নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা, দিনহাটা: পাক চর রানা রউফ খালিদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে প্রদীপ বসু ওরফে প্রদীপ্ত নামে একজনকে দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করল বেঙ্গল এসটিএফ। সে পাক নাগরিক রানাকে পাকিস্তানি টাকা ভারতীয় নোটে বদলে দিত বলে অভিযোগ। পাশাপাশি শিলিগুড়িতে থাকা তার মানি এক্সচেঞ্জারের অফিসে পাকিস্তান থেকে টাকা আসত বলে খবর। দিল্লির বাঙালিপট্টি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ট্রানজিট রিমান্ডে বৃহস্পতিবার কোচবিহারে আনা হয়েছে।
কয়েকদিন আগে কোচবিহার থেকে তিন চরকে গ্রেপ্তার করে বেঙ্গল এসটিএফ। তারা এরাজ্য থেকে গুচ্ছ গুচ্ছ সিম তুলে নেপাল, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে থাকা আইএসআই কর্তাদের পাঠাত বলে অভিযোগ। এই সিম পাঠানোর জন্য তাদের কাছ টাকা আসত পাকিস্তান থেকে। জানা যায়, এই টাকা জমা পড়ত করত শিলিগুড়ির একটি মানি এক্সচেঞ্জারের অফিসে। এই অফিসটির মালিক প্রদীপ বসু। তদন্তে উঠে আসে, তার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে আইএসআইয়ের ডিপ অ্যাসেট রানার। প্রদীপের কাজ হল নেপাল থেকে আসা পাকিস্তানি এজেন্টদের বিদেশি কারেন্সিকে ভারতীয় টাকায় বদলে দেওয়া। গোটাটই করা হত অবৈধভাবে। একইসঙ্গে কোচবিহারের দিনহাটা থেকে ধৃত পাক চরদের পেমেন্ট তার অফিস থেকে হয়েছে। তার কাছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে টাকা আসত। সেই টাকা সে পৌঁছে দিত এখানে কাজ করা চরদের কাছে।
এই তথ্য উঠে আসার পরই তার খোঁজ শুরু করেন তদন্তকারীরা। তাঁরা জানতে পারেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছে। এরপরই টিম সেখানে পৌঁছে বুধবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে। ট্রানজিট রিমান্ডে কোচবিহার এনে বৃহস্পতিবার দিনহাটা আদালতে তাকে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী মৃগাঙ্ক সেনগুপ্ত বলেন, ইতিপূর্বে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রদীপ্তর নাম উঠে এসেছে। তাকে দিল্লির বাঙালিপট্টি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার নামে দুটো সিম পাকিস্তানের লাহোরে ব্যবহার হচ্ছে। অভিযুক্তকে আটদিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
অভিযুক্ত প্রদীপ নিজেও আইএসআইয়ের চর হিসাবে কাজ করছিল বলে জেনেছেন তদন্তকারীরা। শিলিগুড়িতে আর্মির গতিবিধি, সেনা ছাউনির তথ্য সে পাকিস্তানে পাচার করেছে বলে খবর। আইএসআইয়ের কোন কোন আধিকারিকের সঙ্গে সে যোগাযোগ রাখত তাকে জেরা করে জানার চেষ্টা করবেন অফিসাররা।