সংবাদদাতা, কান্দি: বিষের স্বাদ কেমন হতে পারে? এই প্রশ্নই কিশোরের মনে ঘুরপাক খেত। তাই কৌতূহল মেটাতে ৪২ দিনে অন্তত পাঁচবার বিভিন্ন ধরণের বিষের স্বাদ গ্রহণ করে সে। শেষবার সেই কৌতূহলই মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিল ওই কিশোরকে। ঘটনাটি বড়ঞা থানার সুন্দরপুর গ্রামের। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম নিতাই বাগদি (১৫)। সুন্দরপুর বাগদিপাড়ায় তার বাড়ি। ওই কিশোর স্থানীয় সুন্দরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। বুধবার রাতে কিশোরের দেহ বাড়িতে ফিরতেই এলাকায় শোক নেমে আসে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার বিকেলে ওই কিশোর নিজের বাড়িতেই কীটনাশক খেয়ে ফেলে। এর ঘণ্টাদুয়েক পর কিশোরের শরীর টলমল করতে থাকে। পরিবারের লোকজন এমন হওয়ার কারণ জানতে চাইলে কিশোর জানায়, সে বাড়িত মজুত থাকা ঘাস মারার কীটনাশক খেয়ে ফেলেছে। বিষের স্বাদ কেমন. এই কৌতূহল মেটানোর জন্য সে বিষ খেয়ে ফেলেছিল।
গুরুতর অসুস্থ কিশোরকে প্রথমে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয় তাকে। সেখানেই বুধবার ভোরে মৃত্যু হয় তার। বুধবার সন্ধ্যার দিকে দেহ আসে বাড়িতে। কিশোরের কাকা গৌরাঙ্গ বাগদি বলেন, ‘বাড়িতে কোন অশান্তি ছিল না। ভাইপো একেবারে শান্ত স্বভাবের ছিল। তবে, ও নিজের মুখেই বলেছে বিষের স্বাদ জানতে বারবার কীটনাশক খেয়েছে। কখনও জিভে আঙুল ঠেকিয়ে স্বাদ নিয়েছে। আবার কখনও অল্প পরিমাণ খেয়েও দেখেছিল।’
মৃতের দাদু সুরেশ মাঝি বলেন, ‘বর্ধমানের ডাক্তারবাবুরা জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে নাতি তাঁদের বলেছে, গত ৪২ দিন ধরে অন্তত পাঁচবার বিভিন্ন ধরণের বিষ খেয়েছিল। সবটাই কৌতূহল মেটানোর জন্য।’ মৃতের দিদিমা অঙ্কিতা বাগদি বলেন, ‘ও যে বিষ খেয়ে টেস্ট করত সেটা বাড়ির কেউ জানত না। হাসপাতালে ভর্তি করার পর সেসব জানতে পারি। শান্ত ছেলে বলে ওকে পাড়ার সকলেই ভালবাসত।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অত্যন্ত দুঃস্থ পরিবারের কিশোর ছিল নিতাই। বাবা হরিপদ বাগদি পেশায় চাষি। নিজের জমি নেই। অন্যের জমিতে চাষ করেন। বাড়ি বলতে খড়ের চালের দু’টি ঘর। নিতাইয়ের একটি ছোট বোনও রয়েছে। কিশোরের বাবা জানান, দোষ আমাদেরও ছিল। ছেলে কী করছে, এটা ভালোভাবে নজরে রাখা উচিত ছিল। গত দেড়মাস ধরে ছেলে বিষের স্বাদ গ্রহণের চেষ্টা করে গিয়েছে। আর আমরা জানতেও পারিনি।
কান্দির এসএমওএইচ সৌমিক দাস বলেন, ‘এটা বয়ঃসন্ধি সময়কালে অভিভাবকদের সচেতন না থাকার কারণেই হয়েছে বলে মনে হয়। কিশোর-কিশোরীদের এই বয়সে অভিভাবকদের সচেতন হয়ে সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুর মতো মেলামেশা করা দরকার। যেটা এক্ষেত্রে হয়নি বলেই মনে হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওই কিশোরের ক্ষেত্রে এটাও হতে পারে আগে যে সকল বিষের স্বাদ গ্রহণ করে, সেগুলি আদৌ বিষই ছিল না কিংবা কম ক্ষতিকর ছিল। শেষেরটা হয়তো কড়া কীটনাশক ছিল।’ মৃত কিশোর। -ফাইল চিত্র