নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সমালোচনা, নাকি সয়ে যাওয়া? সইলেও তা কতদিন? দ্বিধাবিভক্ত কংগ্রেস। পহেলগাঁও হামলার পরিপ্রেক্ষিতে দলের অবস্থান দিয়ে দোলাচলে রাহুল গান্ধীর দল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নরেন্দ্র মোদির কড়া সমালোচনা করলে পাছে সাধারণ নাগরিক নিন্দা করে, এই আশঙ্কায় আপাতত নিজেদের গুটিয়ে রাখছে কংগ্রেস। মঙ্গলবার মোদি বা প্রধানমন্ত্রীর নাম-পদ সরাসরি উল্লেখ না করেও ‘গায়েব’ পোস্টের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোপ দেগেছিল কংগ্রেস। ভক্তচরণ দাস সহ কয়েকজন নেতা মোদির সমালোচনাও করেছিলেন।
কিন্তু রাহুল রেগে আগুন। দলকে বলে দিয়েছেন, আপাতত এমন কোনও সমালোচনা নয় যাতে বিজেপি পাল্টা আমাদের আক্রমণ করতে পারে। জনসাধারণ নিন্দা করে। তাই রাহুলের আস্থাভাজন এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি বেণুগোপাল দলের সব নেতা, সাংসদ, বিধায়কদের জানিয়ে দিয়েছেন, কেউ এমন কোনও মন্তব্য করবেন না, যাতে বিতর্ক হয়। এই নির্দেশ অমান্য করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতানেত্রীদের একাংশের প্রশ্ন, বিরোধী দল হিসেবে তাহলে কংগ্রেস কি চুপ করে বসে থাকবে? বেফাঁস কোনও মন্তব্য নয়। তাই বলে এত বড় নিরাপত্তা ব্যর্থতার পরেও ঘরোয়া রাজনীতিতে কেন সরকারের সমালোচনা করা হবে না? বিশেষ করে বিজেপির মতো দল। যারা সময়, অবস্থান না দেখেই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লাগাতার রাজনীতি করে চলেছে। সে মুম্বই হামলাই হোক বা জাতি জনগণনা। খোদ মোদিই গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় সন্ত্রাসবাদী হামলায় কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা করতে পিছপা হননি।
তাই এআইসিসির প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বৃহস্পতিবারই ২০০৮ সালের সংবাদপত্রের ছবি তুলে ধরে মোদি সরকার তথা বিজেপিকে পাল্টা জবাব দিয়েছেন। একইসঙ্গে দলের অভ্যন্তরে ‘অতি সাবধানীদের’ও দিয়েছেন বার্তা। মুম্বই হামলার পর বিজেপি বিজ্ঞাপন দিয়ে নাম না করে মনমোহন সিং সরকারকে দুর্বল, অযোগ্য বলে প্রচার করেছিল। তারবেলা? তাহলে এখন কেন মোদি সরকারের নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়ে চুপ থাকা হবে?
এমনকী এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রাজনৈতিক বিষয়ক কমিটির বৈঠকে জাতি জনগণনার সিদ্ধান্ত জানানোর সময়ও তথ্য-সম্প্রচারমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব যেভাবে পকেট থেকে কাগজ বের করলেন এবং কংগ্রেসের সমালোচনা দিয়ে বক্তব্য শুরু করলেন, সেটাও কি কাঙ্খিত? প্রশ্ন কংগ্রেসের। রমেশ এদিন কটাক্ষের সুরে বলেন, পহেলগাঁও পরিস্থিতির এই আবহেও টার্গেট কে, তা ঠিকই করে উঠতে পারছে না বিজেপি। এখন টার্গেট হওয়া উচিত স্রেফ জঙ্গি। কড়া জবাব দেওয়া উচিত পাকিস্তানকে। আমরা তো সরকারকে সমর্থন করব বলে আগেই জানিয়েছি। সংসদের বিশেষ অধিবেশনেরও দাবি করেছি। কিন্তু সরকার কিছুই জবাব দিচ্ছে না।