Bartaman Logo
২৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ওটিপি কাণ্ড: ধৃতদের সঙ্গে পাক অফিসারের যোগ, তথ্য পেলেন গোয়েন্দারা

টাকার বিনিময়ে ওটিপি বিক্রি কাণ্ডে মুর্শিদাবাদ থেকে ধৃত সুমন শেখের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল রানা নামে এক আইএসআই অফিসার।

ওটিপি কাণ্ড: ধৃতদের সঙ্গে পাক অফিসারের যোগ, তথ্য পেলেন গোয়েন্দারা
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা: টাকার বিনিময়ে ওটিপি বিক্রি কাণ্ডে মুর্শিদাবাদ থেকে ধৃত সুমন শেখের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল রানা নামে এক আইএসআই অফিসার। পাকিস্তানে বসেই সে গোটা কাজটি চালাচ্ছিল। এমনকি বেশকিছু ভয়েস মেসেজও পাঠিয়েছে সে। সুমনের মোবাইল ঘেঁটে এই তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। রানার আসল পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

Advertisement

মুর্শিদাবাদ থেকে বেঙ্গল এসটিএফের হাতে ধরা পড়ে জুহেব শেখ ও সুমন শেখ। তারা সিমের ওটিপি পাকিস্তানে বিক্রি করছিল বলে অভিযোগ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ঘেঁটে গোয়েন্দারা জেনেছেন, তারা পাকিস্তানে ওটিপি পাঠিয়েছে একাধিকবার। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে অ্যাকাউন্টের সূত্রে তাদের সঙ্গে একজনের পরিচয় হয়। ওই ব্যক্তি জানায়, ট্রাভেলিংসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে তাদের একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলার প্রয়োজন পড়ে। সেই কারণে তারা বিভিন্ন লোকের কাছে ওটিপি কিনে থাকে। সিমপিছু ভালো টাকা দেয় তারা। আসলে এক আইএসআই অধিকর্তাই যে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ভুয়ো নামে প্রোফাইল খুলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, তা ওই দুজন বোঝেনি বলে দাবি করেছে। এজন্যই নাকি তারা টাকার লোভে ওটিপি বেচতে রাজি হয়। 
গোয়েন্দারা আরো জেনেছেন, তাদের নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ আসে। সেখানেই এই ওটিপি পাঠাতে বলা হয়েছিল। জানা যাচ্ছে, ওই হোয়াটসঅ্যাপটি আবার ভারতীয় নম্বর ব্যবহার করেই খোলা হয়েছিল। ওই কারণে দুজনের কেউই ধরতে পারেনি যে, ওটিপি চলে যাচ্ছে আইএসআই কর্তার কাছে। পাক গুপ্তচর সংস্থার ওই অফিসার একাধিকবার ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কথা জানায়। ওইসঙ্গে আরো বেশি করে ওটিপি পাঠাতে বলে। ধৃত দুই অভিযুক্ত সেটাই করছিল বলে খবর। 
তদন্তে আরো উঠে এসেছে, ওই আইএসআই অফিসার নিজেকে রানা নামে পরিচয় দিয়েছিল। গোয়েন্দাদের সন্দেহ এ তার ছদ্মনাম। তবে গোয়েন্দাদের সন্দেহ, রানা আরো অনেকের কাছ থেকেই ওটিপি কিনছে। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে বিভিন্ন নামে প্রোফাইল খুলেছে সে। সেখান থেকেই বিভিন্নজনের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়ে তারপর ওটিপি বিক্রির টোপ দিচ্ছে। ভারতে রানার অনেক এজেন্ট রয়েছে বলেও গোয়েন্দাদের সন্দেহ। তাদের মাধ্যমেও পাকিস্তানে বসে থাকা ওই আইএসআই কর্তা ওটিপি জোগাড় করছে। এদেশে বিচরণকারী আইএসআই চরদের মাধ্যমে রানার পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ