নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের কয়েকটি রাজ্যে বর্ষাকালীন বৃষ্টির পরিমাণ এখনও স্বাভাবিক। দক্ষিণবঙ্গ, ওড়িশার মতো কিছু জায়গায় দীর্ঘকালীন গড়ের থেকে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। কিন্তু দেশের একটা বড়ো অংশে বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। ফলে জুন মাস থেকে এখনও পর্যন্ত দেশে সার্বিকভাবে স্বাভাবিকের থেকে ১৪ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। বর্ষার মরশুম শুরু হওয়ার আগে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছিল, এল নিনো এবং আরও কয়েকটি কারণে এবার দেশে দীর্ঘকালীন গড়ের ৯৪ শতাংশ বা তারও কম বৃষ্টি হতে পারে। আপাতত দেখা যাচ্ছে, ওই গড়ের ৮৬ শতাংশ বৃষ্টি হয়েছে সার্বিকভাবে। আবহাওয়া দপ্তরের রেকর্ড ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, ২০০২ সালে দেশে বর্ষার বৃষ্টি স্বাভাবিকের থেকে ২০.৯ শতাংশ কম হয়েছিল। সেটাও ছিল এল নিনোর সময়। ২০১৫ সালে এল নিনো বছরে স্বাভাবিকের থেকে ১২.৭ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছিল। ২০০৯ সাল এল নিনোর বছর ছিল। সেবারও গড়ের থেকে ১৮.৩ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছিল। আপাতত যা পরিস্থিতি, তাতে দেখা যাচ্ছে, ২০১৫ সালের পর দেশে সার্বিকভাবে এত কম বৃষ্টি হয়নি।
আবহাওয়া দপ্তরের রেকর্ড বলছে, ১৯০১ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত দেশে ১৬ বার বর্ষাকালে গড়ের তুলনায় বৃষ্টি কম হওয়ার পরিমাণ ১০ শতাংশ বা তার বেশি ছিল। ১৯৭২ সালে সর্বকালীন কম বৃষ্টি (গড়ের থেকে ২২ শতাংশ কম ) হয়েছিল। ওই বছরও ছিল এল নিনো। ১৯৫১ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত মোট ১৭টি বর্ষাকালে এল নিনো পরিস্থিতি ছিল। তবে এর মধ্যে বেশ কয়েক বছর বৃষ্টি স্বাভাবিক বা তার বেশি ছিল। যেমন, ১৯৫৩ সালে এল নিনো বছরে দেশে গড়ের থেকে ১০ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছিল। ১৯৫৭ সালে একই পরিস্থিতিতে ০.৫ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছিল।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এল নিনো হলেই যে খুব কম বৃষ্টি হবে, তা নয়। ভারত মহাসাগরের ডাইপোল পরিস্থিতি এবং আরও কয়েকটি বিষয় দেশে বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রিত করে। এল নিনো বছরে ডাইপোল পজিটিভ থাকার কারণে অনেকবার বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এবার কিন্তু ডাইপোল এখনও নিউট্রাল অবস্থায় আছে। পাশাপাশি এল নিনো আরও শক্তিশালী হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, এল নিনো এলেও পশ্চিমবঙ্গে যে তার বিশেষ প্রভাব পড়বে না, তা আগেই বলা হয়েছিল। সেটাই হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, সাধারণত এল নিনোর ফলে মৌসুমি বায়ুর প্রবাহ দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে বেশি প্রভাবিত হয়। এবারও সেটাই হচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসেও রাজ্যে বৃষ্টির গতি ভালো। নিম্নচাপ সরে গেলেও বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে শনিবার রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি হয়েছে।