ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: পদ্মশ্রী প্রাপক মঙ্গলাকান্ত রায়কে প্রচারে ঢাল করার চেষ্টা করছেন ময়নাগুড়ির বিজেপি প্রার্থী কৌশিক রায়। অথচ বিজেপি নেতৃত্বের আশ্বাস সত্ত্বেও আজও কেন্দ্রের ভাতা পাননি শতায়ু এই সারিন্দা বাদক। ফলে ব্যাপক ক্ষুব্ধ তাঁর পরিবার। ময়নাগুড়ির ধওলাগুড়ির বাড়িতে বসে এনিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পদ্মশ্রীর বড় ছেলে উমাকান্ত রায়। তাঁর দাবি, কেন্দ্রের তরফে বাবাকে মাসে ছ’হাজার টাকা করে ‘শিল্পীভাতা’ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু গত দু’বছরের বেশি সময় ধরে ঘোরাঘুরির পরও তা মেলেনি। ভোটের মুখে পদ্মশ্রী প্রাপকের পরিবারের এ হেন তোপের মুখে কার্যত ঢোক গিলছেন বিজেপির জলপাইগুড়ির সাংসদ ডাঃ জয়ন্তকুমার রায়। রবিবার তিনি বলেন, পদ্মশ্রী মঙ্গলাকান্ত রায় যাতে কেন্দ্রের তরফে শিল্পীভাতা পান, তার চেষ্টা করব বলেছিলাম। কিন্তু তাঁর পরিবার এনিয়ে আমার সঙ্গে আর যোগাযোগ করেনি। ফলে বিষয়টি কী অবস্থায় আছে, মনে নেই। যদিও পদ্মশ্রীর পরিবারের দাবি, সাংসদের সঙ্গে জলপাইগুড়ি ও ময়নাগুড়িতে একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে। ভাতা পাওয়ার জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করতে বলা হয়। সেটাও করা হয়েছে। কিন্তু দু’বছরে এখনও ভাতা মেলেনি। পদ্মশ্রীর ‘আশীর্বাদ’ তাঁর সঙ্গে রয়েছে বোঝাতে মঙ্গলাকান্ত রায়কে নিয়ে কয়েকদিন আগে জল্পেশ ও জটিলেশ্বর মন্দিরে পুজো দিতে যান ময়নাগুড়ির বিজেপি প্রার্থী কৌশিক রায়। এনিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হতেই কার্যত বোমা ফাটায় পদ্মশ্রীর পরিবার। মঙ্গলাকান্তর বড় ছেলে বলেন, বাবার ১০৮ বছর বয়স। আগে থেকে কিছু না জানিয়ে বিজেপি প্রার্থী বাড়িতে গাড়ি পাঠিয়ে বাবাকে নিয়ে যান। পরে বুঝতে পারি, কোনো দলের প্রার্থীর সঙ্গে মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়া বাবার ঠিক হয়নি। উমাকান্ত আরও বলেন, ২০১৭ সালে রাজ্য সরকার বাবাকে ‘বঙ্গ সম্মান’ দিয়েছে। ২০২৩ সালে ‘পদ্মশ্রী’ পেলেন বাবা। ২০২৪ সালে আশ্বাস দেওয়া হল, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে বাবা প্রতিমাসে ‘শিল্পীভাতা’ হিসাবে ছ’হাজার টাকা করে পাবেন। ভেবেছিলাম, কেন্দ্রের ভাতা পেলে ওই টাকায় বাবার খরচটুকু চালাতে পারব। তৃণমূল কংগ্রেসের ময়নাগুড়ির প্রার্থী রামমোহন রায় বলেন, পদ্মশ্রীকে ‘অসম্মান’ করেছেন বিজেপি প্রার্থী।



