সংবাদদাতা, কাঁথি: কালবৈশাখীর ঝড়ে ডুবে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ভেসেল। বছর ঘুরলেও কাঁথির রসুলপুর নদীর উপর বোগা(খেজুরি)-রসুলপুর ফেরিঘাটে ভেসেল পরিষেবা ফের চালু হল না। ফলে এখনও ভুটভুটি নৌকায় প্রাণ হাতে করেই যাত্রীরা নদী পারাপার করছেন। ফলে তাঁদের দুর্ভোগের শেষ নেই। কাঁথি ও খেজুরির বাসিন্দারা অবিলম্বে ভেসেল পরিষেবা চালুর দাবি তুলেছেন। মহকুমা শাসক সৌভিক ভট্টাচার্য বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভেসেল চালুর চেষ্টা চলছে।
গত বছর ২৫মার্চ কালবৈশাখীর ঝড়বৃষ্টিতে ভেসেলে জল ঢুকে সেটি ডুবে যায়। ভাসমান পল্টুন জেটিও জল ঢুকে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। গ্যাংওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে গ্যাংওয়ে মেরামত ও নতুনভাবে রং করা হয়। পল্টুন জেটিও নতুনভাবে স্থাপিত হয়েছে। ভাঙাচোরা ভেসেলটি সরিয়ে নদীর পাড়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু নতুন করে আর ভেসেল পরিষেবা চালু হয়নি। রসুলপুর নদীর একদিকে খেজুরির বোগা, অন্যদিকে কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের রসুলপুর। নদী পেরিয়ে খেজুরির বহু মানুষ মহকুমা শহর কাঁথি সহ নানা এলাকায় যান। কাঁথি ও তার আশপাশের এলাকার মানুষও নানা কাজে খেজুরি যান। খেজুরির বেশ কয়েকটি হাইস্কুল রয়েছে। কাঁথি থেকে অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা নদী পেরিয়ে সেখানে যান। খেজুরি-২ বিডিও অফিস, খেজুরি থানা সহ বিভিন্ন সরকারি অফিসেও অনেকেই যান। সবমিলিয়ে, রোজ হাজারের বেশি মানুষ নদী পারাপার করেন।
বোগা-রসুলপুর ফেরিঘাটে কিছু বছর আগেও ভুটভুটি নৌকাতেই নদী পারাপার হতো। পরে জলপথ ও পরিবহণ দপ্তরের উদ্যোগে ভেসেল পরিষেবা চালু হয়। ‘এম ভি সমব্যথী’ নামে এই ভেসেল পরিষেবার ফলে যাতায়াতে খুব সুবিধা হতো। কিন্তু বছরখানেক ধরে ভেসেল পরিষেবা বন্ধ থাকায় ভুটভুটি নৌকায় বিপজ্জনকভাবে যাত্রীরা যাতায়াত করছেন।
যাত্রী পরিবহণের জন্য দু’টি ভুটভুটি রয়েছে। তাতে যাত্রীদের সঙ্গে বাইক-সাইকেল সহ অন্য জিনিসপত্র তোলা হয়। এর আগে একাধিকবার নদীতে মানুষ কিংবা বাইক-সাইকেল পড়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে প্রাণহানি হয়নি। কবে নতুন ভেসেল পরিষেবা চালু হবে, সেই অপেক্ষায় যাত্রীরা। খেজুরির মুরলীচকের বাসিন্দা সুমননারায়ণ বাকরা, কটকা-দেবীচকের বাসিন্দা দিব্যেন্দু দাস বলেন, ভুটভুটি নৌকায় পারাপারে মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। অবিলম্বে ভেসেল পরিষেবা চালু করা হোক। জেলা পরিষদের মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ কর্মাধ্যক্ষ তরুণ জানা বলেন, আমরা রসুলপুর নদীর উপর ভেসেল পরিষেবা চালু করার বিষয়ে জেলাশাসক সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।