Bartaman Logo
২১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গড়িয়াহাটে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের লকার থেকে উধাও ১ কেজিরও বেশি সোনার অলংকার

গড়িয়াহাটে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের লকার থেকে রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেল এক কেজি সোনার অলংকার। কীভাবে ব্যাংকের ভিতর থেকে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গড়িয়াহাটে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের লকার থেকে উধাও ১ কেজিরও বেশি সোনার অলংকার
  • ২১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গড়িয়াহাটে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের লকার থেকে রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেল এক কেজি সোনার অলংকার। কীভাবে ব্যাংকের ভিতর থেকে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। লকারের মালকিন গয়না চুরির ব্যাপারে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও তা নেওয়া হয়নি বলে দাবি। শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। আদালতের নির্দেশে ব্যাংকের দুই কর্তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ, চুরি সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে গড়িয়াহাট থানা। বিষয়টি নিয়ে আলাদা করে খোঁজখবর করছে লালাবাজার।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঢাকুরিয়া এলাকার বাসিন্দা বাসবী সুর রায়ের গড়িয়াহাটের অনিল মিত্র রোডে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে ২০ বছরের বেশি সময় ধরে লকার রয়েছে। সেখানে তিনি বংশানুক্রমিকভাবে পাওয়া সোনার অলংকার রেখেছিলেন। তার সঙ্গে আছে অল্প কিছু রুপোর গয়না। লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট তিনি লকার খোলার পর খেয়াল করেন, সেখানে সোনার অলংকার কিছুই নেই। অল্প কিছু রুপোর গয়না পড়ে রয়েছে। সব মিলিয়ে সেখানে ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের সোনার গয়না ছিল। ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে তারা দীর্ঘ সময় নিয়ে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানের পর জানিয়ে দেয়, লকার থেকে কোনো চুরির ঘটনা ঘটেনি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে গড়িয়াহাট ও বালিগঞ্জ  থানায় যান। কোনো থানা ব্যাংকের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিতে চায়নি বলে তাঁর দাবি। উলটে তারা দাবি করে, ব্যাংকের লকার থেকে এভাবে গয়না চুরি করা সম্ভব নয়। বাধ্য হয়েই তিনি আলিপুর আদালতের দ্বারস্থ হন। শেষ পর্যন্ত আদালত গড়িয়াহাট থানাকে কেস রুজু করার নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী থানা প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ, চুরি সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে। এফআইআরে ব্যাংকের চিফ রিজিওনাল ম্যানেজার ও ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের নাম রয়েছে। তদন্তে নেমে লকারের মালকিনের সঙ্গে কথা বলেছেন পুলিশ অফিসাররা। তাঁরা ব্যাংকের ওই সময়কার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করছেন। তা দেখে বোঝা যাবে, কে ভিতরে ঢুকে ওই লকার খুলেছিল। লকার রুমের ‘মাস্টার কি’ যাঁর কাছে থাকে, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে বলে খবর। তদন্তকারীদের অনুমান, অভিযোগকারিণী লকার খোলার সময় কোনো কিছুর উপর চাবি রেখে থাকতে পারেন। এই সুযোগে ব্যাংকের ভিতরের কেউ সেই চাবির হাই রেজেলিউশন ছবি তুলে নকল চাবি তৈরি করে থাকতে পারেন বলে অনুমান করছেন তদন্তকারীরা। 
একইসঙ্গে লকারের চাবির উপরিভাগে তিন বা চার অক্ষরের কোড খোদাই করা থাকে। যে কেউ এই কোড লিখে নিয়ে অনলাইনে ফ্যাক্টরি রিপ্লেসমেন্ট চাবি অর্ডার করতে পারে। এক্ষেত্রে সেরকম কিছু হয়েছিল কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ