নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বসন্তের শুরুতেই ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ধাক্কায় বেসামাল সাঁকরাইল ব্লক। মঙ্গলবার সন্ধে থেকে ঝাড়গ্রাম জেলার দক্ষিণ অংশে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়। একাধিক জায়গায় বৃষ্টিপাত হয়। সাঁকরাইল ব্লকের রোহিনী, আঁধারিয়া, রগড়া গ্ৰাম পঞ্চায়েত সহ একাধিক এলাকায় শিলাবৃষ্টিতে সর্ষে ও সব্জি চাষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। মাঠের ফসল নষ্ট হওয়ায় চাষিরা বিপদে পড়েছেন।
Advertisement
জেলার উপ কৃষি অধিকর্তা অজয় শর্মা বলেন, হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে সাঁকরাইল ব্লকের একাধিক জায়গায় সর্ষে ও সব্জি চাষের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঝাড়গ্রাম জেলার সমতল উর্বর ভূমি সাঁকরাইল। সারাবছর ধরে জমিতে নানা ধরনের ধানের পাশাপাশি শাকসব্জি উৎপাদিত হয়। জেলার চাহিদা মিটিয়ে সব্জির বড় অংশ অন্য জেলাগুলোতে যায়। গত বছর দুর্গাপুজোর সময়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। স্থানীয় চাষিরা সেই ক্ষতির ধাক্কা এখনও সামলে উঠতে পারেননি। কৃষক বিমার ক্ষতিপূরণের টাকা চাষিদের অনেকেই পাননি। ভূমিহীন চাষিরা আর্থিক ভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা ঋণ নিয়ে এই বছর জমিতে সব্জি ও সর্ষে লাগিয়েছিলেন। সব্জি তোলার সময়ও হয়ে গিয়েছিল। সর্ষে পেকে গিয়েছিল। হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে সব তছনছ হয়ে গিয়েছে। হাতির হানায় মাঝেমধ্যেই ফসলের ক্ষতি হয়। বনবিভাগের তরফে তার ক্ষতিপূরণ পেতে বছর পেরিয়ে যায়। ক্ষতিপূরণও যা মেলে, তাতে খরচ ওঠে না। তারমধ্যেই এবার শিলাবৃষ্টি নতুন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা দিয়ে গেল।
দক্ষিণ দাঁড়িয়া এলাকার চাষি গৌতম দাস বলেন, কয়েক বিঘা জমিতে সর্ষে লাগিয়েছিলাম। গতকাল সন্ধেয় ভারী মাত্রার শিলাবৃষ্টিতে জমিতে লাগানো সর্ষের সবটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। গত বছর দুর্গাপুজোর সময়ে ফসলের ক্ষতি হয়েছিল। এবার ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলাম। ক্ষতির ধাক্কা কী করে কাটিয়ে উঠব জানি না। ভগবানচক এলাকার বাসিন্দা অশোক দত্ত বলেন, এমন শিলাবৃষ্টি আগে কখনও দেখিনি। মাঠের পর মাঠ সাদা হয়ে গিয়েছিল। এলাকার বেশিরভাগ জমির সর্ষে, সব্জি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। চাষবাস করেই আমাদের সংসার চলে। বার বার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছি। প্রশাসন দ্রুত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করলে ভালো হয়। আঁধারিয়া এলাকার চাষি স্বপন জানা বলেন, এই এলাকায় শিলাবৃষ্টিতে বেশিরভাগ সব্জি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ক্ষতিপূরণে খরচের সব টাকা উঠে আসবে না। সাঁকরাইল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ঝনু বেরা বলেন, শিলাবৃষ্টিতে এই ব্লকের বেশিরভাগ জমির সব্জি ও সর্ষে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। চাষিরা দিশাহীন হয়ে পড়েছে। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন। চাষিরা যাতে দ্রুত ক্ষতিপূরণ পান তার ব্যবস্থা করা হবে। রোহিনী গ্ৰাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান প্রবীর মাহাত বলেন, আমি নিজেই দু’ বিঘা জমিতে সর্ষে ও ডাল চাষ করেছিলাম। সর্ষে ঘরে তোলার সময় হয়ে গিয়েছিল। সবটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তবে এলাকার বেশিরভাগ চাষি কৃষক বিমার আওতায় আছেন। দেরি হলেও সবাই ক্ষতিপূরণ পাবেন। -নিজস্ব চিত্র
দক্ষিণ দাঁড়িয়া এলাকার চাষি গৌতম দাস বলেন, কয়েক বিঘা জমিতে সর্ষে লাগিয়েছিলাম। গতকাল সন্ধেয় ভারী মাত্রার শিলাবৃষ্টিতে জমিতে লাগানো সর্ষের সবটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। গত বছর দুর্গাপুজোর সময়ে ফসলের ক্ষতি হয়েছিল। এবার ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলাম। ক্ষতির ধাক্কা কী করে কাটিয়ে উঠব জানি না। ভগবানচক এলাকার বাসিন্দা অশোক দত্ত বলেন, এমন শিলাবৃষ্টি আগে কখনও দেখিনি। মাঠের পর মাঠ সাদা হয়ে গিয়েছিল। এলাকার বেশিরভাগ জমির সর্ষে, সব্জি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। চাষবাস করেই আমাদের সংসার চলে। বার বার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছি। প্রশাসন দ্রুত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করলে ভালো হয়। আঁধারিয়া এলাকার চাষি স্বপন জানা বলেন, এই এলাকায় শিলাবৃষ্টিতে বেশিরভাগ সব্জি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ক্ষতিপূরণে খরচের সব টাকা উঠে আসবে না। সাঁকরাইল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ঝনু বেরা বলেন, শিলাবৃষ্টিতে এই ব্লকের বেশিরভাগ জমির সব্জি ও সর্ষে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। চাষিরা দিশাহীন হয়ে পড়েছে। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন। চাষিরা যাতে দ্রুত ক্ষতিপূরণ পান তার ব্যবস্থা করা হবে। রোহিনী গ্ৰাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান প্রবীর মাহাত বলেন, আমি নিজেই দু’ বিঘা জমিতে সর্ষে ও ডাল চাষ করেছিলাম। সর্ষে ঘরে তোলার সময় হয়ে গিয়েছিল। সবটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তবে এলাকার বেশিরভাগ চাষি কৃষক বিমার আওতায় আছেন। দেরি হলেও সবাই ক্ষতিপূরণ পাবেন। -নিজস্ব চিত্র



