Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অ্যালোপ্যাথি প্র্যাকটিস আয়ুর্বেদ ডাক্তারের! নার্সিংহোমে রোগীর মৃত্যুতে বিক্ষোভ

অ্যালোপ্যাথি প্র্যাকটিস আয়ুর্বেদ ডাক্তারের! নার্সিংহোমে রোগীর মৃত্যুতে বিক্ষোভ
  • ৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমানের কেশবগঞ্জচটির একটি নার্সিংহোমে আয়ুর্বেদ চিকিৎসক অ্যালোপাথি চিকিৎসা করছেন। সেকারণে রোগীর চিকিৎসা ঠিকমতো হয়নি। তারজন্যই ৬০ বছর বয়সি এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার মৃতের পরিজনরা কেশবগঞ্জচটির ওই নার্সিংহোমের সামনে বিক্ষোভ দেখান। বর্ধমান থানার পুলিস গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, এক দালাল কাটোয়া হাসপাতাল থেকে ওই রোগীকে কেশবগঞ্জ চটির ওই নার্সিংহোমে নিয়ে আসে। সেখানে ঠিকমতো চিকিৎসা হয়নি। এক আয়ুর্বেদ চিকিৎসক অ্যালোপ্যাথি ওষুধ দিয়ে তাঁর চিকিৎসা করছিলেন। পূর্ব বর্ধমানের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, কোনও আয়ুর্বেদ চিকিৎসক অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা করতে পারেন না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়ার বাসিন্দা জামাল শেখ নামে ওই বৃদ্ধ কীটনাশক খাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে সেখানে এক দালালের যোগাযোগ হয়। তার পরামর্শে তাঁরা ওই প্রৌঢ়কে ৩১ডিসেম্বর রাতে কেশবগঞ্জচটির নার্সিংহোমে নিয়ে আসেন। মৃতর ছেলে সাদ্দাম শেখ বলেন, কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বাবাকে দেখছেন, তা বারবার ওদের কাছে জানতে চাই। তারা উত্তর এড়িয়ে যায়। যে চিকিৎসক দেখছিলেন তাঁকে দেখে প্রথম থেকেই সন্দেহ হচ্ছিল। পরে জানতে পারি, তিনি আয়ুর্বেদ চিকিৎসক। ভালো পরিষেবা পাওয়ার জন্য এখানে এসেছিলাম। কিন্তু উল্টো হয়েছে। 
পরিবারের আর এক সদস্য বলেন, রোগী ভর্তি হওয়ার পর ওরা একটা ইঞ্জেকশন কিনে আনতে বলে। সেটির দাম ওরা তিন হাজার টাকা বলে। সেকারণে আমরা বাইরে থেকে ইঞ্জেকশন কিনে আনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেটা ওরা করতে চায়নি। রোগী সকালেই মারা যায়। কিন্তু সকাল ১০টার সময়ও ডাক্তার বলেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা ভালো নেই। সেকথা শুনে এক আত্মীয় ওয়ার্ডে যান। তিনি সেখানে গিয়ে দেখেন, জামাল সাহেব মারা গিয়েছেন। বিল বাড়ানোর জন্য তাঁরা মৃতদেহ রেখে দিতে চেয়েছিল।
নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ অবশ্য গাফিলতির কথা মানতে চায়নি। তাদের দাবি, ওই রোগীর বয়স বেশি ছিল। বিষক্রিয়ায় অসুস্থ রোগীর শারীরিক অবস্থা যে কোনও সময় খারাপ হতে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগী দেখেছিলেন বলে কর্তৃপক্ষের দাবি। রোগীর আত্মীয়রা বলেন, কর্তৃপক্ষ চিকিৎসকের পরিচয় প্রথমে জানাতে চায়নি। অনেক পর তাঁরা নাম জানতে পারেন। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, তিনি আয়ুর্বেদ চিকিৎসক। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বহু নার্সিংহোমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। তারপরও তারা পরিবারের লোকজনের মগজ ধোলাই করে রোগীর চিকিৎসা করছে। সম্প্রতি নার্সিংহোমগুলির অব্যবস্থা নিয়ে বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান সরব হয়েছেন। তারপরও অবস্থার বদল হয়নি।
সম্পর্কিত সংবাদ