রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: ভোট বড় বালাই। তার উপর এসআইআরের জন্য এবার পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। তাই ভোট দেওয়ার জন্য পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফিরতে অনুরোধ জানাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলি।
রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: ভোট বড় বালাই। তার উপর এসআইআরের জন্য এবার পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। তাই ভোট দেওয়ার জন্য পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফিরতে অনুরোধ জানাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলি।
বিজেপি ও তৃণমূল তাদের চা শ্রমিক সংগঠনের বাগান ইউনিট কমিটিগুলিকে দিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার অনুরোধ করে ফোন করাচ্ছে। এদিকে, ভিনরাজ্যে কাজ করা শ্রমিকদের একাংশ ইতিমধ্যে বাড়ি ফিরতে শুরুও করেছে। কারণ সময় মতো ট্রেনের টিকিট নাও মিলতে পারে। শোনা যাচ্ছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের ট্রেনের টিকিট কেটে দিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলি।
আলিপুরদুয়ার জেলায় পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রে ৬২টি চা বাগান। সবচেয়ে কম চা বাগান ফালাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রে। জেলা শ্রমদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে জেলার ৬২টি বাগান থেকে ভিনরাজ্যে কাজে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা ১৫ হাজার ৭৫২। চা বাগানের বাইরে অসংগঠিত ক্ষেত্রে জেলার আরও ২০ হাজারের বেশি শ্রমিক ভিনরাজ্যে নির্মাণ শ্রমিক হিসাবে কাজ করছেন। বেশিরভাগই কাজ করছেন দক্ষিণের তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরল ও তেলেঙ্গানায়। উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতেও জেলার বেশকিছু শ্রমিক কাজ করেন। ২৩ তারিখ প্রথম দফার ভোট। হাতে আর এক সপ্তাহ। এখন না ফিরলে পরে ট্রেনের টিকিট মিলবে না। তাই পরিযায়ী শ্রমিকদের অনেকেই ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি ফিরতে শুরু করে দিয়েছেন।
তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রবীন রাই বলেন, প্রতিটি বাগানে আমাদের সংগঠনের ইউনিট কমিটি আছে। ভোট দিতে বাড়ি ফেরার জন্য ইউনিট কমিটিগুলি পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। বাগানে মাদার সংগঠনের বুথ কমিটিগুলিকেও পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপির চা শ্রমিক সংগঠন বিটিডব্লুইউয়ের সাধারণ সম্পাদক রাজেশ বারলা বলেন, ভোটের জন্য আমরাও পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফিরতে অনুরোধ করছি। কিছু ক্ষেত্রে শ্রমিকদের ট্রেনের টিকিটও করে দেওয়া হচ্ছে।
পরিযায়ী শ্রমিকদের মোবাইল নম্বর এখন রাজনৈতিক দলগুলির হাতে। সেই তালিকা ধরে ফোন করা হচ্ছে তাঁদের। এসআইআরের কারণে এবার পরিযায়ীদের ভোট প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছেই খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভোটার তালিকা থেকে বহু মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। অতীতে দেখা গিয়েছে ভোট দিতে ভিনরাজ্যের কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরতে শ্রমিকদের একটা অংশের মধ্যে অনীহা কাজ করত। এর কারণ কর্মস্থল থেকে ফেরা এবং ফের যাওয়ার যাতায়াতের খরচ। কিন্তু এবার পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যেও এসআইআর নিয়ে একটা ভীতি জাঁকিয়ে বসেছে। ভোট না দিলে পরে যদি তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়া হয়, সেই ভয়ে রয়েছেন অনেকে।
জেলার রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই কারণে এবার জেলার পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রেই ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।