নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ওড়িশা সীমানা দিয়ে ক্যুরিয়ারে ব্রাউন সুগার ঝাড়গ্রাম ঢুকছে। হালক হলুদ রঙের প্যাকেট বন্দি হয়ে গোপীবল্লভপুর চিচিড়া হয়ে ঝাড়গ্রাম শহরে পৌঁছে যাচ্ছে। মাদক ডিলারদের হাত ঘুরে ক্যুরিয়ার যাচ্ছে কলকাতায়। পাচার হচ্ছে নিষিদ্ধ সিরাপ, গাঁজাও। গোপীবল্লভপুর থানা এলাকায় পুলিসের হাতে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে তিনজনকে। নিষিদ্ধ মাদক পাচারের খবর এরপরেই সামনে এসেছে। পুলিসের তরফে চলছে কড়া নজরদারি। ঝাড়গ্রাম শহর মাদক পাচারকারীদের ঘাঁটি হয়ে উঠেছে। পুলিসের নজর এড়াতে ক্যুরিয়ার প্যাকেটে রাখা ব্রাউন সুগার গ্ৰাহকদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। নিষিদ্ধ সিরাপের শিশির দাম কিছুদিন আগে দু’শো টাকা ছিল। বর্তমানে সেই সিরাপ দু' হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রাউন সুগারের প্যাকেটের দাম ছয় হাজার টাকা। শহরের ভিতর অভিনব কৌশলে বেআইনি এই কারবার চলছে। যুবকদের একটা অংশ নিষিদ্ধ মাদক সেবনে আসক্ত হয়ে পড়ছে। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মাদকে আসক্ত যুবকদের ক্যুরিয়ার ম্যান করা হচ্ছে। জেলার সীমানা এলাকায় পুলিসের চেকিং পোস্ট বসানো হয়েছে। সীমানার অলিগলি ছোট রাস্তাগুলোতে নজরদারি চলছে। নজরদারি বাড়ায় মাদক পাচারকারীরা এই অভিনব কৌশল আবিষ্কার করেছে। গ্ৰাহকদের হাতেও সহজে পৌঁছে যাচ্ছে মাদক। গোপীবল্লভপুরের এসডিপিও পারভেজ সরফরাজ এদিন বলেন, মাসখানেক আগে গোপীবল্লভপুর থানায় নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মাদক পাচারের অভিযোগে তিনজনকে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে। মাদক চোরাচালান বন্ধ করতে পুলিস লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে। অভিযানে মাদক চোরাচালান কতটা বন্ধ হয়েছে তা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন উঠছে। মাদকদ্রব্য নতুন নতুন কৌশলে পাচার করা হচ্ছে। গ্ৰাহকদের কাছে যা খুব সহজে পৌঁছে যাচ্ছে। ঝাড়গ্রাম শহরের এক বাসিন্দা বলেন, শহরের যুবকের একটা অংশ কাশির সিরাপ, গাঁজা ও ব্রাউন সুগারের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। মাদক ডিলাররা প্রকাশ্য রাস্তায় ক্যুরিয়ার প্যাকেট তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে। ক্যুরিয়ার প্যাকেট দেখে কারও সন্দেহ হচ্ছে না। বাড়িতে প্যাকেট নিয়ে গেলে পরিবারের সদস্যরাও বুঝতে পারবে না।



