Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অ্যাম্বুলেন্সেই গাঁজা পাচার, গ্রেপ্তার ২

অ্যাম্বুলেন্সেই গাঁজা পাচার, গ্রেপ্তার ২
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: মঙ্গলবার ভোরে সামশেরগঞ্জের চকসাপুর মোড়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল একটা অ্যাম্বুলেন্স। জাতীয় সড়কে কর্তব্যরত পুলিসকে দেখে অ্যাম্বুলেন্সটি হঠাৎ গতি বাড়িয়ে দেয়। তাতেই সন্দেহ হয়। গাড়িটির পিছু ধাওয়া করে পুলিস। বেশকিছুটা ধাওয়া করে অ্যাম্বুলেন্সটিকে আটক করে। তল্লাশি চালাতেই চোখ কপালে ওঠে পুলিসের। অ্যাম্বুলেন্সে থাকা কয়েকটি বস্তা থেকে প্রচুর পরিমাণে গাঁজা উদ্ধার হয়। তারপরেই অ্যাম্বুলেন্সেরচালক ও খালাসিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ধৃতদের নাম যথাক্রমে অনুপ সূত্রধর ও আদিত্য দাস। তাদের মধ্যে প্রথমজনের বাড়ি আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়ায়। অপর যুবকের বাড়ি শিলিগুড়িতে। পুলিসের চোখে ধুলো দিতে এই পথ অবলম্বন করে পাচারকারীরা। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের বুধবার বহরমপুর আদালতে পেশ করা হবে।
Advertisement
এপ্রসঙ্গে ফরাক্কার এসডিপিও আমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযান চালিয়ে দেড় কুইন্টাল গাঁজা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের জেরা করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, অ্যাম্বুলেন্সে রোগী না থাকলেও সেটি দ্রুত গতিতে বেরিয়ে যাচ্ছিল। পুলিসের সন্দেহ হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সেটিকে থামানোর চেষ্টা করে। অ্যাম্বুলেন্সের চালক তাতে আরও গতি বাড়িয়ে দেয়। সেটির পিছু ধাওয়া করে পুলিস। তারপরেই অ্যাম্বুলেন্সেটি সাইরেন বাজিয়ে পুলিসকে পিছু ছেড়ে দেওয়ার বার্তা দেয়। অ্যাম্বুলেন্সেটি গতি না কমালে পুলিসের একটি টিম জাতীয় সড়কে ড্রাম রেখে গতিরোধ করে। চকসাপুর মোড়ে গাড়িটিকে ধরতে সক্ষম হয় পুলিস। অ্যাম্বুলেন্সে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচটি বড় প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার হয়। বস্তাগুলি সিটের তলায় লুকানো ছিল। বস্তা কাটতেই গাঁজা বেরিয়ে আসে। মোট ১৫০ কেজি গাঁজা বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস। 
পুলিস জানিয়েছে, ওই গাঁজা জলপাইগুড়ি থেকে নদীয়া নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। পুলিসের চোখে ধুলো দিতেই অ্যাম্বুলেন্সে করে গাঁজা পাচারের চেষ্টা করেছিল ধৃতরা। যদিও তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় পুলিস। ইতিপূর্বে ও বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে মাদক পাচারের চেষ্টা করেছে কারবারিরা। পাচারকারীদের গ্রেপ্তারও করেছে পুলিস। তবে, অ্যাম্বুলেন্সে করে গাঁজা পাচারের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়াচ্ছে পুলিসের। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, অ্যাম্বুলেন্সটি জলপাইগুড়ি জেলাশাসকের অফিসের নামে রেজিস্ট্রেশন রয়েছে। সাধারণ মানুষকে জরুরি পরিষেবা দিতেই অ্যাম্বুলেন্সটি স্থানীয় একটি ক্লাবকে ডোনেট করা হয়। চালক সেটির অপব্যবহার করে তাতে গাঁজা পাচারের চেষ্টা করেছিল বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিসের। ইতিপূর্বে ও চালকের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ