Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অটো ও টোটোর দাপটে পরিবহণ ব্যবসা লাটে, সিউড়ি-সাঁইথিয়া রুটে বাস কমে ঠেকল তিনে

অটো ও টোটোর দাপটে পরিবহণ ব্যবসা লাটে, সিউড়ি-সাঁইথিয়া রুটে বাস কমে ঠেকল তিনে
  • ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, সাঁইথিয়া:  অটো-টোটোর সংখ্যা এত বেড়ে গিয়েছে যে, কার্যত বন্ধের মুখে সিউড়ি-সাঁইথিয়া রুটের বেসরকারি বাস পরিষেবা। বছর দুয়েক আগে ওই রুটে বাসের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০টি। ২০২৪ এর বছর শেষে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে হাতে গোনা মাত্র ৩টি। বন্ধ হয়ে যাওয়া ওই রুটের কর্মচারী, কন্ডাক্টর, ড্রাইভার যেমন শেখ মানিক, আনন্দ, জামাল, উজ্জ্বলের মতো আরও অনেকে পেশা বদল করে নিতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ বসেছেন সব্জি নিয়ে, কেউ করছেন মাঠের কাজ, কেউ কেউ আবার রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ফেরি করছেন। বাস মালিকদের অভিযোগ, প্রতিদিন টোটো-অটোর সংখ্যা বাড়ছে, তাই সিউড়ি -সাঁইথিয়া রুটের বাস পরিষেবা কার্যত বন্ধের মুখে। জানা গেছে, বেলাগাম টোটোকে রাশ টানতে এবার উদ্যোগী হচ্ছে প্রশাসন। খুব তাড়াতাড়ি টোটোকে নথিভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।কর্মহীনদের দাবি, প্রশাসন থেকে পুরসভা সকলে জেনেও যেন চুপ। করোনা কালে বাস পরিষেবা বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। তারপর পরিষেবা স্বাভাবিক হলেও টোটো-অটোর দৌরাত্ম্যের ফলে সাঁইথিয়া রুটে সমস্ত বাস প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যে তিনটি বাস রয়েছে সেগুলিও বন্ধ হওয়ার মুখে।  বাস শ্রমিক সংগঠনের আইএনটিটিইউসির জেলা সম্পাদক শেখ বাবুলাল বলেন, সিউড়ি থেকে সাঁইথিয়ার দূরত্ব প্রায় কুড়ি কিলোমিটার। বছর দুয়েক আগে পর্যন্ত স্বল্প দূরত্বে প্রায় ৩০টি বাস চলত। কিন্তু এখন বাসের জায়গা দখল করে নিয়েছে টোটো-অটো। তাই বাসগুলি বন্ধ হয়ে গেছে। সেগুলিতে যাঁরা কাজ করতেন, বাধ্য হয়ে তাঁরা অন্যান্য পেশা বেছে নিয়েছেন।
Advertisement
জানা গেছে, কুড়ি-পঁচিশ টাকার বিনিময়ে সিউড়ি থেকে সাঁইথিয়া পৌঁছনো যেত। কিন্তু অটো-টোটোতে সেই ভাড়া বেশি লাগে। টোটো বা অটোগুলি যাত্রীদের কিছুটা দূরত্বে গিয়ে নামিয়ে দেয়। আবার টোটো পরিবর্তন করতে হয়। তারপর আবার অন্য টোটো করে সাঁইথিয়া পর্যন্ত যেতে হয়। কেউ অবশ্য  রিজার্ভ করলে সরাসরি টোটো সিউড়ি থেকে সাঁইথিয়া যায়। বীরভূম জেলা বাস মালিক সমিতির সহ-সম্পাদক তন্ময় পৈতন্ডী বলেন, টোটো-অটোর কারণে আমরা বাস মালিকরা ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। করোনা কালের পর থেকেই এদের দৌরাত্ম্যে আমাদের প্রায় ৩০টার মতো বাস বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি। যে দু’-তিনটে চলে, সেগুলো কার্যত যাত্রী ছাড়াই যাতায়াত করে। এরকম চললে,চালু বাসগুলিও আমাদের বন্ধ করে দিতে হবে। দুর্ভাগ্যের বিষয়, বাসের বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে মালিকদের বাস বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত এর ব্যবস্থা করা হোক।
এ বিষয়ে শহর টোটো ইউনিয়ন তথা বীরভূম জেলা আইএনটিটিইউসির সহ-সভাপতি রাজিবুল ইসলাম বলেন, এই বিষয়টা কিছুটা হলেও সত্যি। যদিও আমরা চাই না কারও রুজি রোজগারে আঘাত লাগুক। আমিও শুনেছি অনেকগুলি বাস বন্ধ হয়ে গেছে। খুব দ্রুত প্রশাসনের তরফে টোটোগুলিকে নিয়মের মধ্যে আনা হচ্ছে। আশা করছি সমস্যা মিটে যাবে।
সম্পর্কিত সংবাদ