Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

‘আমাদেরও ভাষা’, দেশভাগের পর প্রথম পাকিস্তানের শিক্ষাঙ্গনে সংস্কৃত, লাহোরের বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু কোর্স

সম্প্রতি এই ধ্রুপদী ভাষায় উপর একটি কোর্স চালু করেছে লাহোর ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস (এলইউএমএস

‘আমাদেরও ভাষা’, দেশভাগের পর প্রথম পাকিস্তানের শিক্ষাঙ্গনে সংস্কৃত, লাহোরের বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু কোর্স
  • ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ইসলামাবাদ: দেশভাগের পর এই প্রথম। পাকিস্তানের শিক্ষাঙ্গনে ফিরল সংস্কৃত। সম্প্রতি এই ধ্রুপদী ভাষায় উপর একটি কোর্স চালু করেছে লাহোর ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস (এলইউএমএস)। সম্প্রতি ধ্রুপদী ভাষা নিয়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ওয়ার্কশপের আয়োজন হয়েছিল। সেখানে পড়ুয়া ও গবেষকরা সংস্কৃত নিয়ে ব্যাপক উত্সাহ প্রকাশ করেন। সংস্কৃত ভাষার ওই কোর্সে বিখ্যাত ‘মহাভারত’ টেলিভিশন সিরিজের আইকনিক থিম সং ‘হরি কথা সংগ্রাম কি’র উর্দু ভাষ্যও যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে মহাভারত ও গীতাকেও ওই কোর্সে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবনাচিন্তা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে, এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পাকিস্তানেরও অংশ। তাই একে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরমানি সেন্টার ফর ল্যাঙ্গুয়েজেস অ্যান্ড লিটারেচারের ডিরেক্টর ডঃ আলি উসমান কাসমি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংস্কৃতে লেখা প্রচুর প্রাচীন বই রয়েছে। কিন্তু সেগুলি এখন অবহেলায় পড়ে রয়েছে। 

Advertisement


তাঁর বক্তব্য, ‘১৯৩০ সালে গবেষক জে সি আর উলনার তালপাতায় লেখা প্রচুর পুঁথি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের তালিকায় নথিভুক্ত করেছিলেন। কিন্তু ১৯৪৭ সালের পর পাকিস্তানের কোনও গবেষক সেই সব পুঁথি খুলেও দেখেননি। শুধু বিদেশি গবেষকরা সেগুলি ব্যবহার করেন।’ কাসমির আশা, আগামী ১০-১৫ বছরে পাকিস্তানের গবেষকরাও গীতা ও মহাভারত নিয়ে গবেষণা করবেন।


পাকিস্তানের মাটিতে মহাকাব্য ও প্রাচীন সাহিত্যকে ফের প্রাসঙ্গিক করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন লাহোরের ফরম্যান ক্রিশ্চিয়ান কলেজের সমাজবিদ্যার অধ্যাপদক ডঃ শাহিদ রশিদ। তাঁর বক্তব্য, ‘ধ্রুপদী ভাষাগুলির মধ্যে মানবজাতির জন্য প্রচুর জ্ঞান নিহিত রয়েছে। আমি প্রথমে আরবি ও ফার্সি শিখেছি। তারপর সংস্কৃত শিখতে শুরু করি। সংস্কৃত ব্যাকরণ শিখতেই এক বছর লেগেছে। সংস্কৃত একসময় গোটা উপমহাদেশের ভাষা ছিল।  পাণিনির মতো সংস্কৃত ব্যাকরণবিদ এখানেই জন্মেছেন। বর্তমান পাকিস্তানের মাটিতেই প্রচুর সাহিত্য রচিত হয়েছিল। সংস্কৃত কোনও নির্দিষ্ট এলাকার নয়, এই ভাষা আমাদেরও।’ রশিদের মতে, ভারতের হিন্দু ও শিখরা যদি আরবি শেখেন এবং পাকিস্তানের মুসলিমরা যদি সংস্কৃত শেখেন, তাহলে তা গোটা দক্ষিণ এশিয়ার পক্ষে মঙ্গলজনক হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ