নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের (আইএমএফ) দেওয়া অনুদানের টাকার একাংশ কি সরাসরি লস্কর-ই-তোইবা ও জয়েশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠনের হাতে তুলে দিচ্ছে পাকিস্তান সরকার? এমনই গোপন বার্তা পেয়েছে ভারত সরকার। আর তাই নয়াদিল্লি আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারকে আবেদন করতে চলেছে যে, পাকিস্তানকে স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্স খাতে যে বিপুল অর্থ দেওয়া হয়ে থাকে, তা নিয়ে তদন্ত করা হোক। আগামী দিনে এরকম কোনও অর্থসাহায্য যাতে পাকিস্তান না পায়, সেই আবেদনও করবে ভারত। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র সংঘাতের আবহেই আইএমএফ বিশেষ বোর্ড বৈঠক ডেকে পাকিস্তানের জন্য বিশেষ অর্থ সহায়তা অনুমোদন করেছে। ১০০ কোটি ডলারের ওই অনুদান যাতে পাকিস্তানকে দেওয়া না হয়, সেই দাবি করেছিল ভারত। ভোটাভুটির সময় ভারত অনুপস্থিতও থাকে। তাতেও অবশ্য কাজের কাজ কিছু হয়নি। এই ঘটনায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ ভারত। সেই ক্ষোভেরই বিস্ফোরণ ঘটেছে শুক্রবার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বার্তায়। গুজরাতের ভুজে এয়ারফোর্স স্টেশনে ‘অপারেশন সিন্দুরে’র সাফল্যে বায়ুসেনাকে সাধুবাদ জানান তিনি। আর সেইসঙ্গেই বলেন, ‘আইএমএফের দেওয়া টাকা পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলিকে দেবে। এটা যেন আইএমএফ কর্তৃপক্ষ মনে রাখে। এরকম বারবার হয়েছে।’
প্রকাশ্যে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে এই গুরুতর অভিযোগ। তাও স্বয়ং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর। এতেই কার্যত স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, এই সংক্রান্ত প্রমাণ ভারত পেয়েছে। ১৯৫৮ সাল থেকে পাকিস্তান লাগাতার অর্থসঙ্কট এবং অর্থনীতি ভেঙে পড়ার কারণ দেখিয়ে আইএমএফের থেকে অর্থ সাহায্য চেয়েছে এবং পেয়েছে। এবারও জঙ্গি পাঠিয়ে পহেলগাঁওয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালানোর যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরেছে ভারত। তা সত্ত্বেও কিন্তু এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফেসিলিটি প্রকল্পে ১০০ কোটি ডলার পাকিস্তানকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার। তার ১০ কোটি ডলার ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। আর এই প্রকল্পের নিরিখে হিসেব কষলে, পাকিস্তান আইএমএফ থেকে পেয়েছে মোট ২০০ কোটি ডলার। পাশাপাশি আরও ১৫০ কোটি ডলার রেজিলিয়েন্ট অ্যান্ড সাস্টেইনিবিলিটি খাতে দেওয়া হচ্ছে। এই অর্থ দেওয়ার অর্থ হল, জলবায়ু পরিবর্তনে ব্যবহার করবে পাকিস্তান। সত্যিই কি তাই হচ্ছে? নাকি হবে? আইএমএফ অর্থ মঞ্জুর করার পরই কিন্তু পাকিস্তান ঘোষণা করেছে, ভারতের প্রত্যাঘাতে মৃতদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, জয়েশ সুপ্রিমো মাসুদ আজহার পাবে ১৪ কোটি।
পাকিস্তানের অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। ১৯৫৮ সাল থেকেই যতবার এভাবে তাদের অর্থনীতি খাদের কিনারায় গিয়েছে, আইএমএফ অর্থ সাহায্য দিয়েছে নানাবিধ খাতে। কিন্তু কোনওদিনও সেই ঋণ পাকিস্তান মেটায়নি। এবারও শুধু ভারত নয়, বিভিন্ন রাষ্ট্রই প্রশ্ন তুলেছে আবার পাকিস্তানকে এই অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে। শুক্রবার রাজনাথ সিং সরাসরি আইএমএফকেই অনুরোধ করেছেন, তারা যেন এবার খতিয়ে দেখে, এই অর্থ কোথায় যাচ্ছে! অপারেশন সিন্দুর নিয়ে রাজনাথ বলেন, ‘এই অপারেশন এখনও কিন্তু শেষ হয়নি। এখনও পর্যন্ত ট্রেলার হয়েছে। পিকচার অভি বাকি হ্যায়।’ তাহলে কি ভারত সরকারের ফের কোনও প্ল্যান আছে? রাজনাথ সিংয়ের এই মন্তব্য কিন্তু নতুন জল্পনার জন্ম দিল।