কাঠমাণ্ডু: চারপাশে কাদা-মাটির পুরু স্তর। ধংসচিহ্ন ছড়িয়ে ইতিউতি। তার মাঝে বসে একটা কুকুর। সাদাকালো গায়ের রং। চুপচুপে ভিজে গা। গলায় আটকানো বেল্ট। একদৃষ্টে দূরে তাকিয়ে আছে সে। যেন কেউ আসবে, তার অপেক্ষায়। চেষ্টা করেও কেউ সরাতে পারছে না। এমনই ছবি ধরা পড়েছে নেপালের ত্রিশূলী বাজারে। প্রকৃতির তাণ্ডবে গোটা এলাকার চেহারা বদলেছে। কোথাও এতটুকু প্রাণের আলো নেই। সেখানে ঠায় বসে আছে এই কুকুর। নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করেই। উদ্ধারকারীদের অনুমান, কুকুরটি যেখানে অপেক্ষা করছে সেখানে নিশ্চয়ই কোনো বাড়ি ছিল। যে বাড়ির পোষ্য হিসাবে সে থাকত। এখন সবই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। হয়তো কুকুরটির মালিক বন্যার জলে ভেসে গিয়েছেন। কিংবা প্রাণ হাতে অন্যত্র সরে গিয়েছে গোটা পরিবার। সে কথা বোঝানি এই অবলা প্রাণী। তাই সে অপেক্ষায় রয়েছে। উদ্ধারকারী দলের সদস্য সুনীল তামাংয়ের কথায়, গত কয়েকদিন একই জায়গায় ঠায় বসে রয়েছে কুকুরটি। বিস্কুট বা খাবারের লোভ দেখালেও উঠে আসেনি। এমনকি ভারী যন্ত্রের শব্দেও এতটুকু প্রতিক্রিয়া দেখায়নি সে। উল্লেখ্য, নেপালের বন্যায় মানুষের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে গবাদি পশুদের। জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অসংখ্য কুকুর-বিড়ালকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে এই কুকুরটিকে চেষ্টা করেও সরানো যায়নি ধ্বংসস্থল থেকে।



