সংবাদদাতা, ইটাহার: অশ্লীল ছবি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর আত্মসম্মান রক্ষা করতে কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা নাবালিকার। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে প্রতিবেশী যুবক রুহুল আমিন। শুক্রবার এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ইটাহারের কাপাশিয়া অঞ্চলে।
পুলিস ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নাবালিকা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। দেড় বছর আগে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয় রুহুলের। প্রেমের ফাঁদে ফেলে নাবালিকাকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে সে। অভিযোগ, সেই সময় লুকিয়ে নাবালিকার গোপন মূহূর্তের ছবি মোবাইলে তুলে রাখে যুবক। সেই ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিত সে। এরপর নাবালিকা বিষয়টি তার পরিজনদের জানায়। সালিশিতে যুবক প্রতিশ্রুতি দেয় নাবালিকার সঙ্গে সে আর কোনও সম্পর্ক রাখবে না এবং ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়াবে না। কিন্তু কিছুদিন পরে আবার ওই যুবক গোপন ছবি ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে নাবালিকাকে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু নাবালিকা তাতে রাজি হয়নি। এরপর বেপরোয়া যুবক নাবালিকার গোপন মুহূর্তের ছবি ছড়িয়ে দেয় সমাজমাধ্যমে। বিষয়টি জানতে পেরে নাবালিকা কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে সে রায়গঞ্জ মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন থাকার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিল। তারপর নাবালিকার বাবা ইটাহার থানায় ওই যুবক, তার বাবা ও মায়ের বিরুদ্ধে ২ ফেব্রুয়ারি থানায় লিখিত অভিযোগ জানান। তখনই গা ঢাকা দেয় যুবক। তবে পুলিস রুহুলকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার রায়গঞ্জ জেলা আদালতে পেশ করে। তার ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। নাবালিকার বাবার মন্তব্য, আমার মেয়ের জীবন নষ্ট করেছে ওই যুবক। তার কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।