নয়াদিল্লি: ইঁদুরের স্বভাব ভয়ে গর্তে লুকানো। আর সেই ‘ইঁদুরের দশা’ই হয়েছে হাফিজ সইদের! গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ভারতের প্রত্যাঘাতের আতঙ্কে লস্কর-ই-তোইবা প্রধানের ডেরা বদল করেছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। হাফিজ সইদের নতুন ‘সেফ হাউস’ লাহোরের পাকিস্তানি সেনা শিবির। নিরাপত্তা চারগুণ বাড়িয়ে সেখানেই এখন ‘ঘাঁটি’ জঙ্গিনেতার।
পহেলগাঁও হামলার প্রেক্ষিতে বদলার দাবি উঠছে আসমুদ্রহিমাচলে। ২৬/১১ মুম্বই হামলার মতোই পহেলগাঁওয়ের হত্যালীলায় হাফিজ সইদের মাথা কাজ করেছে বলে ইতিমধ্যে গোয়েন্দাদের হাতে তথ্য-প্রমাণ এসেছে। হামলার পরপরই দায় স্বীকার করেছে লস্করের ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)। এই অবস্থায় আইএসআইয়ের আশঙ্কা, লস্কর প্রধানকে নিকেশ করতে পাকিস্তানের অন্দরে গোপন অপারেশন চালাতে পারে ভারত। সেই কারণেই ভয়ে কাঁটা ইসলামাবাদ তাই সইদের নিরাপত্তায় বাড়তি পদক্ষেপ নিয়েছে। কোথায় লাহোরের সেই নয়া ‘সেফ হাউস’? ভারতীয় গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, সইদকে তোলা হয়েছে মিঞা মির ক্যান্টনমেন্ট এলাকায়। পহেলগাঁও হামলা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে যে তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়েছে, সেখানে লস্কর প্রধানের এই নয়া ডেরার অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে বলে খবর।
রিপোর্ট অনুযায়ী, এই জঙ্গিনেতাকে সুরক্ষিত রাখার জন্য স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপের (এসএসজি) প্রাক্তন কমান্ডোদের দায়িত্ব দিয়েছে পাকিস্তান সেনা। বাড়তি নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছে সইদের অন্য আস্তানাগুলিতেও। এর মধ্যে রয়েছে লাহোরের মহল্লা জোহরে অবস্থিত বাড়িটিও। নতুন ডেরায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত এখানেই রাখা হয়েছিল লস্কর প্রধানকে। ঘনবসতি এলাকায় কেন? ওসামা বিন লাদেন অপারেশনের স্মৃতি এখনও মাথাচাড়া দেয় পাক সেনা-আইএসআইয়ের অন্দরমহলে। জনশূন্য এলাকায় তাই হাফিজ সইদের মতো ‘অ্যাসেট’কে রাখার ঝুঁকি নেয়নি পাকিস্তান। মহল্লা জোহরের এই বাড়ি লাগোয়া একটি মসজিদ ও মাদ্রাসা রয়েছে। চারপাশে আছে সাধারণ নাগরিকদের বাড়িঘরও।
পহেলগাঁও হামলার বহু আগেই ২৬/১১ মুম্বই নাশকতার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ভারত ও আমেরিকার ওয়ান্টেড তালিকায় নাম উঠেছিল হাফিজ সইদের। আমেরিকা ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের আন্তর্জাতিক জঙ্গির তালিকাতেও রয়েছেন তিনি। কিন্তু বিশ্বের চোখে ধুলো দিতে ইসলামাবাদের দাবি, সন্ত্রাসে মদতের জন্য বিভিন্ন মামলায় ৪৬ বছরের সাজা হয়েছে তাঁর। খাতায় কলমে জেলবন্দি হলেও ৭৭ বছরের এই জঙ্গিনেতাকে আগাগোড়া আইএসআই ও পাক সেনার নিরাপত্তায় ‘জামাই আদর’ করেই রেখেছে ইসলামাবাদ। আর সেই কারণে ‘বন্দি’ হয়েও পাকিস্তানে হামেশাই বিভিন্ন জনসভায় ভারত বিরোধী বক্তব্য রাখতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। গত তিন বছরে প্রায় তিন ডজন সভা করেছেন সইদ। কড়া নিরাপত্তায় অবাধে ঘুরে বেড়িয়েছেন অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গি লঞ্চপ্যাড থেকে বাহাওয়ালপুর, মুরিদকে ও রাওয়ালকোটের ক্যাম্পে। পহেলগাঁও হামলার পর বিভিন্ন জায়গায় সভা করছে লস্কর-ই-তোইবার সমর্থিত রাজনৈতিক দল পাকিস্তান মাকরাজি মুসলিম লিগ (পিএমএমএল)। সেখানে বাজানো হচ্ছে সইদের পুরনো একটি ভাষণ— ‘ভারত জল বন্ধ করলে নদীগুলি দিয়ে রক্ত বইবে।’ যদিও প্রত্যাঘাতের ভয়ে তিনিই এখন পাক সেনার ‘সেফ হাউসে’।