তিরুবনন্তপুরম: এবারও ত্রিশুরে পদ্মফুল ফোটাতে পারলেন না কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কে করুণাকরণের কন্যা পদ্মজা বেণুগোপাল। পরপর তিনবার বিধানসভা ভোটে লড়েও রাজ্যের সাংস্কৃতিক রাজধানীর দখল নিতে ব্যর্থ হলেন। যদিও দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যের বিধানসভা ভোটে তিনটি আসন পেয়েছে গেরুয়া শিবির। এই সাফল্য নিয়ে বাম ও হাত শিবিরকে একহাত নিয়েছেন কেরলের বিজেপি সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর। সোমবার তিনি বলেন, ‘আজ নেমম ও চাথান্নুরের মানুষ কংগ্রেস ও সিপিএমকে জবাব দিয়েছেন।’ এদিকে কাঞ্জিরাপল্লি আসনে তৃতীয় হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী জর্জ কুরিয়ান। বর্তমানে সংখ্যালঘু বিষয়ক দপ্তরে রাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। এখানে জিতেছেন কংগ্রেস প্রার্থী।
সোমবার ১৬ রাউন্ড গণনা শেষে তৃতীয় স্থানে ছিলেন পদ্মজা। তাঁর পক্ষে গিয়েছে ২৮ হাজার ৬৬২ ভোট। ৩৩ হাজার ৪৮৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিগ্রহণ করেছেন সিপিআই’এর অলঙ্কোড় লীলাকৃষ্ণন। দু’জনকে অনেকটাই পিছনে ফেলে ত্রিশুর দখল করেছেন ইউডিএফ প্রার্থী রাজন জে পল্লন (৬০ হাজার ৯২০ ভোট)। ২০১৬ সালে কংগ্রেস প্রার্থী হিসাবে তাঁর হারের ব্যবধান ছিল প্রায় ৭ হাজার ভোট। ২০২১ সালে মাত্র ৯০০ ভোটে হেরেছিলেন পদ্মজা। তারপর শিবির বদল। এবারের ভোটে পদ্মজার জয়ের বিষয়ে নিশ্চিত ছিল মোদি ব্রিগেড। নির্বাচনি প্রচারে গিয়ে পদ্ম প্রার্থী বলেছিলেন, ‘ত্রিশুরের জয় নিয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী। এখানকার মানুষের উপর আমার ভরসা আছে। বিজেপি সবসময় দলের জয় নিশ্চিত করতে চায়। দলীয় কর্মীরা প্রার্থীর জন্য কাজ করবেন।’ সেই স্বপ্ন অবশ্য সফল হল না। ৩১ হাজার ৬২৮ ভোটে হারলেন ত্রিশুরের গেরুয়া প্রার্থী। পদ্মজা ও কুরিয়ান হারলেও তিরুবনন্তপুরমের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ের মুখ দেখেছে পদ্ম শিবির। চাথান্নুরে ৪ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন বি বি গোপাকুমার। কাজাকুত্তম, নেমম দখল করেছেন ভি মুরলীধরণ ও রাজীব চন্দ্রশেখর। রাজীব বলেছেন, ‘এই নির্বাচন ছিল সিপিএম বিরোধী। মানুষ দুর্নীতি দেখতে দেখতে হাঁফিয়ে উঠেছিলেন।’