Bartaman Logo
১৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

অন্য মধুসূদন

তুমি সব দিক ভালো করে ভেবে দেখেছ, গুপ্ত?’ আস্তে আস্তে মাথা নাড়লেন মধুসূদন।

অন্য মধুসূদন
  • ৩ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজা ভট্টাচার্য

Advertisement


তুমি সব দিক ভালো করে ভেবে দেখেছ, গুপ্ত?’ আস্তে আস্তে মাথা নাড়লেন মধুসূদন। দুঃখের বিষয় মধুসূদন নামটি উচ্চারণ করতে ডাঃ হেনরি গুডিভ ব্যর্থ হয়েছেন বহু চেষ্টার পরেও। বাধ্য হয়ে বয়সে প্রায় সাত বছরের বড়ো শিষ্যকে তিনি পদবির মাধ্যমেই ডাকেন ইংরেজি রীতিতে। ‘ভেবে দেখেছি, স্যার। কাউকে না কাউকে তো এগিয়ে আসতেই হবে। সব কাজই কেউ না কেউ শুরু করে। আমি ধরে নিয়েছি, এই কাজটির সূত্রপাত ঈশ্বর আমার হাত দিয়ে ঘটাবেন বলে স্থির করে রেখেছেন।’ মধুসূদন বললেন স্বচ্ছন্দ ইংরেজিতে। এই ভাষাটি তাঁকে শিখতেই হয়েছে, কারণ বাংলা ভাষায় পাশ্চাত্য চিকিৎসাশাস্ত্রের বই একটিও নেই। 
প্রবাদপ্রতিম খ্যাতির অধিকারী চিকিৎসক হেনরি গুডিভ এই মুহূর্তে কলকাতার সর্বাধিক জনপ্রিয় মানুষদের অন্যতম, যদিও তাঁর মুখটি হঠাৎ দেখলে চমকে উঠতে হয়। চার বছর আগে, রামপুরে থাকার সময়, একদিন বাঘ শিকার করতে গিয়ে তাঁর চোয়ালে একটা বুলেট এসে বিঁধেছিল। সেই থেকে তাঁর মুখের পেশিগুলো স্থায়ীভাবে অসাড় হয়ে গিয়েছে, মুখটিও বিকৃত হয়ে গিয়েছে। মনের ভাবকে মুখভঙ্গির মাধ্যমে প্রতিফলিত করার ক্ষমতা হারিয়েছেন তিনি। আচমকা দেখলে মনে হয়, যেন মুখোশ পরে রয়েছেন গুডিভ। 
আর সেই কারণেই তাঁর সামনে বসে থাকা ছাত্ররা আঁচ করতে পারছে না, কী সাংঘাতিক ঝড় বয়ে যাচ্ছে এই মুহূর্তে তাঁর মনের মধ্যে। গুডিভ যতখানি চিকিৎসক, তার চেয়ে ঢের বেশি শিক্ষক। চিকিৎসা করার চাইতে একজন সার্থক চিকিৎসক তৈরি করতে পারাটা তাঁর কাছে অনেক বেশি আনন্দের বিষয়। 
সেই কাজটা যে তিনি ঠিকঠাক করে উঠতে পারেননি এতদিন, তার একটাই কারণ। হিন্দুরা শব ব্যবচ্ছেদ করে না। মৃতদেহের উপর অস্ত্রাঘাত করা নাকি তাদের শাস্ত্রে নিষিদ্ধ। এদিকে সঠিকভাবে চিকিৎসা করতে গেলে মানুষের শরীরের ভিতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্বন্ধে স্বচ্ছ ধারণা না থাকলেই নয়! আর সেই ধারণা তৈরি করার একটাই উপায়। শব ব্যবচ্ছেদ। 
আজ তাই তৈরি হয়েই ক্লাসে এসেছিলেন ডাঃ গুডিভ। এই মুহূর্তেও তাঁর সামনের টেবিলটাতে শোয়ানো রয়েছে একটি মৃতদেহ। এতদিন প্রধানত কাঠ বা মোমের মূর্তি দিয়ে অ্যানাটমি শেখানোর কাজ চালিয়ে নিয়েছেন গুডিভ। আজ সরাসরি একটি মরদেহ সামনে রেখেই তিনি বোঝাচ্ছিলেন শব ব্যবচ্ছেদের প্রয়োজনীয়তা। আর তাঁর কথার শেষে নিস্তব্ধ ক্লাসরুমের স্তব্ধতা ভেঙে উঠে দাঁড়িয়েছেন মধুসূদন। বলেছেন, ‘স্যার, আমি রাজি আছি। আপনি যদি অনুমতি দেন, তাহলে আমি শব ব্যবচ্ছেদ করতে চাই।’ 
গুডিভের মুখ দেখে তাঁর উত্তেজনা আঁচ করা যায় না। আপাত-নির্বিকার ভঙ্গিতে তিনি একবার তাকালেন ক্লাসে উপস্থিত অন্য ছাত্রদের দিকে। তারপর সেই প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করলেন, যা আমরা শুরুতেই শুনতে পেয়েছি। 
মধুসূদনের দৃঢ় উত্তর শোনার পরেও দ্বিধা কমল না গুডিভের। এইবার তাঁর দৃষ্টি ঘুরে গেল সামনে বসে থাকা ছাত্রদের দিকে। বস্তুত, মধুসূদন সে অর্থে এখন আর মেডিকেল কলেজের ছাত্র নন, বরং নতুন বাড়িতে কলেজ উঠে আসার পর যে দু’জন ভারতীয় চিকিৎসক শিক্ষক হিসেবে কলেজে যোগ দিয়েছেন, মধুসূদন তাঁদের অন্যতম। কিন্তু একজন শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও অ্যানাটমি বিষয়ে তাঁর জ্ঞান খুবই ভাসা ভাসা। সেই কারণটা বুঝতে অসুবিধা হয় না। কিছু মনুষ্যেতর প্রাণী, অর্থাৎ কুকুর বা বিড়াল এবং মোম বা কাঠের তৈরি মূর্তির উপর ছুরি চালিয়ে বাস্তবে এটা বোঝা সম্ভব নয়— একটি মানুষের শরীরের ভিতরে কোথায় কোন কলকবজা আছে। সম্প্রতি অবশ্য বাথগেট কোম্পানির মাধ্যমে দু’খানা কঙ্কাল আনানো হয়েছে, যার ফলে মানবদেহের অস্থিবিন্যাস কেমন হয়, সেটা স্পষ্ট বুঝতে পেরেছে ছাত্ররা। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরেই ডঃ গুডিভ যা তাঁর ছাত্রদের বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন, আজ যেন মধুসূদন সে’কথাই স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন। কাউকে না কাউকে তো যেকোনো কাজ শুরু করতেই হয়! 
গুডিভ বুঝতে পারলেন, ক্লাসরুমে বসে থাকা অন্য ছাত্রদের মুখ উত্তেজনায় লাল হয়ে উঠেছে। উমাচরণ শেঠ, দ্বারকানাথ গুপ্ত, রাজকৃষ্ণ দে বা নবীনচন্দ্র মিত্র— প্রত্যেকেরই মুখ থমথম করছে। এই ক্লাসে বসে থাকা প্রতিটি ছাত্র জানে, শব ব্যবচ্ছেদের পর সমাজ একেবারে খড়্গহস্ত হয়ে উঠবে। আত্মীয়স্বজনেরা, বন্ধুবান্ধবরা হয়তো চরম শত্রু হয়ে উঠবে। এমনিতেই মেডিকেল কলেজের নতুন বাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোঁড়া হয়। এই খবর একবার রাষ্ট্র হয়ে গেলে যে কী ভয়ংকর প্রতিক্রিয়া হবে, তা এখন আঁচ করাও মুশকিল। 
‘কিন্তু ডাঃ গুডিভ, আমি তৈরি হয়েই আসরে নেমেছি।’ স্থির গলায় বললেন মধুসূদন, ‘চরক বা সুশ্রুত যে আজ থেকে তিন হাজার বছর আগেই মানবদেহের ব্যবচ্ছেদ করেছিলেন, তার স্পষ্ট উল্লেখ আছে আমাদের শাস্ত্রে। সমাজপতিদের মুখ তো পুরানো নিদর্শন দেখলেই বন্ধ হয়ে যায়। রামমোহন রায়ের কাণ্ড দেখলেন না? শাস্ত্র থেকেই উদ্ধার করে আনলেন এমন শ্লোক, যাতে বোঝা যায়, সতীদাহ অশাস্ত্রীয়।’ 
‘তাতে তো সমাজের রাগ কিছু কমেনি, পণ্ডিতমশাই!’ বলল রাজকৃষ্ণ।
‘সেই রাগকে রামমোহন গ্রাহ্যই করেননি। দ্বারকানাথ ঠাকুর উলটে মেডিকেল কলেজের জন্য পরপর তিন বছর দু’হাজার টাকা করে স্কলারশিপ দেবেন বলে ঘোষণা করেছেন। দিন বদলে যাচ্ছে হে রাজকৃষ্ণ! একঘরে হওয়ার ভয়ে যদি ঘর বন্ধ করে বসে থাকি, তাহলে আমাদের পূর্বপুরুষেরা যে রাস্তাগুলো তৈরি করেছিলেন, সেগুলো যে ক্রমে ঝোপজঙ্গলে ঢেকে যাবে!’ 
দ্বারকানাথ গুপ্ত বললেন, ‘যথার্থ বলেছেন পণ্ডিতমশাই। কে জানে, হয়তো এই দেশেই প্রথম শব ব্যবচ্ছেদ হয়েছিল। আর আজ আমরাই তার বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে দাঁড়িয়েছি, কারণ তাতে নাকি ধর্মের অপমান হয়! অথচ তিন হাজার বছর আগে মহাজ্ঞানী সুশ্রুত বা চরকের কাজে ধর্মের অসম্মান হয়নি।’ 
‘কারণ ধর্ম তখন জ্যান্ত ছিল।’ তেতো গলায় বললেন মধুসূদন‌। তারপর আবার তিনি ফিরে দাঁড়ালেন ডাঃ গুডিভের দিকে, ‘গত ছ’মাস ধরে আমি নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি। কিন্তু এখন অবশেষে আমি মনস্থির করতে পেরেছি। আপনি এবং ডাঃ ব্রামলি যদি অনুমতি দেন, তাহলে শব ব্যবচ্ছেদ করতে আমার আপত্তি নেই। বরং আমি মুখিয়ে রয়েছি কাজটা করার জন্য।’ 
একটা লম্বা নিঃশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়ালেন ডাঃ গুডিভ। তিনি বুঝতে পারছেন, ইতিহাসের রাস্তায় একটা মোড় আসতে চলেছে। সেই ক্রান্তিকালের দায়ভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে এগিয়ে এসেছেন মধুসূদন। এইবার গুডিভের দায়িত্ব পালন 
করার পালা। 
শীতকাল ছাড়া কলকাতায় শব ব্যবচ্ছেদ করা সম্ভব নয়। কাজেই আরও কয়েকটা মাস কেটে গেল অধীর অপেক্ষায়। 
১০ জানুয়ারি, ১৮৩৬। মেডিকেল কলেজের পিছনের দিকে প্রায় চুপিসারে এগিয়ে চললেন গুডিভ। তাঁকে অনুসরণ করে চলেছেন তাঁর সহকর্মী পণ্ডিত মধুসূদন গুপ্ত, তাঁর পিছনে কাঁপা পায়ে আসছে ছাত্রেরা। তাদের মুখে প্রচ্ছন্ন উত্তেজনা। গুডিভের মুখ যথারীতি নির্বিকার, চোখে এক অজানা দীপ্তি। শুধু মধুসূদনের দৃঢ় পদক্ষেপে চাঞ্চল্যের চিহ্ন মাত্র নেই। 
আজ কঠোর নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে মেডিকেল কলেজের নতুন বাড়িটি। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সব ক’টি দরজা। এই কাজের সঙ্গে যাদের সরাসরি সম্পর্ক নেই, এমন কাউকে সংবাদ দেওয়া হয়নি। শুধু বাঙালি ছাত্রেরা নয়, মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষও জানেন, বহু যুগ ধরে জমে থাকা এক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করতে চলেছেন তাঁরা। কাজেই নিশ্ছিদ্র গোপনীয়তা দরকার বইকি! 
এইবার এই ছোট্ট দলটি এসে দাঁড়াল বন্ধ একটা গুদামঘরের দরজার সামনে। ডাঃ গুডিভ কয়েক সেকেন্ড চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে হাতের মৃদু ধাক্কায় খুলে দিলেন লোহার দরজাটা। ফাঁকা ঘরের ঠিক মাঝখানে একটি বড় লম্বাটে টেবিল। তার উপর শোয়ানো রয়েছে একটি মৃতদেহ। 
নিঃশব্দে ঘরে ঢুকলেন গুডিভ। তাঁকে অনুসরণ করলেন একা মধুসূদন। দু’জনেই গিয়ে দাঁড়ালেন টেবিলের পাশে। 
অন্য ছাত্ররা অবশ্য ঘরে ঢুকল না। সাহস পাচ্ছে না তারা। তীব্র উত্তেজনায় গলা শুকিয়ে গেছে তাদের। দ্রুত সরে গিয়ে তারা চোখ রাখল জানলার ঝিলিমিলিগুলোয়। তারা জানে, তাদের প্রিয় শিক্ষক, প্রবাদপ্রতিম খ্যাতির অধিকারী চিকিৎসক শ্রীমধুসূদন গুপ্ত আজ ইতিহাস সৃষ্টি করতে চলেছেন। 
প্রায় ছয় মাস ধরে আজকের দিনটির জন্য মধুসূদনকে তৈরি করেছেন গুডিভ। নতুন করে বলার কিছুই নেই। একমুহূর্তের জন্য গুরু ও শিষ্যের দৃষ্টি মিলিত হল। গুডিভ সামান্য মাথা নাড়লেন, যেন অন্তিম সম্মতি জানালেন প্রিয়তম শিষ্যকে। আর কী আশ্চর্য, এই প্রথম তাঁর খেয়াল হল, তাঁর নিজের হাত দুটো অল্প অল্প কাঁপছে। 
অথচ পাশে রাখা পাত্রটি থেকে যখন ছুরি তুলে নিলেন মধুসূদন, তখন মনে হল— সেই হাত যেন ইস্পাতের তৈরি। তেমনই দৃঢ়, তেমনই অকম্পিত। 
মুহূর্তের জন্য থেমে থেকে একটা লম্বা নিঃশ্বাস নিলেন মধুসূদন। তারপর গুরুর শিক্ষা অনুযায়ী লম্বালম্বিভাবে চিরে দিলেন মৃতদেহের বুকটা। 
আর এইবার বাইরে থেকে শোনা গেল একটা অদ্ভুত শব্দ। অনেকে মিলে একসঙ্গে রুদ্ধ নিঃশ্বাস ফেললে যেমন শব্দ হয়, তেমন একটা ‘আহহহ্!’ ধ্বনি শোনা গেল। বোঝাই যাচ্ছে, জানলায় চোখ রেখে দাঁড়িয়ে থাকা ছাত্ররা এতক্ষণ নিঃশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করছিল এই মুহূর্তটার জন্য। এক ইতিহাসের মুহূর্ত সৃষ্টির জন্য। 
অদ্ভুতভাবে, মধুসূদন ফিরেও তাকালেন না সেদিকে। ক্ষিপ্র নিপুণ হাতে তিনি শব ব্যবচ্ছেদ করে চললেন। ডাঃ গুডিভ ঘন ঘন মাথা নেড়ে চলেছেন, বোঝাই যাচ্ছে, মধুসূদন নিখুঁতভাবে পালন করে চলেছেন তাঁর নির্দেশ। 
কাজ শেষ করে গুরু ও শিষ্য যখন বেরিয়ে এলেন, তখন উত্তেজিত অথচ চাপা জয়ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠল মেডিকেল কলেজের পিছনের গুদামঘরের উঠোনটা। 
‘যাও, এবার স্নান করে শুদ্ধ হয়ে নাও।’ হাসতে হাসতে বললেন গুডিভ। 
‘হ্যাঁ, স্নান করা দরকার।’ উত্তেজিত ভঙ্গিতে হাসলেন মধুসূদন নিজেও, ‘তবে শুদ্ধ হওয়ার জন্য নয়। আমি কোনো অশুদ্ধ কাজ করিনি। কিন্তু ঘামে ভিজে গেছে সর্বাঙ্গ।’ 
ডাঃ গুডিভ এতক্ষণ প্রাণপণে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। এখন আর তার প্রয়োজন বোধ করলেন না। সমস্ত ব্রিটিশ শিষ্টাচার জলাঞ্জলি দিয়ে দুই হাতে আলিঙ্গন করলেন বয়োজ্যেষ্ঠ ছাত্রকে। 
এর ঠিক আধ ঘণ্টা পরে হঠাৎ বারংবার তোপধ্বনিতে কেঁপে উঠল সেকালের কলকাতা। সোজা হয়ে বসে সকলে ভাবতে লাগলেন, হঠাৎ এই অসময়ে তোপ দাগা হচ্ছে কেন ফোর্ট উইলিয়াম থেকে? কোনো নতুন বড়োসাহেব এসে পৌঁছলেন বুঝি ভারতে? 
ক্রমে এই খবর রাষ্ট্র হয়ে গেল দাবানলের মতো। গুপ্ত পদবিধারী এক বৈদ্যরত্ন নাকি মড়া চিরেছে। কী সাংঘাতিক কাণ্ড! কোন জাতের মড়া, তার ঠিক নেই, তাকে ছুঁয়েছে এক উচ্চবংশের মানুষ! ছ্যা ছ্যা ছ্যা, জাতধম্ম আর কিছু রইল না! মধুসূদন 
গুপ্তকে একঘরে করা হোক, ওর ধোপা-নাপিত বন্ধ করা হোক। 
এতে অবশ্য ইতিহাসের রথের চাকা থেমে যায় না। এর মাত্র ১০ মাস পরে, ২৮ অক্টোবর আবার হল শব ব্যবচ্ছেদ। এবার ছুরি ধরলেন চারজন। প্রথম অস্ত্রাঘাত করলেন রাজকৃষ্ণ, তারপর একে একে উমাচরণ শেঠ, দ্বারকানাথ গুপ্ত আর নবীনচন্দ্র মিত্র। আরও ১৪ জন ছাত্র সেদিন ঘিরে দাঁড়ালেন ব্যবচ্ছেদের টেবিল। 
আর টেবিলের পাশে তৃপ্ত মুখে দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য দেখলেন স্বয়ং মধুসূদন গুপ্ত। এই মহান কাজের ভগীরথ। ভারতে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি প্রচলিত হওয়ার প্রথম পুরুষ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ