Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রানিতলার নির্মলচর: পদ্মার গর্ভে বিলীন আউটপোস্ট, নজরদারি নিয়ে সমস্যায় বিএসএফ

পদ্মার ভাঙনে তলিয়ে গেল সীমান্ত চৌকি। সোমবার রানিতলা থানার আখরিগঞ্জ পঞ্চায়েতের নির্মলচরের জিরো পয়েন্টে পাতিবোনা রাজাবাড়ির বিএসএফ ওপি পয়েন্ট বা ওয়াচ টাওয়ারটির এই দশা হয়।

রানিতলার নির্মলচর: পদ্মার গর্ভে বিলীন আউটপোস্ট, নজরদারি নিয়ে সমস্যায় বিএসএফ
  • ২৬ আগস্ট, ২০২৫ ১৫:০৮
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: পদ্মার ভাঙনে তলিয়ে গেল সীমান্ত চৌকি। সোমবার রানিতলা থানার আখরিগঞ্জ পঞ্চায়েতের নির্মলচরের জিরো পয়েন্টে পাতিবোনা রাজাবাড়ির বিএসএফ ওপি পয়েন্ট বা ওয়াচ টাওয়ারটির এই দশা হয়। এর ফলে সীমান্তে সুরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। কারণ এতদিন বিএসএফ জওয়ানরা ওই ওপি পয়েন্ট থেকে সীমান্তে নজরদারি চালাত। ভগবানগোলা-২ ব্লকের বিডিও অনির্বাণ শাহু বলেন, যে টাওয়ারটি ভাঙনে তলিয়ে গিয়েছে আসলে ওটি বিএসফের সোলার ইউনিট ছিল। তার মাথার উপর ওয়াচ টাওয়ার করা হয়েছিল। টাওয়ারটি ভেঙে পড়ায় সীমান্তে নজরদারিতে সমস্যা হতে পারে। তবে সীমান্তে সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য শীঘ্রই বিএসএফের কর্তারা পদক্ষেপ করবেন। এই ঘটনা নিয়ে বিএসএফের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

Advertisement

পদ্মানদী ভগবানগোলা থানার চরলবণগোলা এলাকায় ভাগ হয়ে গিয়েছে। মূল অংশটি প্রবাহিত হয়েছে রানিতলা থানা এলাকার আখেরিগঞ্জ পঞ্চায়েতের  পাতিবোনা, মদনঘাট, ঘোষপাড়া মাঝপাড়ার দিকে। অপরটি শাখা নদী হিসেবে প্রবাহিত হয়েছে একই পঞ্চায়েতের নশিপুর, খড়িবোনার দিকে। পাতিবোনা রাজাপুর সীমান্তের জিরো পয়েন্ট। ভৌগোলিক কারণে পাতিবোনা সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই মদনঘাট আউট পোস্টের অধীনে থাকা পাতিবোনা রাজাপুর এলাকায় ওয়াচ টাওয়ার নদী ভাঙনে তলিয়ে যাওয়ায় সীমান্তের নিরাপত্তা প্রশ্ন চিহ্নের মুখে পড়ল। এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা। তাঁরা ওয়াচ টাওয়ারের বিদ্যুৎ সংযোগ ছিন্ন করেন। সোলার প্যানেল ও অন্যান্য সরঞ্জাম তলিয়ে যায়। এই বিষয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করে আখেরিগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সাহিন শেখ বলেন, এই ঘটনা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে আখেরিগঞ্জের ভাঙন অব্যাহত। কিন্তু ভাঙন রোধে কোনও কাজ হয় না। পদ্মা নদীর ওপারে রাজশাহী জেলা। ওদিকে ভাঙন রোধের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ায় নদীর প্রবাহিত জল ধাক্কা খেয়ে আঘাত হানে আখেরিগঞ্জ এলাকায়। তাতেই ওই এলাকা বার বার ভাঙনের কবলে পড়ে বলেও জানান ওই পঞ্চায়েত প্রধান। এদিকে নতুন ভাবে পাতিবোনা এলাকায় ভাঙন দেখা দেওয়ায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। পঞ্চায়েতের ১ নম্বর সংসদ অর্থাৎ পাতিবোনা এলাকায় প্রায় আটশো ভোটারের বাস। বর্তমানে জনবসতি থেকে ছশো মিটার দূরে পদ্মা নদী। যে কোনও সময় ভাঙনের মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন চরের বাসিন্দারা। পঞ্চায়েত সদস্য দীপালী মণ্ডল বলেন, ইতিমধ্যে বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি পদ্মা গিলে খেয়েছে। ভাঙনের ফলে মানুষ কৃষক থেকে দিন মজুর, পরিযায়ী শ্রমিকে পরিণত হয়েছেন। কিন্তু ভাঙন রোধে কেন্দ্র সরকার কোনও পদক্ষেপ করছে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ