নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘জিতনা হ্যায় পাজি। ছোড়না মাত।’ ইস্ট বেঙ্গল তাঁবুর সামনে আনোয়ার গাড়ি থেকে নামতেই ছেঁকে ধরলেন সমর্থকরা। মোহন বাগানকে হারিয়ে শিল্ড জয়ের আবদার মুহূর্তে পৌঁছে গেল দাবিতে। মুচকি হেসে কোলাপসিবল গেট ঠেলে ভিতরে ঢুকে পড়লেন গিল, আনোয়াররা। ডার্বির আগেই জাতীয় দল ফেরত ফুটবলারদের পেয়ে আরও চাঙ্গা লাল-হলুদ ব্রিগেড। কিন্তু মেগা ম্যাচে হাবাস কি তাঁদের খেলাবেন? মহারণের আগে লেসলি ক্লডিয়াস সরণিতে এটাই কোটি টাকার প্রশ্ন। ব্রাজিল ও উরুগুয়ের বিরুদ্ধে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছেন আনোয়াররা। পর্যাপ্ত রিকভারি টাইম পাননি কেউই। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইএফএ শিল্ড ফাইনাল। তার উপর ১৩ অক্টোবর এসিএল টু’য়ের যুদ্ধ। ঠাসা সূচির মধ্যে ফুটবলারদের তরতাজা রাখাই আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের চ্যালেঞ্জ। তবে স্প্যানিশ কোচ অন্য ধাতুতে গড়া। তাঁর মগজাস্ত্রে ভর করেই ডুরান্ড কাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে চেকমেট করেছিল ইস্ট বেঙ্গল। শিল্ড ফাইনালেও হাবাসের কোর্টে বল রাখছে থিঙ্কট্যাঙ্ক।
বুধবার বিকেলে একই সময়ে প্রস্তুতি সারল দুই প্রধান। যুবভারতীতে মিগুয়েলদের নিয়ে ব্যস্ত রইলেন পানোস। হাবাসের বেসক্যাম্প তখন কয়েক কিলোমিটার দূরের ইস্ট বেঙ্গল মাঠ। গেটে ঢাউস তালা। এরিয়ান গ্যালারির দিকেও কড়া নজরদারি। ক্লোজড ডোর অনুশীলনে কার্যত কার্ফু নামিয়ে দিলেন লাল-হলুদ কর্তারা। গতবার মোহন বাগানের কাছে টাই-ব্রেকারে হেরে শিল্ড হাতছাড়া হয়েছিল। চলতি মরশুমে কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে এবার ডাগ-আউটে বিকল্প প্রচুর। এটাই হাবাস ব্রিগেডের সবচেয়ে বড়ো অ্যাডভান্টেজ। কোন অস্ত্রে ডার্বি জেতার ছক কষছেন হাবাস? উত্তর একটাই— দৌড়, দৌড় এবং দৌড়। ডাগ-আউটে রোহিত দানু, বিষ্ণু, বিপিন সিংয়ের মতো দ্রুতগতির উইং -হাফ। তাঁদের দিয়ে ভঙ্গুর শুভাশিসের উপর চাপ বাড়াতে তৈরি ইস্ট বেঙ্গল। পাশাপাশি একে লোবা ও লুকাসের অন্তর্ভুক্তি আপফ্রন্টের ভেদশক্তি অনেকটাই বাড়িয়েছে। শেষ চারে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডকে ৭-২ গোলে বশ মানিয়েছিল লাল-হলুদ বাহিনী। পরিবর্ত হিসাবে মাঠে নেমেও জাল কাঁপান লোবা ও লুকাস। আইভরি কোস্টের লোবা বল হোল্ড করতে পারেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁদের ব্যবহারের ভাবনা রয়েছে থিঙ্কট্যাঙ্কের। পাশাপাশি মোহন বাগানকে রোখার কৌশলও তৈরি। মাঝমাঠে মিগুয়েলকে জোনাল মার্কিংয়ে বন্দি রাখতে বদ্ধপরিকর জিকসনরা। স্ট্রাইকার লি আরউইনের সঙ্গে জিভুলিচের ডুয়েল জমে যেতে পারে। তবে ইস্ট বেঙ্গলের চিন্তার কারণ দুই উইং-ব্যাক। ড্র্যাজিচ, ছাংতেদের তাঁরা কীভাবে রুখতে পারেন, তার উপর অনেকটাই নির্ভরশীল শিল্ডের ভাগ্য।