নয়াদিল্লি: এবার সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘে পাকিস্তানকে তুলোধনা করল ভারত। পহেগাঁও জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল করে নয়াদিল্লি। শুরু থেকেই ইসলামাবাদের দাবি, ভারত এই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের মুখোশ খুলে দিল নয়াদিল্লি। স্পষ্ট জানিয়ে দিল, বাস্তবে শাহবাজ শরিফের দেশই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পার্বথানেনি হরিশের তোপ, ‘সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রতিনিধি। এর উত্তর দিতে আমি বাধ্য নই।’
শুক্রবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে সিন্ধু চুক্তি নিয়ে ইসলামাবাদকে চেপে ধরেন হরিশ। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের উপর ভরসা রেখে ৬৫ বছর আগে ভারত এই চুক্তি করেছিল। প্রস্তাবনায় লেখা রয়েছে, সদিচ্ছা আর বন্ধুত্বের উপর ভিত্তি করেই এই চুক্তি। কিন্তু পাকিস্তান সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখেনি। গত সাড়ে ছ’দশক ধরে চুক্তির অবমাননা করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের বিরুদ্ধে তিনটি যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। সেইসঙ্গে হাজার হাজার জঙ্গি হামলাও চালিয়েছে তারা। সন্ত্রাসবাদের জেরে গত ২০ বছরে ২০ হাজার ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছেন। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা এই নৃশংসতার অন্যতম প্রমাণ। তারপরেও সংযমের পরিচয় দিয়েছে ভারত। আসলে পাকিস্তান ভারতের আর্থিক উন্নতি, ধর্মীয় সম্প্রীতি আটকাতে চায়।’ কয়েকদিন আগেই সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন পাক সেনার মুখপাত্র। এবার সেই ইস্যুতেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইসলামাবাদকে নাস্তানাবুদ করল নয়াদিল্লি। হরিশ জানান, দু’বছর ধরে চুক্তিতে পরিবর্তন নিয়ে পাকিস্তানকে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়ে এসেছে ভারত। কিন্তু শাহবাজ প্রশাসন তা নাকচ করে দিয়েছে। পরিকাঠামোগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাধা দিয়েছে। যার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক বাঁধ। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর পাকিস্তান। আসলে ওরাই সিন্ধু জলচুক্তি লঙ্ঘন করেছে।’