নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মী নিয়োগে ছড়ি ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। বিশেষ করে এক নেত্রী নিজের পছন্দের লোকজনকে কাজে ঢোকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি একটি প্যানেল ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। পরীক্ষা এবং ইন্টারভিউয়ের পর তালিকা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। তারপরই তা আচমকা বাতিল করে দেওয়া হয়। এছাড়া আগের জমানায় নিয়োগ হওয়া অস্থায়ী কর্মীদের বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। এজেন্সির মাধ্যমে বিভিন্ন বিভাগে কর্মী নিয়োগ হয়। তাঁদের অনেকের উপরই চাপ তৈরি করা হচ্ছে। কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার বলেন, যাঁরা সাত বা আট বছর করে কাজ করছেন, তাঁদের যদি সরানো হয় তাহলে বড়ো আন্দোলন করা হবে। তাছাড়া সম্প্রতি একটি নিয়োগের প্যানেল বাতিল হল কার স্বার্থে তা নিয়ে তদন্ত হোক। ওই তালিকায় বিজেপির পছন্দের লোকজন ছিল না। সেকারণে যোগ্যদের বঞ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি প্রকল্পের জন্য সায়েন্টিস্ট-বি, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এবং অন্যান্য কাজের জন্য কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। লিখিত পরীক্ষা এবং ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়। কিন্তু, হঠাৎ করেই তা বাতিল করে দেওয়া হয়। তালিকায় নাম থাকা চাকরিপ্রার্থীরা বলেন, বিষয়টি নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়। তাঁরা জানান, রাজনৈতিক চাপের কারণেই তাঁদের নেওয়া হচ্ছে না। কলেজের অধ্যক্ষ সব্যসাচী সরকার বলেন, অনিবার্য কারণে তালিকা বাতিল করা হয়েছে। নিয়োগের জন্য নতুন কমিটি তৈরি করা হয়েছে। দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, বিজেপি নেতারা ভোটের আগে বুলি আউড়েছিল তারা নাকি যোগ্যদের মর্যদা দেবে। অথচ মেডিকেল কলেজে পরীক্ষা এবং ইন্টারভিউয়ে পাশ করার পরও যোগ্যদের চাকরি দেওয়া হল না। বিজেপির পছন্দের লোক হলে তবেই তারা চাকরি পাবে। তাতে যোগ্যতার কোনো মূল্য নেই। শুধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নয়, সব জায়গাতেই ওরা দলের অযোগ্যদের ঢোকাতে চাইছে। বেকার যুবক-যুবতীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, তৃণমূল আমলে অযোগ্যদের চাকরি দেওয়া হয়েছিল। পুরো সিস্টেম ভেঙে পড়েছিল। আমাদের সরকার যোগ্যদেরই চাকরি দেবে। কোনো যোগ্য প্রার্থীর চাকরি কেড়ে নেওয়া হবে না। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কী হয়েছে, তা জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি।



