Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অতিরিক্ত পণের দাবি না মেটানোয় বধূকে বালিশ চাপা দিয়ে নৃশংস খুন

অতিরিক্ত পণের দাবি না মেটানোয় বধূকে বালিশ চাপা দিয়ে নৃশংস খুন
  • ২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: বধূকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। শনিবার রাতে রঘুনাথগঞ্জ থানার গঙ্গাপ্রসাদ গ্রামে এঘটনা ঘটে। মৃতার নাম সারবিন খাতুন(২০)। পুলিস দেহ ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুরে হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। রবিবার সেখানেই তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত হয়। মৃতার বাপের বাড়ির তরফে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
Advertisement
ওই বধূর ছ’মাসের পুত্রসন্তান রয়েছে। তাঁর বাপের বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই অতিরিক্ত পণের দাবিতে ওই বধূকে মারধর করা হতো। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অত্যাচারেই বধূর এই পরিণতি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে বাড়ি ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
পুলিস জানিয়েছে, রঘুনাথগঞ্জ থানার বহড়া গ্রামের সারবিন খাতুনের সঙ্গে দু’বছর আগে গঙ্গাপ্রসাদ গ্রামের সরিফ শেখের সম্বন্ধ করে বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথম কয়েকদিন ঠিকঠাক ছিল। অভিযোগ, তারপর নানা অছিলায় ওই বধূকে মারধর করা হতো। বাপের বাড়ি থেকে টাকাপয়সা আনার জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হতো। প্রথমদিকে ওই বধূ বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে স্বামীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু বারবার টাকা আনতে বলা হয়। টাকা না আনলেই মারধর করা হতো। তাঁর স্বামী সংসারের কোনও দায়িত্ব পালন করত না।
বধূর বাপের বাড়ির অভিযোগ, শনিবার গভীর রাতে সারবিনের শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন আসে। ফোনে বলা হয়, গভীর রাতে ঘরের মধ্যে ওড়নায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ওই বধূর দেহ উদ্ধার হয়েছে। খবর পেয়ে ওই রাতেই সারবিনের শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছন তাঁরা। গিয়ে দেখেন, ওই বধূর দেহ মেঝেতে শোয়ানো রয়েছে।
মৃতার কাকা বলেন, ভাইঝির উপর খুবই অত্যাচার করা হতো। টাকা না আনলে মারধর করত। স্ত্রী ও ছেলের প্রতি কোনও আগ্রহ ছিল না ওর স্বামীর। খুব কষ্ট করেই বিয়ে দিয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত ওর যে এই পরিণতি হবে-তা ভাবতে পারিনি।
সম্পর্কিত সংবাদ