিস্তান: ১৭১/৫            ভারত: ১৭৪/৪

Advertisement

দুবাই: দেবীপক্ষে হেলায় পাকিস্তান বধ! রবিবার মরুশহর সাক্ষী থাকল বাইশ গজে ফের অপারেশন সিন্দুরের। এশিয়া কাপের সুপার ফোরে সূর্যকুমার যাদবরা এদিন কার্যত উড়িয়ে দিলেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশকে। বোঝালেন, ওয়াঘা-পারের দেশকে বশ মানানো রীতিমতো অভ্যাসেই পরিণত। নিছক হারানো নয়, এ যেন রীতিমতো কান মুলে শিক্ষা দেওয়া!
গত রবিবারেই কার্যত অ্যাকশন রিপ্লে দেখলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। অসুর বধের আবহে অভিষেক শর্মা, শুভমান গিলদের তাণ্ডবে উড়ল তেরঙা। ৭ বল বাকি থাকতে জয় এল হাসতে হাসতে, ৬ উইকেটে। মহালয়ার দিনে একেবারে উৎসবের মেজাজেই সার্জিকাল স্ট্রাইক করল টিম ইন্ডিয়া (১৭৪-৪)!
বিরতিতে ওয়াসিম আক্রাম, ওয়াকার ইউনিসদের মুখে দেখা যাচ্ছিল হাজার ওয়াটের আলো। সেখানে ধীরে ধীরে জাঁকিয়ে বসল অমাবস্যার অন্ধকার। রান তাড়া করতে নেমে ৪.৪ ওভারে পঞ্চাশে পৌঁছয় ভারত। একশো এল ৮.৪ ওভারে। দুই বন্ধুর ধুমধাড়াক্কায় ততক্ষণে অসহায় পাক ক্যাপ্টেন সলমন আগা। পাক বোলাররাও দিশাহারা, বিধ্বস্ত। এই আসরে প্রথম তিন ম্যাচে গিলের ব্যাটে এসেছিল মাত্র ৩৫। এদিন যেন ঠিকই করে এসেছিলেন বিন্দুমাত্র রেয়াত করবেন না। করেনওনি। ২৮ বলের ইনিংসে থাকল খান আষ্টেক বাউন্ডারি। উল্টোদিকে বন্ধু অভিষেক যথারীতি ধুন্ধুমার ছন্দে। দুটো ক্যাচ ফেলার আক্ষেপ পোষালেন মারমার-কাটকাট ব্যাটিংয়ে। ৩৯ বলের ইনিংস সাজানো রইল ৬টি চার ও ৫টি ছক্কায়।
এই মোকাবিলা ঘিরে গনগনে উত্তেজনায় ফুটছিল দুবাই। হাত না মেলানো, ম্যাচ রেফারিকে নিয়ে বিতর্ক— গত কয়েকদিনে ক্রমশ পারদ চড়েছিল। এদিনও হাত না মেলানোর সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন সূর্য। রাইফেল হাতে গুলি চালানোর ভঙ্গিতে সাহিবজাদা ফারহানের হাফ-সেঞ্চুরির সেলিব্রেশনে ছিল অন্য ইঙ্গিত। আগ্রাসী হাবভাব দেখাচ্ছিলেন শাহিন আফ্রিদিরাও। ম্যাচ যত সমাপ্তির দিকে এগল, সেই আগ্রাসন কর্পূরের মতো উধাও। অভিষেকরা যে কার্যত রোলার চালিয়ে পিষলেন সাইম আয়ুব, আবরার আহমেদদের। গিল যখন ফেরেন, স্কোরবোর্ডে ততক্ষণে উঠেছে ১০৫। পরের ওভারেই শূন্য রানে আউট ক্যাপ্টেন সূর্য। হঠাৎ যেন প্রাণ ফিরে পেলেন আক্রাম-ইউনিসরা। তবে সেই উচ্ছ্বাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। 
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান ৫ উইকেটে তুলেছিল ১৭১। একসময় মনে হচ্ছিল কম সে কম ১৮০ প্লাসই হতে চলেছে টার্গেট। প্রথম দশ ওভারে সলমন আগা ব্রিগেডের স্কোর ছিল ৯১-১। যশপ্রীত বুমরাহ নিষ্প্রভ, কুলদীপ যাদব সাদামাটা। ভারতের দুই সেরা বোলারকেই আক্রমণের জন্য বেছে নিয়েছিলেন ফারহানরা। তখন একের পর এক পড়ছে ক্যাচ। ভাবাই যায়নি, এই পরিস্থিতিতেই বল হাতে নতুন ভরসার সন্ধান মিলবে। আর শিবম দুবের দুটো জোরদার ঝটকা ব্রেক কষবে পাক ইনিংসে! 
তবে জয়ের সৌরভের মধ্যেই বুমরাহকে নিয়ে থাকল উদ্বেগ। প্রথম তিন ওভারে আগে কখনও ৩৪ রান দেননি তিনি। তবে কি পুরো ফিট নন ‘বুমবুম’? পাক ইনিংসে চারখানা লোপ্পা ক্যাচ পড়াও হজম হওয়া মুশকিল। ফিল্ডিং কোচ নিশ্চয়ই ড্রেসিং-রুমে পুরস্কার নয়, এবার তিরস্কার দেবেন!

সম্পর্কিত সংবাদ