নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ‘দফা এক দাবি এক, মোদি-শাহের পদত্যাগ।’ সামাজিক মাধ্যম গতকাল সন্ধ্যা থেকেই এমনই স্লোগানে ভরে উঠেছে। কেউ কালো ওয়ালে লিখেছেন, ‘প্রমাণ হল বিজেপির হাতে দেশের কোনও সীমান্তই সুরক্ষিত নয়। কেউ মোদি সরকারের ব্যর্থতার দিকে আঙুল তুলে লিখেছেন, ‘কাশ্মীরে এই জঙ্গি হানার দায় কার?’ কয়েকদিন আগেই মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ তাণ্ডবের ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে কাশ্মীরের সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। মুর্শিদাবাদের এই তাণ্ডবের ঘটনায় যখনই বাংলাদেশিদের যোগ থাকার সম্ভাবনা সামনে এসেছে, তখনই সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। গতকালই দুপুর আড়াইটা নাগাদ জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ঘটে গিয়েছে ভয়ঙ্কর ঘটনা। নিরীহ পর্যটকদের উপর হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানি জঙ্গিরা। যার জেরে মৃত্যু হয়েছে ২৭ জন পর্যটকের। এই ঘটনায় দেশে-বিদেশে নিন্দার ঝড় উঠেছে। হাই অ্যালার্টে রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। এরপর সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে লাগাতার কেন্দ্রকে আক্রমণ করছে এই রাজ্যের শাসকদল। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য নেতা তথা বহরমপুর পুরসভার কাউন্সিলার ভীষ্মদেব কর্মকার প্রথমেই কাশ্মীরের ঘটনা নিয়ে বিজেপিকে বিদ্ধ করে। একের পর এক পোস্ট করতে থাকেন। তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পুরোপুরি ব্যর্থ। দেশের সীমান্ত একেবারেই সুরক্ষিত নয়। আমরা জানি না কবে কারা এদেশে ঢুকে হামলা চালাবে। সীমান্তে বিএসএফের কাজ কী?’ বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরী সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় নিরাপরাধ দেশবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবারের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা রইল। ঈশ্বর নিহতদের আত্মার শান্তি প্রদান করুক। সীমান্তে সুরক্ষা দরকার। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল তদন্ত চাই।’ বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সাধারণ সম্পাদক লাল্টু দাস বলেন, ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক একটি ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরেই কেন্দ্রীয় সরকার কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। কংগ্রেসের আমলে আমাদের দেশে নিরাপত্তা কেমন ছিল, তা আমরা সকলেই জানি। এখন এটা নিয়ে রাজনীতি করার সময় নয়। যে বা যারা এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের কঠোর জবাব দিতে হবে। যারা মুর্শিদাবাদের সঙ্গে এই ঘটনার তুলনা টেনে সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তাদেরকে কিছু বলার নেই। রাজ্য পুলিসের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।’



