নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: স্রেফ মনের জোরকে পুঁজি করেই মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসল বলরামপুর লালিমতী বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী অঞ্জলি সরেন। তার পরীক্ষার জন্য আগে থেকেই বিশেষ বন্দোবস্ত করে রাখে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। সেইমতো এদিন অ্যাম্বুলেন্সে করে তার পরীক্ষা কেন্দ্র চণ্ডীতলা শিক্ষা নিকেতনে পৌঁছয় অঞ্জলি। সেখানে তাকে স্ট্রেচারে করে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এভাবেই পরীক্ষা দেয় সে। এদিন তার খোঁজখবর নিতে পরীক্ষাকেন্দ্রে হাজির হয়েছিলেন খোদ বলরামপুর ব্লকের বিডিও সুপ্রিয় চৌধুরী।
Advertisement
প্রসঙ্গত, গত একুশে ডিসেম্বর টিউশন পড়ে সাইকেল নিয়ে মামাবাড়ি ফিরছিল সে। বলরামপুর চকবাজার এলাকায় একটি মালবাহী লরির সঙ্গে ধাক্কা লাগে সাইকেলের। দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয় অঞ্জলি। ডান পা পুরোপুরি ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। তার পায়ের অপারেশন হয়। অপারেশনের পর স্টিলের রড দিয়ে পা বেঁধে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। আগামী এক বছর ধরে তাকে এভাবেই থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাই তার পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে, অঞ্জলির পরিবারের লোকেরা চেয়েছিলেন, বাড়ি থেকেই যাতে তার পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। যদিও তাতে রাজি হয়নি পর্ষদ। বরং হাসপাতালে থেকে যাতে সে পরীক্ষা দিতে পারে, সেই ব্যবস্থাও করে দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তবে, তাতে রাজি হয়নি অঞ্জলি। পরিবর্তে, পরীক্ষাকেন্দ্রেই দৈনিক যাতায়াত করে যাতে সে পরীক্ষা দিতে পারে, সেই ব্যবস্থার জন্য আর্জি জানানো হয়। এদিন বিডিও সুপ্রিয় চৌধুরী বলেন, অঞ্জলি যাতে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা দিতে পারে, তার জন্য সবরকম সহযোগিতা করেছি আমরা। পরীক্ষা কেন্দ্রে আসা যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ও যাতে হেলান দিয়ে পরীক্ষা দিতে পারে, সেরকম বিশেষ শয্যার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। মনের জোরেই পরীক্ষা দিয়েছে ওই পরীক্ষার্থী।
অঞ্জলি সরেন। -ফাইল চিত্র
অঞ্জলি সরেন। -ফাইল চিত্র



