Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ওড়িশা সীমানায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে গাড়ি চেক করলেন স্বংয় মন্ত্রী

ওড়িশা সীমানায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে গাড়ি চেক করলেন স্বংয় মন্ত্রী
  • ৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান এবং সংবাদদাতা বেলদা: রাজ্য সরকারের কড়াকড়ি সত্ত্বেও একশ্রেণির ব্যবসায়ী ভিনরাজ্যে আলু পাঠাচ্ছে। আলু পাচারের খবর পেয়ে দাঁতন থানার চেকপোস্টে পৌঁছে যান  কৃষি বিপণন দপ্তরের মন্ত্রী বেচারাম মান্না। তিনি রাতেও সেখানে থাকেন। চেকপোস্টে গিয়ে তিনি নিজে রাস্তায় দাঁড়িয়ে গাড়ি চেক করেন। তিনি বলেন, কেউ কেউ বিভিন্ন কৌশলে আলু পাচারের চেষ্টা করছে। কিন্তু আমাদের সরকার তা আটকাতে বদ্ধ পরিকর। তারজন্য যা যা পদক্ষেপ করার তা সরকার করবে।
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, যেসব সীমানা দিয়ে ব্যবসায়ীরা ভিনরাজ্যে আলু পাঠাচ্ছে সেই রুটগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে। বেলদা সীমানা দিয়ে ওড়িশা যাওয়ার মূল রাস্তা বন্ধ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা খড়্গপুর থেকে অন্য রাস্তা ধরে ওড়িশায় আলু নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া জামশোলা, চিচিড়া সীমানা দিয়ে ভিনরাজ্যে ট্রাক ভর্তি আলু যচ্ছে। আসানসোলের চিরকুণ্ডা হয়েও ট্রাক ঝাড়খণ্ড যাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, প্রতিদিন ১৮হাজার মেট্রিক টন আলু দরকার হয়। নতুন আলু পেতে ১৫ দিন দেরি হবে। ডিসেম্বরে ২৫ তারিখের মধ্যে অন্যান্য বছর আলু পাওয়া যেত। এবার তা জানুয়ারির ১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে পাব। এই কয়েকটা দিন আমাদের পুরনো আলুর উপর ভরসা করতে হবে। সেক্ষেত্রে হিমঘরের আলু বাইরে চলে গেলে রাজ্যের বাসিন্দারা সমস্যায় পড়বেন। আমাদের চাহিদা মিটিয়েও যদি আলু থাকে তাহলে তা বাইরে পাঠানো যাবে। যাঁদের কাছে প্রচুর পরিমাণ আলু মজুত রয়েছে তাঁদের চিহ্নিত করেছি। তাঁরা বাইরে আলু পাঠানোর চেষ্টা করলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।  
এদিকে, চাপে পড়ে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিল আলু ব্যবসায়ীরা। বুধবার রাত থেকে ফের হিমঘরগুলি থেকে আলু লোড হবে। মঙ্গলবার আলু ব্যবসায়ীরা বর্ধমান জেলায় বৈঠকে বসেন। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষে জগবন্ধু মণ্ডল বলেন, সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলা আমাদেরও উদ্দেশ্য নয়। তবে কিছু আলুর এরাজ্যের চাহিদা থাকে না। সেগুলি বাইরে পাঠাতে হয়। মন্ত্রী আমাদের বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
কৃষি বিপণন দপ্তর জানিয়েছে, বাইরের রাজ্যে আলু গেলে বাংলার আমজনতা বিপাকে পড়ে যাবে। এরাজ্যের চাহিদা না মিটিয়ে বাইরে আলু পাঠানো যাবে না। কৃষি বিপণন দপ্তরের মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ুক এটা আমাদের সরকার কখনই চায় না। ওদের আগেই ধর্মঘট প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছিল। দেরিতে হলেও ওদের বোধোদয় হয়েছে। সাধারণ মাঝারি ও ছোট ব্যবসায়ীরা এই ধর্মঘট মানতে পারেনি। একশ্রেণির বড় ব্যবসায়ী নিজের স্বার্থর কথা ভেবে ধর্মঘট ডেকেছিল। তাদেরই বিপুল পরিমাণ আলু এখনও হিমঘরে মজুত রয়েছে। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তারা মানুষকে সমস্যায় ফেলে মোটা টাকা মুনাফা করতে চাইছে।
সম্পর্কিত সংবাদ