Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

পরমাণু হানার হুঁশিয়ারি পাক সেনাপ্রধানের, আমেরিকায় বসে টার্গেট ভারত

Pakistan Army Chief warns of nuclear strike, India targets America

পরমাণু হানার হুঁশিয়ারি পাক সেনাপ্রধানের, আমেরিকায় বসে টার্গেট ভারত
  • ১২ আগস্ট, ২০২৫ ১৭:০৮
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের সরকারি নিউক্লিয়ার কমান্ডের চাবিকাঠি কি পরোক্ষে লস্কর এবং জয়েশ-ই-মহম্মদের মতো সন্ত্রাসবাদীদের হাতে? এই বিপজ্জনক সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে ভারত। কারণ, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে হুমকি দিয়েছেন—‘আমাদের যদি কখনও ডুবে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়, আমরা কিন্তু একা ডুবব না। অর্ধেক পৃথিবীকে নিয়েই ধ্বংস হব। মনে রাখবেন আমরাও পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র।’ আর এই হুমকির জন্য কোন সময়টা বেছে নিলেন তিনি? ঠিক নাগাসাকির উপর আমেরিকার পারমাণবিক বোমাবর্ষণের ৮০তম বার্ষিকী। ভারতকে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘জলের জন্য আমরা যে কোনও পর্যায় পর্যন্ত যেতে রাজি। আমরা অপেক্ষা করছি, ভারত কবে আমাদের জল বন্ধ করার জন্য নদীবাঁধ নির্মাণ করে... একবার চেষ্টাও করে দেখুক। সেই বাঁধ তৎক্ষণাৎ ধ্বংস করে দেব।’ মার্কিন মুলুকে বসে আসিম মুনিরের এই হুমকিতে অত্যন্ত বিরক্ত ভারত। পাল্টা আক্রমণের রাস্তায় হেঁটেছে নয়াদিল্লি। সাফ জানিয়েছে, আসিম মুনিরের এই হুমকিকে আন্তর্জাতিক মহল যেন গুরুত্ব দিয়ে বিচার করে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের প্রত্যাঘাত, ‘পাকিস্তান যেন কোনওরকম পরমাণু অস্ত্রের ব্ল্যাকমেল না করে। ভারত জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত করতে সবরকম পদক্ষেপ নেবে। যেটা প্রয়োজন সেটাই করা হবে। পাকিস্তানের সেনা-হুমকিকে ভারত গ্রাহ্য করে না। পরমাণু ব্ল্যাকমেল পাকিস্তানের একটা চেনা প্রবণতা। আন্তর্জাতিক মহল নিজেদের মতো এই হুমকি বিশ্লেষণ করে দেখুক, এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য থেকে আসলে কোন সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই সর্বজনবিদিত যে, পাকিস্তানের সেনা এবং সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলি হাতে হাত মিলিয়েই চলে। প্রশ্ন এবং সন্দেহ আবার তৈরি হচ্ছে যে, তাহলে পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার কমান্ডের সুরক্ষা কতটা? কাদের অধিকারে আছে ওই কমান্ড?’ এই প্রশ্নে ভারত আমেরিকার দায়িত্বশীলতার দিকেও আঙুল তুলেছে। জয়সওয়াল বলেছেন, ‘এটা আরও বেশি দুর্ভাগ্যজনক যে, এই ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে একটি তৃতীয় পক্ষ, বন্ধুরাষ্ট্রের মাটিতে দাঁড়িয়ে।’ বিদেশ মন্ত্রকের এই কঠোর মন্তব্যের পাশাপাশি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও আশঙ্কা প্রকাশ করছে যে, ভারতে আবার কোনও  সন্ত্রাসবাদী হামলা হতে পারে। আর সেটা হবে পাকিস্তানের মিসাইল এবং পরমাণু অস্ত্রকে ঢাল করেই। পাক সেনাপ্রধানের বিবৃতিতেই স্পষ্ট, পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার কমান্ড প্রশাসনিক শাসকদের হাতে নেই। রয়েছে সেনার হাতে। আর পাক সেনার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত জঙ্গি বাহিনী। তাই জঙ্গিদেরও পরমাণু অস্ত্র নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা নেই তো? 

Advertisement

আসিম মুনির আমেরিকা সফরে গিয়ে দফায় দফায় মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন বিভাগ ও কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। আমেরিকার বাণিজ্য যুদ্ধের আড়ালে আরও ভূরাজনৈতিক কী কী লক্ষ্য রয়েছে, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। মুনির প্রবাসী পাকিস্তানিদের এক সভায় গিয়ে আরও বলেছেন, ‘কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ কোনও ইস্যু নয়। আন্তর্জাতিক ইস্যু। আমাদের শিরায় কাশ্মীর। অতএব কাশ্মীর নিয়ে দাবি ছাড়ছি না।’ প্রশ্ন হল, একটি দেশের সেনাপ্রধান আমেরিকার মাটিতে প্রকাশ্যে পরমাণু অস্ত্রের হুমকি দিচ্ছেন, অর্ধেক পৃথিবী ধ্বংসের শপথ নিচ্ছেন, অথচ মার্কিন সরকার সম্পূর্ণ নীরব দর্শক? আসিম মুনিরের এই ভারত বিরোধী জেহাদের পিছনে ট্রাম্প প্রশাসনেরও কি প্রচ্ছন্ন মদত রয়েছে? রাত পর্যন্ত মার্কিন সরকার কোনওরকম কড়া বিবৃতি কিন্তু দেয়নি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ