চতুর্থ শ্রেণির কর্মীকে নিগ্রহে অভিযুক্ত চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসকের পদত্যাগ
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালে চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মীকে নিগ্রহের অভিযোগে অবশেষে পদত্যাগ করলেন নেফ্রোলজি বিভাগের এক চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক। শুক্রবার হাসপাতালের গঠিত তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হওয়ার পরই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান তিনি। হাসপাতাল সুপার ডাঃ কৌশিক ঈশোর এই খবরের সত্যতা স্বীকার করেছেন।

Advertisement

সম্প্রতি আউটডোরে এক রোগীকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার সময় হাসপাতালের ওই কর্মীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ঘটনায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়তেই নড়েচড়ে বসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আক্রান্ত কর্মীর পরিবার এবং হাসপাতালের অন্য কর্মীরাও সুপারের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এরপরই পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
অভিযোগ, এর আগেও ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং হাসপাতাল বিরোধী কার্যকলাপের একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর আচরণ ও প্রভাব নিয়ে হাসপাতালের অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছিল। নেফ্রোলজি বিভাগে প্রয়োজনীয় স্থায়ী চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁকে বহাল রাখা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে ওই চিকিৎসকের আচরণে হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসকরাও তীব্র নিন্দা জানান। চিকিৎসক মহলের কেউই এই ঘটনাকে সমর্থন করেননি। তাঁদের বক্তব্য, রোগী দেখার পরিবর্তে একজন চিকিৎসক যদি এভাবে মারধরের ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন, তাহলে গোটা চিকিৎসক সমাজ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছয়। পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। চিকিৎসকের এমন আচরণ হাসপাতালের পরিবেশ ও চিকিৎসক সমাজের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে। এই কারণেই অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সরব হন হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসকরাও।
শনিবার হাসপাতাল সুপার ডাঃ কৌশিক ঈশোর বলেন, শুক্রবার তদন্ত কমিটির সামনে নিজের বক্তব্য রাখেন ওই চিকিৎসক। তবে নিজের বক্তব্যের ভিত্তিতে তদন্ত থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না বুঝেই তিনি পদত্যাগের কথা জানান। তাঁর পদত্যাগপত্র পাওয়ার পর নিয়ম মেনে পরবর্তী বিভাগীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।