Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ওটির পর গ্রিন করিডর করে নবতিপর বৃদ্ধাকে আনা হল সদর হাসপাতালে

ওটির পর গ্রিন করিডর করে নবতিপর বৃদ্ধাকে আনা হল সদর হাসপাতালে
  • ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: গ্রিন করিডর করে প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রমের পর সদর হাসপাতাল ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হল জটিল অস্ত্রোপচার হওয়া ৯৫ বছরের বৃদ্ধাকে। পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজের সদর হাসপাতাল ক্যাম্পাসে সিসিইউ বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে ওই বৃদ্ধাকে। মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রোগীর পরিবার। 
Advertisement
জানা গিয়েছে, পুরুলিয়া শহর সংলগ্ন লাগদা গ্রামের বাসিন্দা বছর ৯৫ এর বিভারানি মজুমদার। তাঁর চোয়ালে টিউমার থাকায় চিকিৎসকরা বিভিন্ন পরীক্ষার পরামর্শ দেন। তাতেই মারণ রোগ ধরা পড়ে। কিন্তু ওই বৃদ্ধার বয়সজনিত কারণে অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে ছিলেন চিকিৎসকরা। পরে মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকদের একটি টিম অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। শল্য চিকিৎসকদের ওই টিমে ছিলেন পবন মণ্ডল, সোমনাথ বিশ্বাস এবং দেবদীপ গঙ্গোপাধ্যায়। চিকিৎসক পবন মণ্ডল বলেন,  একশো বছরের দোরগোড়ায় থাকা মানুষের বয়সজনিত কারণে যেসব সমস্যা আসে, সেগুলি অতিক্রম করে ডানদিকের গালে অস্ত্রোপচার করা হয়। ওই রোগীকে সিসিইউতে রাখার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু হাতোয়াড়া ক্যাম্পাস থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে থাকা সদর হাসপাতাল ক্যাম্পাসে সিসিইউর ব্যবস্থা রয়েছে। মাঝে রেলগেটে রয়েছে। তাই পুলিস প্রশাসনের কাছে গ্রিন করিডর করে রোগীকে দ্রুত নিয়ে আসার ব্যবস্থা করার আবেদন করা হয়েছিল। পুলিস প্রশাসন সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে দ্রুত রোগীকে সদর হাসপাতাল ক্যাম্পাসে সিসিইউতে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করে। বর্তমানে রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। 
ওই রোগীর আত্মীয় মিনু চট্টোপাধ্যায় বলেন, ডানদিকের গালে একটা টিউমার ছিল। পরে সেটা ক্যান্সার হিসেবে ধরা পড়ে। হাতোয়াড়া ক্যাম্পাসে পরে ভর্তি করা হয়। সেখানে এদিন অস্ত্রোপচার হয়। তারপর দ্রুত রোগীকে সিসিইউতে দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু হাতোয়াড়া থেকে সদর হাসপাতাল পর্যন্ত রাস্তায় রেলগেট থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় যানজট থাকে। ওই রাস্তা দিয়ে রোগীকে নিয়ে আসার মতো সাহস করতে পারছিলাম না। তারপরই চিকিৎসকরা পুলিস প্রশাসনের সাহায্যে গ্রিন করিডর করে কয়েক মিনিটের মধ্যে নিয়ে আসেন। পুরুলিয়ার মতো জায়গাতে সাধারণ বৃদ্ধা রোগীর জন্য মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে চিকিৎসক এবং পুলিস প্রশাসন যে এতটা সাহায্য করবে, তা ভাবতেও পারিনি।
সম্পর্কিত সংবাদ