নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ১ ডিসেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হবে সরকারি সহায়ক মূল্যে ধান কেনা। তারজন্য আরামবাগ মহকুমার ছ’টি ব্লকে ছ’টি ধান ক্রয় কেন্দ্র খোলা হবে। আপাতত পরিকাঠামো তৈরি শুরু করেছে খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর। জানা গিয়েছে, এবার কুইন্টাল প্রতি ধানের দাম নির্ধারণ হয়েছে ২ হাজার ৪৪১ টাকা। এছাড়া উৎসাহ ভাতা হিসেবে দেওয়া হবে ২০০ টাকা।
এই ব্যাপারে হুগলি জেলা খাদ্য নিয়ামক নিত্যানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এবার ১ ডিসেম্বর থেকে দান কেনা শুরু হবে। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে চাষিদের ধান বিক্রি করতে হবে। এরজন্য চাষিদের সিপিসিতে সরাসরি আসতে হবে। রেজিস্ট্রেশন করার পাশাপাশি ১৫ দিন আগে থেকে ধান বিক্রির স্লট বুকিং করতে হবে। আপাতত ধান কেনার আগে সিপিসিগুলির পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খাদ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি বছরই সরকারের তরফে সহায়ক মূল্যে ধান কেনা হয়। রাজ্যে পালাবদলের পর আগামী ডিসেম্বর থেকে ফের ধান কেনা শুরু করবে খাদ্য ও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। গত বছর হুগলি জেলায় প্রায় সাত লক্ষ মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রায় তিন লক্ষ ৯৭ হাজার মেট্রিক টন ধান কেনা হয়। এবার এখনও লক্ষ্যমাত্রা ঠিক হয়নি। বিগত দিনে ধান কেনা নিয়ে নানা অভিযোগ আনত বিরোধীরা। এই ব্যাপারে হুগলি জেলা কৃষক সভার সভাপতি ভাস্কর রায় বলেন, বিগত দিনে সরকারকে ধান বিক্রি করতে চাষিদের হয়রানি হতো। প্রকৃত চাষিরা সরকারের বদলে খোলা বাজারে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হতেন। ফড়েদের দাপট ছিল মারাত্মক। এবার যাতে চাষিরা সুষ্ঠুভাবে সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারেন, তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।
পুরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, বিগত দিনে সহায়ক মূল্যে ধান কেনা নিয়ে নানা অনিয়ম হতো। কিন্তু এবার স্বচ্ছতার সঙ্গে ধান কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ধানের এমএসপি-ও বৃদ্ধি হয়েছে। ফলে সুষ্ঠুভাবেই ধান কেনার কাজ চলবে এলাকায়। উল্লেখ্য, আরামবাগ মহকুমা কৃষি প্রধান এলাকা। আরামবাগ, গোঘাট, খানাকুল ও পুরশুড়া চার বিধানসভাতেই ব্যাপক মাত্রায় ধানের চাষ হয়। অধিকাংশ চাষীই সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করতে মুখিয়ে থাকেন। তবে খাদ্য দপ্তর জানিয়েছে, আপাতত আরামবাগ মহকুমায় ছ’টি সিপিসি থেকে ধান কেনা হবে। তাছাড়া সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমেও ধান কেনা চলবে। ফাইল চিত্র



