লন্ডন: পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার পর থেকেই প্রতিশোধের আগুনে ফুঁসছে গোটা দেশ। হামলার নেপথ্যে ফের পাকিস্তানের নাম উঠে এসেছে। দেশের নানা প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশের মাটিতেও প্রতিবাদে নেমেছেন মানুষজন। শুক্রবার লন্ডনে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন প্রবাসী ভারতীয়রা। আর তখনই তাদের লক্ষ্য করে অত্যন্ত ‘লজ্জাজনক’ অঙ্গভঙ্গি করলেন পাকিস্তান হাইকমিশনের সেনা ও বায়ুসেনার উপদেষ্টা কর্নেল তৈমুর রাহাত। ভারতীয় বায়ুসেনার অফিসার অভিনন্দন বর্তমানের ছবি হাতে প্রতিবাদীদের লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে ‘গলা কেটে দেওয়া’র ইঙ্গিত দিলেন তিনি। ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিও। বিক্ষোভকারীদের একাংশের কথায়, জঙ্গিদের ‘সেল্টার’ দেওয়া থেকে শুরু করে একের পর এক হামলার নেপথ্যে থাকার পরও এই ধরনের ইঙ্গিত অত্যন্ত নিন্দনীয়। আদতে গোটা বিশ্বের সামনে আরও একবার বেআব্রু হল পাকিস্তান। এদিন নেপালেও পাক দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একের পর এক স্লোগান ওঠে।
এদিন পাকিস্তান হাই কমিশনের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন পাঁচশোর বেশি প্রবাসী ভারতীয়। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ইহুদিও ছিলেন। হাতে ছিল ভারতের পতাকা সহ নানা ধরনের ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড। মিছিল থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও স্লোগান ওঠে। ঠিক তখনই হাই কমিশনের ব্যালকনি থেকে গলা কেটে নেওয়ার অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায় সেনা উপদেষ্টাকে। তাঁর হাতে ছিল ভারতীয় বায়ুসেনার অফিসার অভিনন্দন বর্তমানের একটি ছবিও। ২০১৯ সালে পাকসেনার হাতে বন্দি হয়েছিলেন অভিনন্দন। সেই ঘটনার খোঁচা দিয়েই ভারতীয়দের উদ্দেশে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এনিয়ে সরব হয়েছেন বিক্ষোভরত প্রবাসী ভারতীয় থেকে শুরু করে নেটিজেনরাও। তাঁদের কথায়, অত্যন্ত উস্কানিমূলক আচরণ। আসলে পাকিস্তান জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত। তাই তাদের কাছ থেকে এটাই কাম্য। এক বিক্ষোভকারী জানান, তাঁরা যখন লন্ডনে পাকিস্তান হাই কমিশনের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, তখন ভিতরে জোরে জোরে গান বাজানো হচ্ছিল। উদযাপন চলছিল। যা অত্যন্ত অপমানজনক। প্রতিবাদীদের মধ্যে শামিল এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইহুদি বলেন, আমরা ভারতের পাশে রয়েছি। আমাদেরও একই শত্রু -ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ। আসলে পহেলগাঁওয়ের ঘটনা ইজরায়েলের উপর হামাসের হামলাকে মনে করায়। এদিন কাঠমাণ্ডুতে পাকিস্তান হাই কমিশনের সামনেও বিক্ষোভ দেখায় নেপালের মানুষজন। পাকিস্তান বিরোধী স্লোগানও ওঠে। উল্লেখ্য, পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলায় এক নেপালি নাগরিকেরও মৃত্যু হয়েছিল।