Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অস্থির পরিস্থিতি বাংলাদেশে, চাল পাঠাতে রাজি নন ব্যবসায়ীরা

অস্থির পরিস্থিতি বাংলাদেশে, চাল পাঠাতে রাজি নন ব্যবসায়ীরা
  • ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: অস্থির পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে চাল পাঠাতে রাজি নয় ব্যবসায়ীরা। ওপার বাংলা থেকে অনুরোধ আসছে। কিন্তু এপার বাংলার ব্যবসায়ীরা ভরসা পাচ্ছেন না। বাংলাদেশের ভারত বিরোধী ভূমিকাও তাঁরা মানতে পারছেন না। এরাজ্যের ব্যবসায়ীরা বেঁকে বসায় বাংলাদেশে ভাতে টান পড়ার উপক্রম হয়েছে। সেদেশে কয়েক দিনে চালের দাম কেজি প্রতি সাত থেকে আট টাকা বেড়ে গিয়েছে। আগামী দিনে চালের দাম আরও বাড়বে বলে এপারের ব্যবসায়ীরা মনে করছেন। তাঁরা বলেন, কয়েক দিন আগে পর্যন্ত বাংলাদেশে ১৬৫৫ মেট্রিক টন চাল গিয়েছে। সেদেশে ব্যবসায়ীরা এখনও ৫০হাজার টন চাল আমদানি করার ছাড়পত্র পেয়েছে। কিন্তু তাদের সেই টার্গেট পূরণ হওয়া দুষ্কর হয়ে গিয়েছে। 
Advertisement
বর্ধমানের রাইসমিল মালিক সুব্রত মণ্ডল বলেন, মাঝে বাংলাদেশে চাল রপ্তানি বন্ধ ছিল। সেইসময় তারা মায়ানমার বা শ্রীলঙ্কা থেকে চাল এনেছিল। তাতে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেনি। চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে যায়। এরাজ্যের ব্যবসায়ীরা চাল না পাঠালে ওদের সমস্যা মিটবে না। বাংলা থেকে চাল নিয়ে যেতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের খরচ কম হয়। এখন সেদেশের পরিস্থিতি দেখে কেউই চাল পাঠাতে ভরসা পাচ্ছেন না। চাল পাঠানোর পর দাম পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। 
অপর এক ব্যবসায়ী বলেন, বাংলাদেশে আগে চোরাপথেও চাল যেত। তাতে তাদের জোগান ঠিক থাকত। দু’বছর এদেশ থেকে সরকারিভাবে চাল পাঠানো বন্ধ ছিল। কিন্তু ঘুরপথে তা চালু ছিল। কিন্তু এখন সেটাও হচ্ছে না। জোগানে টান পড়বেই। ওয়েস্টবেঙ্গল রাইসমিল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে আব্দুল মালেক বলেন, আগে কিছুটা চাল গিয়েছে। এখন তা অনেকে পাঠাতে চাইছেন না। 
রাইসমিল মালিক বিকাশ গুহ বলেন, সেদেশে সব ধরনের চাল যেত। চালের জন্য সব সময়ই বাংলাদেশকে এপারের উপর ভরসা করতে হয়েছে। অন্য দেশ থেকে চাল নিয়ে এলে দাম অনেক বেড়ে যাবে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী বারবার তা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করে চলছেন। কিন্তু চাল পাঠানোর পর টাকা না পাওয়া গেলে আর কিছু করার থাকবে না। তাছাড়া বাংলাদেশ এখন ভারতবিরোধী মন্তব্য করছে। সেটা ব্যবসায়ীরা মানতে পারছেন না। ওপারে চাল না গেলে এরাজ্যের ব্যবসায়ীদের তেমন ক্ষতি হবে না। কিন্তু বাংলাদেশ সমস্যায় পড়ে যাবে। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সুগন্ধি চাল পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। সেইসময় সুগন্ধি ধান ব্যবসায়ী এবং চাষিরা সমস্যায় পড়েন। কিন্তু বাংলাদেশে চাল না গেলে তাদের সমস্যা হবে না। কারণ সুগন্ধি চাল মূলত আরবের দেশগুলিতে যায়। সেই দেশগুলিতে চাল পাঠাতে কোনও অসুবিধা নেই বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ