Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘দিন সাতেকেই বদলে গেল পহেলগাঁও’, হত্যালীলায় ‘থ’ সদ্য কাশ্মীর ফেরতরা

‘দিন সাতেকেই বদলে গেল পহেলগাঁও’, হত্যালীলায় ‘থ’ সদ্য কাশ্মীর ফেরতরা
  • ২৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সায়ন চট্টোপাধ্যায়, শিলিগুড়ি: দিন সাতেক আগে পহেলগাঁও চষে বেড়িয়েছেন। কেউ বা দিন দশেক ধরে ঘুরেছেন কাশ্মীর। ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ বৈসরণ ভ্যালিতে স্বপ্নের ডানা মেলেছেন। ভূস্বর্গের সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন দু’চোখ ভরে। ফিরে আসার সময় সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন আজীবন মনে রাখার মতো সব স্মৃতি। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে চিত্রটা বদলে গেল। সৌন্দর্যে ভরা সবুজ গালিচায় লাগল রক্তের দাগ। টিভির পর্দায় সেই দৃশ্য দেখার পর কার্যত ‘থ’ সদ্য কাশ্মীর থেকে ঘুরে আসা উত্তরবঙ্গের পর্যটকরা। দিন কয়েকের মধ্যে ‘শান্তিপূর্ণ’ কাশ্মীরের এই পরিণতি দেখে কার্যত শক্‌ড তাঁরা। 

Advertisement

মঙ্গলবার দুপুরে কাশ্মীরে পহেলগাঁওতে নারকীয় হত্যালীলায় প্রাণ হারাতে হয়েছে ২৭ জন পর্যটককে। তারমধ্যে বাংলার তিনজন আছেন। সেই নারকীয় দৃশ্য ভাইরাল হতে সময় লাগেনি।  
ভূস্বর্গ ভ্রমণ করে গত সপ্তাহে সপরিবারে শিলিগুড়ি ফিরেছেন চৈতালি সাহা। কাশ্মীরের এই ঘটনা মোবাইলে দেখার পর তা মেনে নিতে পারছেন না তিনি। ঘুরতে গিয়ে বেঘোরে প্রাণ চলে যাওয়া কি কোনওভাবে মেনে নেওয়া যায়, এই প্রশ্নই উঠে এল হাকিমপাড়ার বাসিন্দা চৈতালির কথায়। তিনি বলেন, দিন সাতেক আগেই পহেলগাঁও ঘুরে এসেছি। দুই সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে খুব ভালো সময় কাটিয়ে এসেছি। কত যে স্মৃতি রয়েছে , বোঝাতে পারব না। তখন নিরাপত্তাও ভালো ছিল। বিশ্বাসই হচ্ছে না, কয়েকদিনের মধ্যে পুরো পরিস্থিতিটা বদলে গেল। যেই মিনি সুইজারল্যান্ডের ভ্যালিতে আমরা আনন্দের সময় কাটিয়েছি, সেখানেই জঙ্গিদের বন্দুক থামিয়ে দিয়েছে বহু পরিবারের আনন্দকে । এরকম ঘটনায় ভাবতে হবে, ভূস্বর্গে আর যাব কি না! 
দিন কয়েক আগে কাশ্মীর ভ্রমণের ছবি পোষ্ট করে নিজেদের ‘আনন্দ’ জানান দিয়েছেন অনেকে। দেবেনই না কেন, বারবার কি আর যাওয়া হয়! তবে সেখানে যদি রক্তপাতের মতো ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটে যায় তা মনে ক্ষত গড়বে স্বাভাবিকই। জলপাইগুড়ির তরুণী চিকিত্সক গুঞ্জা চক্রবর্তী, সদ্য পরিবার নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন কাশ্মীর। গত সপ্তাহে গুলমার্গ থেকে পহেলগাঁও হয়ে কাশ্মীর ভ্রমণের স্মৃতি একদম টাটকা। হত্যালীলার ভাইরাল ভিডিও নাড়া দিয়েছে এই চিকিত্সককে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন তিনি। ডাঃ গুঞ্জা বলেন, ভাবতেই পারছি না এত সুন্দর একটা জায়গায় গিয়ে মানুষের এমন পরিণতি হতে পারে। আমরা ঘুরে আসার সময়েও কাশ্মীর ‘শান্ত’ ছিল। এই ধরনের হত্যালীলা কাশ্মীরের মতো এত সুন্দর জায়গাকে নষ্ট করে দিচ্ছে। ভেবেই ভয় লাগছে, আর একসপ্তাহ পর সেখানে গেলে আমাদেরও হামলার মুখে পড়ত হতো।  এক সপ্তাহ আগেও পর্যটকদের ভিড় পহেলগাঁওয়ে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ