নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: এসআইআর ফর্ম পূরণ করতে প্রয়োজন হয় না ওটিপি’র। কিন্তু তারপরেও ফর্ম ফিলাপের পর সাধারণ মানুষের মোবাইল নম্বর নিয়ে পাঠানো হচ্ছিল ওটিপি। আর এই ঘটনাকে ঘিরে শুক্রবার সন্ধ্যায় উত্তেজনা ছড়ায় দত্তপুকুরের কদম্বগাছি এলাকায়। ফর্ম পূরণকারীদের ঘিরে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান এলাকার মানুষ। পরে পুলিশ এসে আটজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। কদম্বগাছি স্টেশন এলাকায় ফর্ম ফিলাপ করাতে আসা লোকজনের গলায় ঝোলানো ছিল ‘লোক বন্ধু পার্টি’র আই কার্ড। হাতে ল্যাপটপ। আর এতে এলাকাজুড়ে সন্দেহ তৈরি হতে সময় লাগেনি। কারণ সাধারণ মানুষ বুঝে উঠতে পারছিলেন না, নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত ফর্ম পূরণ করতে ওটিপি কেন লাগবে? কোন সরকারি বা পরিচিত সংস্থার নামও ব্যানারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল না। ফলে ক্রমেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে স্থানীয়দের মধ্যে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফর্ম ফিলাপ করতে গেলে প্রথমে দিতে হচ্ছিল মোবাইল নম্বর। এরপর সেই নম্বরে আসা ওটিপি চাইছিলেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এটি দেখে বহু মানুষ আশঙ্কায় পড়েন যে, ব্যক্তিগত তথ্য বা ফোন নম্বর ব্যবহার করে কোনও অনৈতিক কাজ করা হতে পারে। সন্দেহ বাড়তেই এলাকাবাসী আটজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। তারা দাবি করে, দিল্লি থেকে এসে গ্রামে গ্রামে ঘুরে এসআইআর ফর্ম ফিলাপের কাজ করছেন। কিন্তু এলাকাবাসীর সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়, যখন দেখা যায়, ৮ জনের গলায় ঝোলানো আইকার্ডে স্পষ্ট, তারা কোনও সরকারি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত নয়। তাদের ল্যাপটপে ফর্ম ফিলাপের প্রক্রিয়াটিও ছিল অস্বচ্ছ। কেন তারা এখানে, তার সঠিক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় উত্তেজনা চরমে ওঠে। পরে স্থানীয় মানুষরা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই আটজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা অর্পিতা দেবনাথ, সুধাংশু মন্ডল বলেন, ওরা এসআইআর ফর্ম পূরণ করছিল। কিন্তু তারপর মোবাইল নম্বর চেয়ে ওটিপি পাঠিয়েছে। আমরা নম্বর দিয়ে দিই। কিন্তু বুঝতে পারছি না প্রতারকদের খপ্পরে পড়ব কি না! বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকার মানুষ তা রুখে দেয়। এ বিষয়ে লোক বন্ধু পার্টির বাংলার সাধারণ সম্পাদক সোমা চক্রবর্তী বলেন, আমরা গিয়েছিলাম মানুষের সাহায্য করতে। আর যে ওটিপির কথা বলা হচ্ছে, সেটি কোনও প্রতারণার নয়। মূলত পার্টিকে তথ্য দিতে হচ্ছে, ঠিক কতজনের ফর্ম পূরণ করলাম। তার জন্যই এই ওটিপি। এ নিয়ে বারাসত পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার অতীশ বিশ্বাস বলেন, এলাকার মানুষের কাছে অভিযোগ পেয়ে আটজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে, ওটিপির বিষয়টি জানা নেই। নিজস্ব চিত্র



