Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অযোধ্যার প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে পাইপলাইনে পৌঁছে গিয়েছে পানীয় জল, খুশি বাসিন্দারা

অযোধ্যার প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে পাইপলাইনে পৌঁছে গিয়েছে পানীয় জল, খুশি বাসিন্দারা
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: পাহাড়ি রাস্তায় কোথাও এক কিলোমিটার, কোথাও আবার তারও বেশি দূর থেকে জল আনতে হতো। ডাড়ি বা ছোটো ঝর্ণার জলই ছিল একমাত্র ভরসা। তীব্র গরমে বা বর্ষায় রাতের অন্ধকারে জল আনতে সমস্যায় পড়তে হতো গ্রামের মহিলাদের। হাতি সহ অন্যান্য বন্য জন্তুর আক্রমণের আশঙ্কা নিয়ে পানীয় জল আনতেই দিনের অনেকটা সময় চলে যেত। এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। পাইপলাইনে বাড়িতেই পানীয় জলের সংযোগ পেয়েছেন অযোধ্যা পাহাড়ের ভুঁইঘরা সহ প্রায় ১০টি গ্রামের বাসিন্দারা। স্বপ্নপূরণ হয়েছে বীরমণি-ফুলমণিদের। 
Advertisement
অযোধ্যা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ভুঁইঘরা গ্রাম। পাহাড়ের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র মার্বেল লেকের অদূরেই এই গ্রাম। শতাধিক আদিবাসী পরিবারের বসবাস গ্রামে। ওই গ্রামেরই বাসিন্দা বছর পঞ্চাশের গৃহবধূ বীরমণি বেসরা সোলার পাম্পের থেকে বাড়ির কাজের জন্য জল নিচ্ছিলেন। সেইসঙ্গে চোখে মুখে জল নিয়ে ক্লান্তি ধুয়ে ফেলছিলেন। বীরমণি বলেন, বিয়ে হয়ে গ্রামে আসার পর থেকে বছরের পর বছর ধরে ডাড়ি থেকেই জল নিয়ে এসেছি। পাহাড়ি রাস্তায় জল নিয়ে আসতে কষ্ট হতো। কিন্তু কিছু উপায় ছিল না। পরে গ্রামে টিউবওয়েল হলেও অধিকাংশ সময় খারাপ থাকত। তবে গত প্রায় দেড় বছরে জলের কষ্ট ভুলে গিয়েছি। এখন গ্রামের পাশাপাশি বাড়িতেই জলের সংযোগ রয়েছে। 
খানিকটা দূরে দেওয়ালে মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ করছিলেন অঞ্জনা বেসরা। তিনি বলেন, বড় বড় শহরে শুনেছি পাইপ লাইনে বাড়িতে জল পাওয়া যায়। অযোধ্যা পাহাড়ের উপরের এই গ্রামে বাড়িতে জল পাওয়ার মতো স্বপ্ন দেখার সাহস করতে পারতাম না। তবে দিদির আমলে স্বপ্নপূরণ হয়েছে। বাড়িতেই জল পাচ্ছি। স্থানীয় বাসিন্দা রামেশ্বর কিস্কু বলেন, জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তর মার্বেল লেকের জল প্রকল্প থেকে ভুঁইঘরা ছাড়াও রাঙা, বাড়েলহর, টাঁড়পানিয়া, হাতিনাদা, জিলিংটাঁড়, জামঘুটু, বিদ্যাজারা, বারুয়াজারা সহ প্রায় ১০টি গ্রামে জল সরবরাহ হয়। অযোধ্যা পাহাড়ের প্রত্যন্ত এই গ্রামগুলিতে শুধু যে ওই জল প্রকল্প রয়েছে তাই নয়, গত কয়েক বছরে একাধিক সোলার পাম্পও হয়েছে। বাড়িতে জলের পাশাপাশি সোলার পাম্পগুলিতে পর্যাপ্ত জল থাকায় ডাড়ি থেকে আর জল আনতে হয় না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাহাড়ের বাসিন্দাদের এই উপহার দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ফুলমণি মান্ডি, বীরমণি মান্ডি বলেন, পানীয় জলের সমস্যা মিটে যাওয়াটা এই গ্রামে স্বপ্ন পূরণেরই সমান। এখন ঘরে ঘরে জল পাচ্ছি। তবে একদিন অন্তর জল পাওয়া যায়। ওইদিনই পাত্র ভরে রাখতে হয়। প্রত্যেকদিনই বাড়িতে জল পাওয়া গেলে আরও সুবিধা হবে। জলের সংযোগ পাওয়ার পর গ্রামের চেহারাটাই পাল্টে গেছে। পাল্টে গিয়েছে গ্রামের মহিলাদের নিত্যদিনের কাজের রুটিনটাও। 
সম্পর্কিত সংবাদ