সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের দ্বিতীয় দফায় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। শনিবার তা প্রকাশ্যে আসতেই যেন ক্ষোভের আগুনে ঘি পড়ে! সাপ্লিমেন্টারি এই তালিকা প্রকাশ হতেই কার্যত শোরগোল পড়ে যায় রামপুরহাটের নারায়ণপুর এলাকায়। অভিযোগ, বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। যার মধ্যে অধিকাংশই মহিলা ভোটার। কোনো কোনো বুথে বিচারাধীন ভোটারের ৫০ শতাংশের নামই বাদ গিয়েছে। এই বাদের তালিকায় রয়েছেন এলাকার ভিলেজ পুলিশও। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এলাকার তৃণমূল নেতৃত্ব।
দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নারায়ণপুর অঞ্চলের ছবিটা এককথায় ভয়াবহ। বহু ভোটারের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। যার মধ্যে অধিকাংশই মহিলা ভোটার। নারায়ণপুর অঞ্চলে বুথ সংখ্যা ২১। বিচারাধীন ভোটার ছিলেন ১ হাজার ২৫৯ জন। ১ নম্বর বুথে বিচারাধীন থাকা ২৩৩ জনের মধ্যে ৮৩ জনের নাম ভোটার তালিকায় উঠেছে। বাকিদের ভবিষ্যৎ ঝুলে রয়েছে। ২ নম্বব বুথে কোনও বিচারাধীন ভোটার ছিলেন না। ৩ নম্বর বুথে ৭ জনের মধ্যে ৬ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ৪ নম্বরে ৩ জন বিচারাধীন ছিলেন। তিনজনকেই বাদ দেওয়া হয়েছে। আবার ১৪ নম্বরে ১২৭ জনের মধ্যে ৭২ জনকে ও ১৫ নম্বরে ১৪৫ জনের মধ্যে ৭২ জন বাদ পড়েছেন। ওই বুথের বাদ পড়া ভোটারের মধ্যে মামন রেজা নামে এক ভিলেজ পুলিশও রয়েছেন। তিনি বলেন, বাবার নাম নাজিমুদ্দিন শেখ। ২০০২ এর তালিকায় দেখি বাবার নাম নাজেম শেখ হয়ে গিয়েছে। আমিও এসআইআর ফর্মে বাবার নাম নাজেম শেখ লিখেছিলাম। হেয়ারিংয়ের নোটিস পেয়ে যাবতীয় নথি জমা করি। কিন্তু বাবা, মা ও দুই বোনের নাম তালিকায় উঠে গেলেও আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
বাদ পড়া ভোটাররা নিজেদের বৈধ ভোটার বলে দাবি করছেন। স্বভাবতই কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন তাঁরা। পানসি বিবি, হাফসা খাতুনরা বলেন, আমরা কেউই রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি নই। তারপরও ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে দিয়ে আমাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হল। পরিবারের সবার নাম উঠল, অথচ প্রয়োজনীয় সরকারি নথি দেওয়ার পরও কেন বাদ পড়লাম বুঝতে পারছি না।
তৃণমূলের নারায়ণপুর অঞ্চল সভাপতি মিলন শেখ বলেন, সাপ্লিমেন্টারি তালিকা দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে এটা বিজেপির পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। যেহেতু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মহিলারা বেশি ভোট দেন, তাই এই অঞ্চলের বাদ পড়া তালিকায় ৭০ শতাংশ মহিলা ভোটার রয়েছেন। সংশোধন প্রক্রিয়া কত স্বচ্ছতার সঙ্গে হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
যদিও বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক শান্তনু মণ্ডল বলেন, এসআইআরের সঙ্গে বিজেপি দলের কোনও যোগসূত্র নেই। কমিশনের অংশ ডিএম, এসডিও, বিডিও, বিএলও সবাই রাজ্যে সরকারের আধিকরিক। স্বাভাবিকভাবেই এর দায় রাজ্য সরকারের। দাদপুর গ্রামে তৃণমূলের দেওয়াল লিখন। -নিজস্ব চিত্র