সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতালে নির্দিষ্ট একটি সংস্থার তৈরি রিঙ্গার ল্যাকটেট-সহ মোট ১৪ ধরনের ওষুধ ও স্যালাইনের ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তর। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনার পরে তড়িঘড়ি শুক্রবার এই নির্দেশিকা এসে পৌঁছেছে বীরভূম ও রামপুরহাট স্বাস্থ্যজেলার কর্তাদের কাছে। এতে ব্লক হাসপাতালগুলিতে রোগীর সংখ্যা কম হওয়ায় খুব একটা সমস্যা দেখা না দিলেও রামপুরহাট মেডিক্যালে পরিষেবা নিতে আসা রোগীদের সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে। অধিকাংশ ওষুধ তাঁদের বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে, যা দুঃস্থ রোগীর পরিজনদের কাছে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রামপুরহাট স্বাস্থ্যজেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শোভন দে বলেন, ব্লক হাসপাতালগুলি ছোট, রোগীও কম। সেইসঙ্গে ওইসব ওষুধের ব্যবহারও কম। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সমস্যা হলেও হতে পারে। অন্যদিকে ওই সংস্থার ওষুধ বন্ধ হওয়ায় সমস্যা যে তীব্র হয়েছে, তা স্বীকার করে মেডিক্যালের এমএসভিপি পলাশ দাস বলেন, রোগীদের বেসিক ওষুধগুলি আমরা দিচ্ছি। কিন্তু যেটা ওই সংস্থার ওষুধ এতদিন দিতাম, সেগুলির বিকল্প ওষুধ বাইরে থেকে কেনার জন্য রোগীদের বলছি।
Advertisement
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এক প্রসূতি মৃত্যুর পরেই শোরগোল পড়ে যায় রাজ্যজুড়ে। প্রসূতিদের শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্যে ‘রিঙ্গার ল্যাকটেট’ (স্যালাইন) দায়ী, এমন তথ্যই উঠে আসে। এরপরই স্বাস্থ্যভবন থেকে ওই সংস্থার রিঙ্গার ল্যাকটেট-সহ মোট ১৪ ধরনের ওষুধ ব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য রাজ্যের সমস্ত মেডিক্যালের পাশাপাশি হাসপাতালগুলির কাছে নির্দেশ দেয়। সেই মতো সর্বত্র রোগীদের ওই সংস্থার ওষুধ দেওয়া বন্ধ রয়েছে। যেহেতু অন্য হাসপাতালগুলির তুলনায় রোগীদের সংখ্যা বেশি মেডিক্যাল কলেজগুলিতে, তাই রামপুরহাট মেডিক্যালে বিনামূল্যে ওষুধ না পেয়ে সমস্যায় পড়েছেন রোগীর পরিজনরা।
এদিন মেডিক্যালে ভর্তি থাকা এক রোগীর আত্মীয় আরিফ শেখ বলেন, চিকিৎসক বেশ কিছু ওষুধ লিখে দিয়েছেন। সেগুলি বাইরে থেকে কিনতে হবে। ওষুধের দাম শুনলাম হাজার দেড়েক টাকা। আমি দিনমজুর খাটি। এত টাকার ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়ার আশায় রোগী ভর্তি করেছিলাম। এখন কী যে করি, ভেবে পাচ্ছি না। আরেক প্রসূতির আত্মীয় রহিমা বিবি বলেন, আমাকেও ওষুধ বাইরে থেকে কেনার জন্য বলেছে। কিন্তু কেনার মতো টাকা নেই।
মেডিক্যাল সূত্রে জানা গিয়েছে, রিঙ্গার ল্যাকটেট ব্লাড ভলিউম বাড়ানোর জন্য রোগীদের দেওয়া হয়। সবসময় স্যালাইন দেওয়া যায় না। কারণ, তাতে সোডিয়াম ক্লোরাইড রয়েছে। ফলে প্রেসার বেড়ে যায়। সেজন্য রিঙ্গার ল্যাকটেট বা সলিউশন ব্যবহার করা হয়। এতদিন ওই সংস্থা এমনই নানা ওষুধ সরবরাহ করে এসেছে। মেডিক্যালের এক আধিকারিক বলেন, স্বাস্থ্যভবন ওই ওষুধগুলি নিষিদ্ধ করায় বাধ্য হয়ে রোগীর আত্মীয়দের বাইরে থেকে অন্য কোম্পানির ওষুধ কিনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, অন্য সংস্থাকে ওষুধের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁদের কাছে গোটা রাজ্যের জন্য বিপুল স্টক রয়েছে কি না, জানি না। যদিও ওই সংস্থা এই সপ্তাহের মধ্যে ডেলিভারি দেবে বলেছে। এতদিন তো চাহিদা থাকবেই।
মেডিক্যালের এক কর্তা বলেন, ওই সংস্থা কম দামে দেওয়ায় তাদের ওষুধ বাইরেও চলে। ওষুধের দোকানেও বিক্রি হয়। যদিও সরকার সেই ওষুধ বিক্রি না করার জন্য বলেছে।
রামপুরহাট নার্সিংহোম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তথা হাসন কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক চিকিৎসক অশোক চট্টোপাধ্যায় বলেন, ওই সংস্থা সম্পর্কে আমাদের জানা আছে। ওই কোম্পানির ওষুধে ভরসা করা যায় না। তাই ব্যবহার করি না।
এদিন মেডিক্যালে ভর্তি থাকা এক রোগীর আত্মীয় আরিফ শেখ বলেন, চিকিৎসক বেশ কিছু ওষুধ লিখে দিয়েছেন। সেগুলি বাইরে থেকে কিনতে হবে। ওষুধের দাম শুনলাম হাজার দেড়েক টাকা। আমি দিনমজুর খাটি। এত টাকার ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়ার আশায় রোগী ভর্তি করেছিলাম। এখন কী যে করি, ভেবে পাচ্ছি না। আরেক প্রসূতির আত্মীয় রহিমা বিবি বলেন, আমাকেও ওষুধ বাইরে থেকে কেনার জন্য বলেছে। কিন্তু কেনার মতো টাকা নেই।
মেডিক্যাল সূত্রে জানা গিয়েছে, রিঙ্গার ল্যাকটেট ব্লাড ভলিউম বাড়ানোর জন্য রোগীদের দেওয়া হয়। সবসময় স্যালাইন দেওয়া যায় না। কারণ, তাতে সোডিয়াম ক্লোরাইড রয়েছে। ফলে প্রেসার বেড়ে যায়। সেজন্য রিঙ্গার ল্যাকটেট বা সলিউশন ব্যবহার করা হয়। এতদিন ওই সংস্থা এমনই নানা ওষুধ সরবরাহ করে এসেছে। মেডিক্যালের এক আধিকারিক বলেন, স্বাস্থ্যভবন ওই ওষুধগুলি নিষিদ্ধ করায় বাধ্য হয়ে রোগীর আত্মীয়দের বাইরে থেকে অন্য কোম্পানির ওষুধ কিনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, অন্য সংস্থাকে ওষুধের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁদের কাছে গোটা রাজ্যের জন্য বিপুল স্টক রয়েছে কি না, জানি না। যদিও ওই সংস্থা এই সপ্তাহের মধ্যে ডেলিভারি দেবে বলেছে। এতদিন তো চাহিদা থাকবেই।
মেডিক্যালের এক কর্তা বলেন, ওই সংস্থা কম দামে দেওয়ায় তাদের ওষুধ বাইরেও চলে। ওষুধের দোকানেও বিক্রি হয়। যদিও সরকার সেই ওষুধ বিক্রি না করার জন্য বলেছে।
রামপুরহাট নার্সিংহোম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তথা হাসন কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক চিকিৎসক অশোক চট্টোপাধ্যায় বলেন, ওই সংস্থা সম্পর্কে আমাদের জানা আছে। ওই কোম্পানির ওষুধে ভরসা করা যায় না। তাই ব্যবহার করি না।



